রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ‘আজগুবি’ নিয়ম কেন?


Published: 2018-12-01 13:14:32 BdST, Updated: 2018-12-13 06:14:51 BdST


মন্তব্য প্রতিবেদন : ভর্তি পরীক্ষার মৌসুম চলছে। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ভর্তি প্রক্রিয়া। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ পর্যায়ে রয়েছে কার্যক্রম। এদিক থেকে হিসেব করলে অনেকটা শেষের দিকেই ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে ভর্তি পরীক্ষার অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ‘আজগুবি’ নিয়ম শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যাথিত হয়েছি আমরাও। ভর্তি পরীক্ষা, তাই আইন শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে এমন আশংকায় শিক্ষার্থীদের হল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কাল ২ ডিসেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় শৃংখলার অজুহাতে ৩০ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবাসিক হলসমূহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যদিও এমন সিদ্ধান্তে বেঁকে বসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরাও একমত। এটা অযৌক্তিক এবং আজগুবি সিদ্ধান্ত বলে আমরা মনে করি।

ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধ রাখার কোন নজির আমাদের জানা নেই। বরং ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাড়তি প্রস্তুতি থাকে। হলে ভর্তিচ্ছুদের থাকার ব্যবস্থা করতে গিয়ে তাদের মাটিতে গণরুমে এমনকি না ঘুমিয়ে রাত কাটিয়ে দেয়ারও নজির আছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেয়া হয় নানা প্রস্তুতি ও শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ। এছাড়া এবার দেখেছি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের জন্য বিনামূল্যে খাবার, থাকা এমনকি যাতায়াতেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে ভর্তিচ্ছুদের সহায়তার জন্য বিশেষ সেল এমনকি মোটরসাইকেল সার্ভিস চালু করতেও দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগ বেশ প্রশংসাও কুড়িয়েছে।

এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ কিংবা আইন শৃঙ্খলার অবনতির খবর পাওয়া যায়নি। তাহলে কিসের ভিত্তিতে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ‘আজগুবি’ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে? শান্ত এই ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন শৃঙ্খলার অবনতির খবর কোথায় পেলেন? কোন তথ্যের ভিত্তিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো বন্ধ করে দেয়া হল? এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোথায় থাকবেন কিংবা তাদের পড়াশোনার যে ক্ষতি হবে সেটা পুশিয়ে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিয়েছে কী? শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন এগগুয়েমি সিদ্ধান্ত কেউ মেনে নিচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুই দফা নির্দেশ দিয়েও শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করতে পারছেন না। তোপের মুখে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সর্বশেষ শনিবার সকালের মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হলেও তা মানছেন না শিক্ষার্থীরা। তারা হলে অবস্থান নিয়ে আছেন। যে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়ন করতে পারবে না তেমন সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার মানে কী?

এভাবে ‘আজগুবি’ সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষেঁপিয়ে তোলার কোন মানে হয় না। শিক্ষার্থীদের প্রশাসনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার কোন যৌক্তিক কারণ আমরা দেখি না। বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের এমন বলপ্রয়োগ আমরা দেখতে চাই। শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করুক ক্যাম্পাসে এমন প্রত্যাশা রইলো। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যৌক্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেবেন। এভাবে শিক্ষার্থীদের তাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার মতো কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না।

ঢাকা, ০১ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।