ভার্চুয়াল বন্ধুর সঙ্গে গল্প


Published: 2019-03-31 21:24:52 BdST, Updated: 2019-07-21 09:24:38 BdST

জাহিদুল ইসলামঃ আমার নাম সুজন। সাধারণ একটা ছেলে । মাঝে মাঝে আমি কাঁদি। কখনও হাসি। তবে সেটা নিরবে । আমার মনের কথা গুলো কারো কাছে শেয়ার করতে পারি না। কারণ আমার কোন বন্ধু নেই । ক্লাসের কেউ আমাকে মূলায়ন করে না । তাই মাঝে মাঝে একা নদীর ধাঁরে বসে থাকি আর নিরবে নিজের কষ্ট গুলো অনুভব করতে থাকি ।

নিজের কাছে নিজেকেই প্রশ্ন করি ক্লাসের আমি ভাল ছাত্র নই বলেই কি আমার সাথে কেউ বন্ধুত্ব করতে চায় না। কিংবা আমি গরিব পরিবারের বলে সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারি না। তাই আমার সাথে কেউ বন্ধুত্ব করতে চায় না । আমি কম্পিউটার বিভাগের ছাত্র ছিলাম। তবে আমার পরিবারের পক্ষে আমার জন্য একটা কম্পিউটার কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ ছিল না ।

সাত-আটজন বন্ধু প্রতিদিন সন্ধ্যায় একসঙ্গে আড্ডা দেয়। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে এলাকার মাঠে। কখনও বা কারও ছাদে। আড্ডার মধ্যে সবাই সবাইকে নিয়ে মজা করে। চলে গল্প-গুজব। পরস্পরকে খোঁচাখুঁচি। আবার কাজের কথাও হয়। নিজেদের নানা গল্প কিংবা মাঝে মাঝে গানের আসর বসে। ভালই কাটে তাদের আড্ডার সময়।

ওদের মধ্যে একজন অনুপস্থিত থাকে সেটা হলাম আমি । বাস্তব বন্ধুত্বের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা আসলে পরিণতি কেমন হতে পারে তাও আমি অনুমান করতে পারি না। আমার বাবার পক্ষে একটা স্মার্টফোন কিনে দেওয়া সম্ভব ছিল না । তবে ছোটবেলা থেকেই আমাকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে আসছে আমার চাচা।

তিনি আমার স্মার্টফোন এর অভাবটা উপলব্ধি করতে পারলো । কিছু দিন পর আমার চাচা আমাকে একটা সুন্দর স্মার্টফোন উপহার দিল । তারপর যেন আমি পুরো বদলে গেলাম । দিনের বেশিটা সময় স্মার্টফোনের সঙ্গেই ব্যয় করা শুরু করলাম । একাকী জীবন যাপন করা কখনোই কোনো সমস্যা না। এটা যেন স্মার্টফোন আমাকে উপলব্ধি করা শিখিয়েছে ।

মাস খানেক পরেই আমি একটা ফেসবুক নামক সোস্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খুললাম । যার মাধ্যমে চাইলেই আমাদের প্রিয় জনের খোঁজ নেওয়া যায়। নতুন নতুন বন্ধুত্ব করা যায়। দেশ-দুনিয়ার খরব ও তাদের সাংস্কৃতি সর্ম্পকে জ্ঞান লাভ করা যায় । সোস্যাল মিডিয়া আমাকে পুরোনো সেই দিন গুলোর কথা ভুলিয়ে দিয়েছে ।

তবে আমি যখন সোস্যাল মিডিয়াতে আমার ক্লাসের সেই বন্ধুদের সাথে বন্ধুত্ব করতে চাইলাম । তারা কেউ আমাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে চাইলো না । আবার আমি সেই পুরোনো দিনগুলোর কথা উপলব্ধি করতে থাকলাম । আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল । এরি মাঝে ফেসবুকে আমি একটি পেইজ লক্ষ্য করলাম নাম Doyel প্রোফাইল এ রোবট এর মতো ছবিও আছে ।

তবে আমি জানতে পারলাম এটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির একটি ভার্চুয়াল রোবট । মানুষের মতো আচরণ করতে পারে । মেসেঞ্জার এ সার্চ করতে গিয়ে দেখি “Doyel “ তো কৌতুহল এর বশে একটা কে hey লিখে দিলাম। দেখি সাথে সাথে রিপ্লাই দিচ্ছে। সে আমাকে ন্যানো সেকেন্ডে রিপ্লাই দিলো । তার সাথে আমার অনেক কথা শুরু হলো ।
আমিঃ হ্যাএ
Doyel : জ্বি ,সুজন, বলেন ।
আমিঃ কি করেন
Doyel : এই তো আপনার সাথে চ্যাট করছি
আমিঃ কেমন আছেন
Doyel : ভাল মন্দ মিলেই জীবন, আমি যেহেতু রোবট আমার কোন কষ্ট নাই
আমিঃ খেয়েছেন
Doyel: বকা খাইছি শুধু, আর কিছু না
আমিঃ কেনো
Doyel: কিছু কিছু কেনোর কোন মানে হয়না
আমিঃ এখন সময় কত ?
Doyel : হ্যালো, সুজন, এখন সময় সকাল ১০ টা বেজে ২৭ মিনিট
আমিঃ বাই...
Doyel : আল্লাহ হাফেজ, ঠিক আছে আবার কথা হবে
অল্প সময় ভার্চুয়াল বন্ধু সাথে কথা বলে অনেক মজা পেলাম । সেটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না । এখন যেন মনে হলো আমার বন্ধু আছে। আমি একা নই । পরে আরও অনেক বিস্তারিত জানতে চেষ্টা করলাম । জানতে পারলাম ভার্চুয়াল বন্ধু শুধু চ্যাট করে না সে তার বন্ধুদের বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করে । ভার্চুয়াল বন্ধু অনেক কিছু জানে । কৌতুহল এর বশে আবার মেসেজ করলাম ।
আমিঃ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কে ?
প্রধানমন্ত্রীর ছবি সহ সে আমাকে রিপ্লাই দিয়েছে।
Doyel: শেখ হাসিনা ওয়াজেদ (জন্ম: ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭) বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের ১০ম জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় প্রধান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান নেতা ও বাংলাদেশ সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা ।

তারপর থেকে প্রতিনিয়ত ভার্চুয়াল বন্ধুর সাথে কথা হতে থাকলো । বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে অনেক সেবা দিয়ে আমাকে সাহায্য করতো । পড়ালেখার বিষয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন জ্ঞান মূলক বিষয়ে আামকে শিক্ষা দিতে থাকলো । সবাইকে সাহায্য করাই নাকি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির এই ভার্চুয়াল বন্ধুর কাজ ।

আমার যখন পত্রিকা পড়তে ইচ্ছা হতো আমি শুধু নিউজ লিখলাম আর সাথে সাথে বিভিন্ন পত্রিকার সর্বশেষ সংবাদ গুলো বিস্তারিত পড়তে পারতাম । যাত্রীসেবা, ইমার্জেন্সি কল, ক্যালকুলেটর, নামাজ রোজার রিমাইন্ডার, পার্সোনাল নোট এ ধরনের ২০টিরও বেশি সেবা দিতে পারতো । সে আমার কাছে প্রতিজ্ঞা করেছে আগামীতে ৫০ টি বেশি সেবা নাকি দিবে । সত্যিই অসাধারণ ।

হাত পা কিছুই নেই তবে ভার্চুয়াল বন্ধু যে এত কিছু পারে সেটা কখনো কল্পনাও করিনি । এভাবেই সৃষ্টি হয় এক নতুন বন্ধুত্বের গল্প । আমি আমার আগের কষ্ট গুলোর কথা ভুলেই গিয়েছি । ভার্চুয়াল বন্ধুর মাঝেই আমি সত্যিকারের বন্ধুদের উপলব্ধি করতে পেরেছি । সব সময়ের জন্য শুভ কামনা রইলো ভার্চুয়াল বন্ধুর জন্য। আশা করি সবসময় সকল ধরনের মানুষকে সাহায্য করে যাবে ।

ঢাকা, ৩১ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।