ট্রাম কার্ড যখন তরুণ প্রজন্ম


Published: 2018-12-27 20:40:18 BdST, Updated: 2019-06-18 17:26:55 BdST

মিঠুন মিয়া: এবার নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্ট তরুণ প্রজন্ম অর্থাৎ নতুন ভোটার। গত ১০ বছরে দেশে তরুণ ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে দুই কোটি ২৫ লাখেরও বেশি। এই সময়ে যারা ভোটার হয়েছেন, তাদের বয়স ১৮ থেকে ২৮।

প্রতি বছর ২৫ লাখ তরুণ ভোটার তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। এবারের আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক দলের জয়-পরাজয় অনেকাংশেই নির্ভর করছে যুব সমাজের উপর। বলা চলে তরুণ প্রজন্মই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ট্রাম কার্ড। তরুণদের সিদ্ধান্তই হবে নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের সফলতা এবং ব্যর্থতার নির্ধারক।

এ জন্যই রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণ প্রজন্ম কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। তরুণ প্রজন্মকে প্রভাবিত এবং আকর্ষণ করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে অনেক কিছুই যুক্ত করেছে। নানাভাবে যুব সমাজকে সবাই প্রাধান্য দিচ্ছে। সকল রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য হচ্ছে তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসা।

তরুণ প্রজন্মের নানান সুযোগ-সুবিধা, বাস্তবায়ন সম্ভব কিংবা অসম্ভব এমন অনেক কিছুই নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে। সম্প্রতি কোটা ব্যবস্থা, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা, বেকার ভাতা প্রদান, মেধার ভিত্তিতে চাকরি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষা ব্যবস্থা বৃদ্ধি ও তরুণদের বিকাশে অনেক সুযোগ-সুবিধাসহ নানান বিষয় রয়েছে ইশতেহারে।

তরুণ সম্প্রদায় একটি রাষ্ট্রের হৃদপিন্ডস্বরূপ। তারাই ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দিবে। দেশ গড়ার প্রধান শক্তি যুব সমাজ। রাজনৈতিক দলগুলোকে ধন্যবাদ জানাই এই জন্য যে, তারা তরুণ প্রজন্মের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে। সেই সাথে প্রশ্নও উত্থাপন হয়, তরুণ প্রজন্মকে এতো গুরুত্ব দেয়ার উদ্দেশ্য কী? শুধু কি তাদের ভোটের জন্য নাকি সত্যিকার অর্থে তরুণদের যথাযথ মূল্যায়ন করার জন্য?

মিঠুন মিয়া

 

তরুণ সমাজের প্রতি এতো ভালোবাসা যদি ভোটের জন্য হয়ে থাকে, তাহলে দুঃখজনক। তাদেরকে যেন বলতে না হয়, আমায় নয় গো ভালোবাসো মোর ভোট। সত্যিকার অর্থে আমাদের তরুণ প্রজন্ম নানা সংকটের মুখোমুখি। যুব সমাজের সম্ভাবনাময় শক্তিকে কাজে লাগাতে আমরা প্রতিনিয়ত নানা সমস্যা ও বাধার সম্মুখীন হচ্ছি।

আধুনিক সময়োপযোগী অনেক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত আমাদের তরুণ সমাজ। অথচ তরুণ প্রজন্ম জাতির প্রধান চালিকা শক্তি। প্রাণশক্তিতে ভরপুর আমাদের যুব সমাজের মাঝে লুকায়িত সম্ভাবনাকে জাগ্রত করার জন্য ইশতেহারে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতিগুলো প্রশংসাজনক। বাস্তবায়ন হলে তরুণরা উপকৃত হবে।

এখন তরুণ প্রজন্মের সামনে চ্যালেঞ্জ, তারা কোন পক্ষকে মেনে নিবে? কোন রাজনৈতিক দলকে রায় দিবে? ভোট দিবে? এক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে স্মরণ করতে হবে, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার জন্য কোন রাজনৈতিক দল যেন তাদেরকে ব্যবহার করতে না পারে।

কেবল প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়িতে মুগ্ধ না হয়ে যথেষ্ট বিচার বুদ্ধি প্রয়োগ করে তাদের মূল্যবান ভোট প্রয়োগ করতে হবে। যাতে তাদেরকে যেন রাজনৈতিক দলের প্রতারণায় পড়তে না হয়। বর্তমান যুব সমাজ নিষ্কিয় নয়। ধোকা দিয়ে তাদেরকে প্রভাবিত করা যাবে না। লক্ষ্যণীয় যে, রাজনৈতিক দলগুলো তরুণ সমাজকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের ভোটে ক্ষমতায় আসে।

কিন্তু ‘ইশতেহারে তরুণদের জন্য উল্লেখিত বিষয় থেকে দূরে অবস্থান করে। এতে তরুণরা হতাশ হয়ে পড়ে। কাজেই যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, ইশতেহারে তরুণদের উল্লেখিত প্রতিশ্রুতি ভুলে না গিয়ে বরং বাস্তবায়ন করতে হবে। তরুণদের সুনজরে দেখতে হবে। তারাই দেশের কারিগর। সেই সাথে মনে রাখা দরকার এই নির্বাচনই শেষ নির্বাচন নয়।

লেখক:
মিঠুন মিয়া
শিক্ষক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা।

 

ঢাকা, ২৭ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।