অনলাইন গেইমের সয়লাব, স্বর্গেবাস নাকি সর্বনাশ!


Published: 2018-12-11 21:25:23 BdST, Updated: 2019-01-19 19:19:49 BdST

মাহমুদুল হাসান জসীম: অনলাইন গেইমের প্রতি আমাদের বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের একটা চড়া সুরের ভালেবাসা কাজ করে। পৃথিবীতে প্রায় ১.২ বিলিয়ন মানুষ অনলাইন গেইমে আসক্ত; দিন দিন এটা ক্রমশ বাড়ছে।

পারিবারিক ভালোবাসার ওয়াগন হুইলের কোন কর্ণারে ঘাটতি দেখা দিলে, সে দিক দিয়ে ক্ষতিকর জিনিস এসে ডুকে যায়, হয়তো খানিকটা অবচেতন মনেই। পারবারিক মূল্যবোধের অভাব, ক্রমশ যান্ত্রিক হয়ে যাওয়া, আমাদের একাকীত্বককে আরও চরমে তুলেছে।

বাংলাদেশে প্রচলিত কিছু জনপ্রিয় অনলাইন গেইমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : ludo king, ludo star, Teen patti gold-with poker & rummy, Grand Theft Auto : San andreas, Mini metro, PUBG MOBILE, Clash of clans সহ নাম না জানা আরও অনেক।

এসবে সাধারণত আসক্ত স্কুল বা কলেজে লেভেলের শিক্ষার্থীরা। যাদের বেশিরভাগেরই কাজটা করতে হয় লুকিয়ে। যার ফলে তাদের মধ্যে লুকিয়ে চলার একটা প্রবণতার জন্ম নেয়। গেইমের পসরাগুলোও এমনভাবে সাজানো থাকে যে, দিনের চেয়ে বোধহয় রাতে এটি খেলা অপেক্ষাকৃত ভালো। যার ফলে আমরা পাচ্ছি রাত জাগা কর্মক্ষমতাহীন একদল তরুণ।
তথ্য প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার অনলাইন গেইমগুলোকে আমাদের আরও হাতের নাগালে নিয়ে এসেছে।

অনলাইন গেইমের ক্ষতিকর দিক অনেক। উল্লেখযোগ্য কিছু হলো, ১. সাধারণত শরীরে ৩১% মতো মেদ থাকলে স্থুলতা/মেধবহুল ধরা হয়। অনলাইন গেইমে শারীরিক কোন পরিশ্রম নাই, আছে শুধু মানসিক পরিশ্রম। যার ফলে এটা আমাদের মেধ বৃদ্ধিতে সহায়ক। কোথায় যেনো দেখেছি, "ঘাম রক্ত বাঁচায়। " অনলাইন গেইমের এমন কোন পজেটিভ দিক নাই। তাই এটি আমাদের শারীরের জন্য ক্ষতিকর একটা ব্যাপার।

লেখক (মাহমুদুল হাসান জসীম)

 

২. কম্পিউটার ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ায়। যা একজন কিশোর বয়সের বাচ্চার স্বাভাবিক বেড়ে উঠার অন্তরায়।

৩. পীঠ ব্যথা অনলাইন গেইমের একটা চমৎকার আউটপুট। সাধারণত এটা যদি ডেস্কটপ বা ল্যাপটপে খেলা হয়। কারণ অনলাইন গেইমের জন্য মোটামুটি একটা নির্দিষ্ট পজিশন ধরে অনেক সময় বসে থাকতে হয়।

৪. মাইগ্রেন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক। মাইগ্রেন সাধারণত এক জায়গায় হয়, পরে এটা ছড়িয়ে পরে। আলো, শব্দ মাইগ্রেনের ছড়িয়ে পরার হারকে প্রভাবিত করতে পারে।

৫. আক্রমণাত্মক ব্যবহার ও মানসিক সমস্যা হলো আরও একটা দিক। বেশিরভাগ অনলাইন গেইম-ই আক্রমণাত্মক, যা আমাদের কিশোরদের মনে একধরণের আক্রমণাত্মক ভাবের জন্মদেয়। তারা সবকিছু চিন্তা করে, হাতের এক টাচে সব প্রতিবন্ধকতা দূর হবে। কিন্তু মনুষ্য প্রতিবন্ধকতা যেমন বাবা, মা ; হাতের টাচে দূর হোন না। তখনই শুরু হয় খারাপ ব্যবহার।এত কিছুর পরও ক্ষুদামন্দা, মানসিক অস্বস্তি তো আছেই।

তথ্যপ্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার সময়ে, অনলাইন গেইমের এই জয়জয়কার অস্বীকার করার উপায় নেই। চাইলেই পারবারিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি করে, বাবা, মা ও সন্তানের ভালেবাসার বন্ধন দৃঢ় করে আমরা অনলাইন গেইম নামক এই মহীরুহসম সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে পারি। নিশ্চিত করতে পারি সুন্দর, মনস্তাত্ত্বিক স্বাস্থ্যসম্মত আগামী প্রজন্ম। যারা উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মানে অংশ নিবে।

লেখক
মাহমুদুল হাসান জসীম
শিক্ষার্থী, ইইই বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।
Mahmudul Hasan Joshim

 

ঢাকা, ১১ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।