শাবিতে ভয়ংকর র‌্যাগিং : সিলেটি হয়েও আর ক্যাম্পাসে যাইনা!


Published: 2018-02-20 01:37:43 BdST, Updated: 2018-06-19 08:53:51 BdST

শিপন ঘোষ : বরাবর ঘটে আসা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। আমিও শাবির এ 2013-14 সেশনে গণিতে ভর্তি হয়েছিলাম। প্রায় তিন-চার মাস ক্লাসও করেছিলাম। কিন্তু মেসে উঠতেই আমার সঙ্গে শুরু হয় অসভ্যতা। আমি আমার এলাকার পরিচিত বড় ভাইয়ের সঙ্গে মেসে উঠেছিলাম তবুও তার অনেক বন্ধুরা আমাকে র‌্যাগ না দিয়ে ছাড়েনি। অামার সঙ্গেও ঘটেছে ভয়ংকর ঘটনা। র‌্যাগিংয়ের সময় আমার টি-শার্ট পর্যন্ত খুলে নেয়া হয়েছিল। বাকিটা নাই বললাম। সেদিনের কথা মনে হলে এখনও আঁতকে উঠি আমি। কারণ ওই ঘটনা আমার পক্ষে (ছোটবেলা থেকে অন্তর্মুখী হওয়ার কারণে) মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ওইদিনই ভেবেছিলাম আর যাই হোক এখানে (SUST) অন্তত জীবনের চার থেকে পাঁচটা বছর অতিবাহিত করবো না।

আমার জন্ম সিলেটের হবিগঞ্জের মাধবপুরে। জন্মগতভাবে সিলেটিই বটে। যার কারণে SUST নিজের এলাকায় হওয়ায় স্বপ্নের জায়গার একটা ছিল এই ক্যাম্পাস। কিন্তু সেই স্বপ্নের জায়গায় যেতে পেরেও স্বপ্ন পূরণে একমাত্র বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল কিছুসংখ্যক ভাইয়ের সেই অমানবিক আচরণ বা র‌্যাগ। ভর্তি হয়ে প্রথম কিছুদিন যে পরিস্থিতির মুখে পরেছি তা জীবন শেষ হয়ে গেলেও কোনদিন ভুলবো না।

সব থেকে খারাপ লাগার বিষয় হলো দ্বিতীয় বার (2014-15 session) পরীক্ষা দিয়ে যখন ঢাবিতে পদার্থবিজ্ঞানে চান্স হলো তখন। SUST এর ভর্তি বাতিল করে যখন কাগজপত্র নিয়ে ঢাকায় ফিরবো তখন নিজের ব্যাচম্যাটদের কয়েকজনও (পরোক্ষভাবে যুক্ত থেকে) কয়েকজন বড় ভাইকে সঙ্গে নিয়ে আমাকে র‌্যাগ দেয়। এটা মনে পড়লে আজও খুব খারাপ লাগে। সব থেকে অবাক করা বিষয় হচ্ছে SUST campus এখনও পর্যন্ত আমার পছন্দের campus এর একটি। কিন্তু ভর্তি বাতিল করিয়ে আসার পর থেকে অনেকবার সিলেট গেলেও ক্যাম্পাসে আর কখনোই যাওয়ার সাহস হয়ে উঠেনি।

সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে সম্মান বা ভালবাসা কারো কাছ থেকে বলপূর্বক আদায় করার জিনিস নয়, কিন্তু SUST এ প্রথম আমি ওই বিষয়টা দেখেছি কিভাবে গুটিকয়েক বড় ভাই র‌্যাগের মাধ্যমে সম্মান আদায়ের চেষ্টা চালান। একজন আমাকে ভয়ে সম্মান করলো কিন্তু পেছনে গিয়ে বকা দিল। এই সম্মানের কোন মানে আছে...!!!

আপনজনদের ফেলে এসে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া ছেলেটা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মত শক্ত কাজটা করে ঠিক সেই মুহূর্তে র‌্যাগিং যে কত বড় এক শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রনা তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। একজন স্বাভাবিক মানুষের মাথায় কখনও কাউকে হেনস্তা করার জন্য র‌্যাগ দেওয়ার চিন্তা আসতে পারে না, যারা এই কর্মকাণ্ড ঘটায় তারা বিকৃত মস্তিষ্কের এবং আত্মত্যাগের ক্ষমতা তাদের নেই।

লেখক : শিক্ষার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষণিকের অতিথি

ঢাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।