কার্ডিওলজিকে যেকারণে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিলেন ঢামেক ছাত্রী


Published: 2019-04-14 11:16:42 BdST, Updated: 2019-09-17 21:16:25 BdST

সামিয়া তাসনিম : বাংলাদেশে নারী কার্ডিওলজিস্টের সংখ্যা খুবই কম। পুরো বিশ্বের দিকে তাকালেও খুব বেশি নারীকে এই ডিসিপ্লিনে পাওয়া যায়না। যদিও পরিসংখ্যান আমার পক্ষে কথা বলেনা তবুও ক্যারিয়ার হিসেবে এই কার্ডিওলজিকেই বেছে নেয়া; মূলত এই পেশার সাথে জড়িয়ে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো নিতে চাইতাম বলেই। আমি যেই রোগীদের চিকিৎসা দেই তাদের প্রায় সবাই খুব খারাপ অবস্থায় আমার কাছে আসে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না দিলে তাদের অনেককেই হয়তো আর বাঁচানো সম্ভব হয়না। আরেকটা কথা না বললেই নয়, তা হলো আমার নিজের বাবাই সাডেন কার্ডিয়াক আরেস্টে মারা গেছেন। এই পেশায় আসার পেছনে এই ঘটনাটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কর্মক্ষেত্রে এখানে এখনো পুরুষদেরই প্রাধান্য, এজন্য নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে নিজের সেরাটা ঢেলে দিতে হয়। সত্য কথা বলতে, একজন নারী তাদের চাইতে ভালো করছে এটা অনেক সময়েই পুরুষ কলিগরা মেনে নিতে পারেনা। বৈষম্যটা বেশ ভালো করেই লক্ষ্য করা যায় এখানে। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তাই শুধু কোয়ালিফাইড হলেই হয়না, ক্ষেত্রবিশেষে ওভারকোয়ালিফাইড হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া একজন নারী চিকিৎসককে কর্মক্ষেত্রের সাথে পরিবারের মাঝে একটা সমতা রেখে চলতে হয়। আমি যখন রেসিডেন্সি শুরু করি, তখন আমার মেয়ের বয়স মাত্র এক বছর তিন মাস। এজন্য সময়টা ঠিকমতো ভাগ করে নিতে হয় যাতে তোমার ব্যস্ততার জন্য তোমার সন্তানের সাথে বরাদ্দ সময়টুকু হারিয়ে না যায়। মাঝে মধ্যে এমন অবস্থা দাঁড়ায় যে তোমার মেয়ের জ্বর এসেছে, এদিকে আগামীকাল হয়তো তোমার কোন পরীক্ষা পড়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র নারী চিকিৎসকরাই জানেন কতটা কষ্ট হয় এরকম পরিস্থিতি সামাল দিতে।

যদিও এই সমস্যাগুলো থাকবে সবসময়ই, কিন্তু এর বিনিময়ে যে প্রতিদানটা পাই তাতে আর কোন আফসোস থাকেনা। আমি সিসিইউতে যে পেশেন্টগুলা পাই তারা জীবন ও মৃত্যুর মাঝামাঝি থাকে। তাদের মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনা সহজ কাজ নয়। খুব অল্প সময়ের ভিতরেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্ত সুস্থ হওয়ার পর তারা যে কৃতজ্ঞতাবোধ দেখায়, তা অবিশ্বাস্য। আমাদের গল্পগুলোর একটি অন্ধকার দিকও আছে। কার্ডিওলজিস্টদের হয়তো সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখতে হয়। আমরা হয়তো মৃত্যুকে পরাজিত করতে পারিনা, কিন্তু রোগীদের জন্য কিছুটা সময় এনে দিতে পারি। তাই সবসময় আলাদা কিছু করার ও আলাদা কিছু হওয়ার চেষ্টা করো। প্রচলিত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসো ও এমন পথে পা বাড়াও যেখানে পূর্বে কম মানুষই যাওয়ার সাহস দেখিয়েছে। সমাজের কারণে নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দিয়ো না। আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে থাকো এবং দেখবে একদিন যারা তোমার দিকে অবিশ্বাসের চোখে তাকাতো তারাই প্রশংসার চোখে তাকাবে।

লেখক : সামিয়া তাসনিম
কার্ডিওলজিস্ট ও সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ


[কার্টেসি : হিউম্যানস অব ডিএমসি]

ঢাকা, ১৪ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।