বয়ফ্রেন্ড ঢাকায়, ক্যাম্পাসে সিনিয়রের সঙ্গে প্রেম গার্লফ্রেন্ডের!


Published: 2018-02-14 13:41:01 BdST, Updated: 2018-05-23 09:23:59 BdST

আরাফাত আবদুল্লাহ : সারাদিন চ্যাট করিস, আঙ্গুল ব্যাথা করে না? আমার জিএফ, বন্ধু...। সেই একই ছেলে সারারাত ফোনে কথা বলে...
-- কিরে দোস্ত... রাতে এতো কথা !! দিনেতো চ্যাটই করলি। কথা শেষ হয় নাই? ঘুমের ডিস্টার্ব হয়।
--- দোস্ত, এটা আমার আরেকটা জিএফ। ঢাকায় থাকে। প্লিজ কিছু মনে করিস না!
সেই একই ছেলে বিকাল বেলা ক্যাম্পাসেরই একটা মেয়েকে সাথে নিয়ে ঘুরে!
কিরে দোস্ত, কে এটা? আগেতো দেখিনি!
--- দোস্ত, এইটাও আমার জিএফ। এটা ক্যাম্পাসের। বাকি দুইটা বাইরের।

জিজ্ঞেস করলাম, দোস্ত ভ্যালেন্টাইন্স ডে টা কার সাথে করবি?
চটজলদি উত্তর, ঢাকায় যেটা থাকে ওইটার সাথে। কারণ ওর বাসা ফাঁকা থাকবে!

যা বুঝার বুঝে নিলাম।
এই সাধারণ গল্পটা আমাদের সমাজেরই চিত্র। শাটলে রোজ রোজ যে কাপলগুলো দেখেন এদের মধ্যেই এরকম ক্যারেক্টারের কেউ না কেউ আছে। যাদেরকে বোটানিক্যাল গার্ডেনে দেখেন তাদের মধ্যেও পাবেন এমন কাউকে না কাউকে।

শুধু এমন নয়। আরো ভয়াবহ গল্প আছে।
বয়ফ্রেন্ড ঢাকায় থাকে। গার্লফ্রেন্ড থাকে এই ক্যাম্পাসে। মেয়েটা তার বিভাগের সিনিয়রের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে। দুইটা ছেলেকে সে সমান তালে মেইন্টেইন করে। যে বাজে ভাষাটা ইউজ করতে চাইছেন সেটা পারবেন না। কারণ শিক্ষিত মেয়ে। অশিক্ষিতরা এই কাজ করলে প্রস্টিটুট। আর শিক্ষিতরা এই কাজ করলে, মর্ডার্ন বালিকা।

বিয়ে করতে গিয়ে এক মেয়ে পড়লো মহাবিপাকে।
ছেলেটা যে ভালো সেটা বুঝবে কী করে?
উনি নিজের ব্যাপারে কিছু ভুল তথ্য দিতে লাগলেন ছেলেটাকে।

আমার ৪/৫ টা বিএফ ছিল।
এঞ্জয় করেছি সবার সাথেই...
এখন বিয়ে করতে চাই...
নতুন জীবন নতুনভাবে শুরু করবো। দেখতে সুন্দর। অনেক প্রস্তাবই পাই। কি বলো তুমি?
তোমার কি মত?

ছেলেটা এক বালতি সহানূভূতি ঢেলে উত্তর দিলো, ওসব কোন ব্যাপার না। সবারই থাকে। আমারও ছিল। সব ভুলে আমি নতুন করে শুরু করতে চাই।

পয়েন্ট খুব সিম্পল!
কেউ যখন জেনে বুঝে আপনার খারাপ কাজকে সমর্থন করবে তখন বুঝবেন এই মানুষটাও একই কাজ করে আসছে। নিজের মতো কাউকে পেলেই মানুষের সহানূভূতি পারদের মতো চরে যায়।

মজার ব্যাপার হলো, ঘরে ঘরে হানা দিয়ে রিলেশন করা এই ছেলেমেয়েগুলোর দৌড় কিন্তু "কাছে আসার গল্প" পর্যন্তই !! এরপরের কাহিনি নরক গুলজার করা ইতিহাস!

জীবনের শান্তি বলে কিছু থাকে না । তাদের জগত ফেসবুক আর রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসেই সীমাবদ্ধ। বেশিরভাগই বিয়ের পর অশান্তিতে থাকে। চৌদ্দ ঘাটের প্রেম করা ছেলেটা তাই নিজের নিরপরাধ স্ত্রীকেও আইটেম ছাড়া কিছু ভাবে না।

প্রাক্তনকে দেখলে মন খুলে গালি দেয় এরাই। যাবতীয় স্ক্যান্ডাল নামক স্বপ্রণোদিত নগ্ন ছবির নায়ক নায়িকা তো এরাই।

কয়েকটা ছেলের হাতে নোংরা হওয়া মেয়েটা তাই হিজাবের আড়ালেও একটা থকথকে কাদার স্তুপ। কেউ তার কাছে ভালোবাসা নিয়ে আসে না। সবাই আসে প্রেম করতে। এরপর প্রেম করে চলে যায়। থেকে যায় বহুজনের ইউজ করা রক্ত মাংসের শরীরটা।

অতঃপর কোন একরাতে এই মানুষগুলো আবিস্কার করে, জীবনে তাদের এক্সাইটমেন্ট ছিল। ১৫/২০ মিনিটের উত্তেজনা ছিল। কিন্তু ভালোবাসা ছিল না। বোটানিক্যাল গার্ডেনে অনেক অন্তরঙ্গ মুহুর্তের জন্ম দিলেও সফল ভালোবাসার জন্ম দিতে পারেনি।

প্রচণ্ড ভালোবাসার ঠেলায় মেরিস্টোপ্সের উন্মুক্ত দরজা দিয়ে ওয়াশ করাতে গেলেও, ভালোবাসার দরজাটা আর উন্মুক্ত হয়নি কোন কালে।

বিধাতার খেল এমনই কঠিন। হিসাবটা এমনই সূক্ষ্ম! ইনসাফটা এতোটাই কঠোর যে জীবনটাই চলে অন্যের হাতে ইউজ হয়ে।

একদিন তারা বুঝতে পারে, অনেকগুলো ভ্যালেন্টাইন্স ডে পার করে এসেও তাদের জীবনে ভালোবাসার মানুষ বলে আসলে কেউ আসেনি কোনদিন।

যা ছিল সেটা হচ্ছে প্রচণ্ড উত্তেজনায় শরীর নিঃসৃত কিছু তরল পদার্থ। এর বেশি কিছু নয়!!!

Arafat Abdullah (মধ্যরাতের অশ্বারোহী)
University Of Chittagong

ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।