" থাক বাবা আর কি করবি, আরেকটু সহ্য কর "


Published: 2019-05-11 20:39:53 BdST, Updated: 2019-07-21 02:46:01 BdST

বি.ডি. রায়হানঃ আম্মাকে যতবার বলি, আম্মা রাজশাহীতে আর থাকবো না। দম বন্ধ হয়ে আসছে, টিকতে পারছি না, আম্মা একটা কথাই বলে, " থাক বাবা আর কি করবি, আরেকটু সহ্য কর " এই কথাটা প্রচন্ড মানসিক প্রশান্তি দেয় প্রচন্ড, তাই প্রতিদিন একটা কথা শোনার জন্যে হলেও ফোন দেই আম্মাকে। আম্মাজান ও বিরক্ত হয় না, একই কথা বলতেই থাকে। দুনিয়ার সব নারী আপনার প্রতি বিরক্ত হলেও আম্মা কখনো বিরক্ত হয় না।

বরং মোটিভেশন দেয়, ওয়ার্ল্ডস বেস্ট মোটিভেশন স্পিকার ক্রেডিট গোজ টু মাই মম...

কোথাও এক জায়গায় চলে গেছিলাম দম বন্ধ পরিবেশ থেকে দূরে অনেক দূরে, একটু দম ছাড়তে, একটু চোখকে জুড়াতে, একটু মনকে স্বস্তি দিতে, হয়তো একটু ভালবাসা পেতে।


আমাদের মত ভালবাসা পেতে বুভুক্ষু হয়ে দিগ্বিদিক ছোটা মানুষের এই পৃথিবীতে জন্ম হয়েছে পৃথিবীকে ঘুরে ঘুরে দেখার জন্যে, মানুষের সাথে মিশার জন্যে, পৃথিবী থেকে ভালবাসা আহরণ করার জন্যে। প্রতিযোগিতা, কাজের চাপ, অহংকার, খ্যাতি আর সম্পদকে প্রাধান্য না দিয়ে এমন কিছু করা, যাতে কাজ করেও আনন্দ পাওয়া যায়, ভালবেসেও তৃপ্তি পাওয়া যায়, হারিয়ে যেয়েও বেঁচে থাকা যায়।

আমি হারিয়ে গেলাম নতুন ভালবাসার খোঁজে, কিন্তু যারা আমাকে ভালবাসে তারা আমার অজান্তে কষ্ট পেয়ে গেলো, কেউ কেউ ঠিকমত আর কথাও বললো না, কাজটা ঠিক হলো নাকি ভুল হলো জানি না, আমি কিন্তু সব্বাইকে ভালবাসি, রাগ, ক্ষোভ, অভিমানীদের ও ভালবাসি।

সবাই রাগ করতে পারে, আম্মা কিন্তু রাগ করে না, আম্মাজান কাঁদোকাঁদো হয়ে সন্তানের জন্যে ভালবাসা বিলাইয়া যায়...

মেসেঞ্জার খুললে অনবরত মেসেজ আসতেই থাকে, একটা আপু বললো, চিল চিল করে চিল্লানো ছেলেটা হঠাৎ কেমন চুপচাপ হয়ে গেছে, বিডি রায়হানকে চিল করাতেই মানায়, নিজের রুপে ফিরে আসিয়েন। কিন্তু আমি তো আমার রুপেই আছি শুধু গোফ আর চুল গুলো বড় হইছে আর আমি কালো হইসি।

আরেক বন্ধু বললো, বিডি রায়হানকে মন খারাপে মানায় না। না বন্ধু আমার মন খারাপ না, আমার মন অসুস্থ।ক্যাম্পাসের বন্ধুরা বলে, তুই বিডি রায়হান, এটা ভুলে যাচ্ছিস কেনো?
আসলেই আমি তো বিডি রায়হান, আমি এটা কেনো ভুলে যাই? পড়া ভুলে গেলে এক্সামে ফেইল, কিন্তু কেউ নিজের নাম ভুলে গেলে তার কি শাস্তি হওয়া উচিত, অদবোত!

আজকে ক্লাসমেট কইলো, আগে নাকি আমাকে নিয়ে প্রাউড ফিল করতো, এখন আর করে না। কি আজব!

অসুস্থ আছি, মরে যাই নাই তো? মরে গেছি? মরি নাই। বেঁচে আছি, যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন আমাকে নিয়ে বেশি বেশি প্রাউড ফিল করা উচিত।
উগ্র, উচ্ছৃঙ্খল, অযাচিত যাযাবর হতে পারি কিন্তু মোটেই খারাপ ছেলে না।


আরেহ, যেই ছেলে হারায়া গেলে তার এক্সরাও টেনশনে পরে যায়, খারাপ লাগা শুরু করে, নক দিয়ে খোঁজ নেওয়া শুরু করে, সেই ছেলে আর যাইহোক খারাপ ছেলে না। সো ইউ শুড প্রাউড অফ মি ডিয়ারস...

সিনিয়র আপু বলছে, আমাকে এখন দেখতে কৃষকের মত লাগে, আপু আপনি কি জানেন না, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ, চাষাভুষারা আছে বলেই আমরা বেঁচে আছি।
এভাবে একদমেই বলা উচিত না।

সবচেয়ে বেশি যেই কথাটা শুনি, তোর দ্বারা অন্তত এসব আশা করি না!
কি আশা করে আমার কাছে, আমি তো বিরিয়ানী না সবাইকে খুশি করতে পারবো। আমিও তো মানুষ, আমার ও তো ইচ্ছা, অনিচ্ছা, আশা আকাঙ্ক্ষা, ভালবাসা আছে। কে শুনে সেগুলা? কেউ শুনে? কারো সময় আছে শুনার? বলার সময় সবাই বলতে পারে, কেউ শুনতে চায় না, কেউ বুঝতে চায় না, কেউ গুরুত্ব দিয়ে অবলোকন করে না। মাঝে মাঝে চিৎকার কইরা উঠতে ইচ্ছা করে, আমার সহ্য হয় না, নিতে পারি না, টিকতে পারি না, অনেক কিছুই স্বাভাবিক রাখতে পারি না। তা বুঝো? দোষ তো দিয়েই গেলা, বুঝো? বুঝার সাধ্য হয়...

বর্তমান পৃথিবী স্বার্থপরতায় টইটুম্বুর, এই দুনিয়ার আকাশে ভালবাসা মেঘ হয়ে ভেসে বেড়ায় না, বৃষ্টি হয়ে আবেগ ঝড়ে পরে না। যে যত কঠিন হয়ে বজ্রপাতের মত গর্জন করতে পারে সেই তত সাকসেসফুল, সেই তত এগিয়ে যায়। যে ভালবেসে আটকে থাকবে সেই পিছিয়ে পরে, তাকে কেউ চাইবে না, কেউ জেগে তুলতে হাত বাড়াবে না। সবাই সাফল্যকে ভালবাসে, সাফল্যকে চায়, আকাঙ্ক্ষা করে, কিন্তু কেউ সাফল্য হতে কাউকে সাপোর্ট দিয়ে পাশে থাকে না।

যে যার আপন গতিতে চলতে থাকবে, কেউ কারো জন্যে নয়।

যদি ব্রেইন আর হার্ট সবসময় একই কাজে একই মত দিতো তবে কি হতো?

তবে, আমরা যে কোন কাজেই এক নিমিষেই চট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারতাম। জীবনের যে কোন সমস্যা খুব দ্রুত সমাধান করে ফেলতে পারতাম। নিজের সমস্যা যেমন সমাধান হতো তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হতো অন্যের। ব্রেইন সর্বদা নিজেকে জিতানোর অসুস্থ মানসিকতায় থাকে, কিন্তু হার্ট? সে ভাবে, সে অন্যকে কল্পনা করে, মানবিকতা জাগায়। অন্যকে জিতিয়ে দিয়ে নিজের মাঝে একটা স্বর্গীয় সুখের তৃপ্তি নেয়।

সৃষ্টিকর্তা ঠিক এই কারণেই বোধ হয় ব্রেইন আর হার্টকে কখনো এক মতবাদে হতে দেওয়ার সেটিংস মানুষের মাঝে ইন্সটল দেই নি। যাতে মানুষের জীবন, পরিবেশ, সমাজের মাঝে একটা প্রতিযোগিতা ও আন্তরিকতার মাঝে ভারসাম্য বজায় থাকে।

কিন্তু যার ব্রেইন কাজ করে না শুধু হার্ট ই কাজ করে তার কি হবে? তার পস্তাতে হবে, হার্টের চাইতে মানুষ ব্রেইনের কথা বেশি শুনে, সেখানে যদি একজন শুধু হার্টের কথাই শুনে যায় তবে তার শরীর বেঁচে থাকলেও আত্মার মৃত্যু হয়ে যাবে, কোন রেহাই নাই। অন্যকে স্বস্তিতে রেখে নিজের অপমৃত্যু দায় নিয়ে বেড়াবে তবুও হার্টের কথাই শুনবে।

তবে, সৃষ্টিকর্তা বোধহয় তাদেরকেই বেশি ভালবাসেন যারা অধিক হ্নদয়ের কথা শুনে, তাদের ধৈর্য্যশক্তি ও বেশি হয়, ধৈর্য্যের গুণেই তারা বেঁচে থাকে।

জীবন সবসময় সুন্দর, কখনো এক মুঠো সুখের সাথে কখনো একরাশ দুঃখের সাথে। দুঃখের পরেই সুখ আসে, ধৈর্য্যেই সুখ আসে। আম্মা থেকে ধৈর্য্য ধরা শিখেছি, মাঝে মাঝে জীবনকে কন্ট্রোল করা মুশকিল হয়ে যায়, যেহেতু কন্ট্রোল করতে পারছি না, তাই চাইলেই হ্নদয়কে হাসাতে পারি না। আত্মবিশ্বাস থাকা ভাল, অতিরিক্ত আতবিশ্বাস মানুষকে চরমভাবে ঠকায়, জীবন বিষণ্ণ করে দেয়, আত্মবিশ্বাসের উপরেই বিশ্বাস উঠে গেলে আর কিছু করার থাকে না, শুধুই ধৈর্য্য।

এভাবে আর কতদিন যাবে? এই প্রশ্নটা প্রায়শই শুনি, এভাবেই হয়তো ভাল আছি, ভাল না থাকলে ভাল লাগিয়ে নিতে হয় মাঝে মাঝে। প্রায়শই ভাবি, এভাবে বলতে ঠিক কি? এভাবে টা কি খুব বিশ্রী, খুব অসহ্যকর, খুব বেসামাল?

এভাবে টা এভাবেই চলে আসতে পারে না, এভাবে তাহলে এভাবেই সামাল দিতো নিজেকে।
সুদিন আসবে, চিল চিল করে চিল্লাবো অনেক চিল্লাবো, অন্ধকারে আলো আসবে, প্রশান্তচিত্ত মন জাগবে, মন সুস্থ হবে, হ্নদয় একদিন হাসবে, ঠিক যবে তুমি আসবে, যদি কোনদিন যদি কোনদিন.....

ঢাকা, ১০ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।