ব্যাকবেঞ্চারদের বদলে যাওয়ার গল্প


Published: 2018-01-14 13:23:34 BdST, Updated: 2018-01-16 23:29:53 BdST

মুকুটহীন সম্রাট : ক্লাসে লাস্ট সিটে বসে থাকা ছেলেদের গল্পগুলো একটু অন্যরকম হয়। মাদরাসায় পড়তাম আমরা। আলভি সে সবসময় পড়াশোনায় অমনযোগী। নবম শ্রেণিতে গণিতে ফেল করে। ফাইনাল পরীক্ষায় কোনরকম তেত্রিশ পেয়ে দশম শেণিতে প্রমোশন পেয়েছিল। সবাই মেধাবি। সে সবার ছোট ছিল। প্রাইভেট পড়ত সবার সাথে। ওর ক্লাসের প্রথম সারির তিন জনের মধ্য একজন ক্লাসে স্যারের সাথে ইংলিশে কথা বলে।

অদ্ভুত না? মাদরাসার ছেলে ইংলিশে কথা বলে, একি ভয়ানক কথা? তাও আবার নবম শেণির ছাত্র। হে পারে, মাদরাসার ছেলেরা এখন সব পারে। আলভি সেতো এক আন স্মার্ট ছেলের নাম। তার শ্রেণির কেউ যখন ইংলিশে কথা বলে, সে তখন বসে বসে ভাবে ক্লাস থেকে কখন বের হওয়া যায়। দাখিল পরীক্ষা হাতের কাছে তাই সে এখন পড়াশোনায় মনযোগী। ইংলিশ পারে না। তাই সে তার বন্ধুদের কাছে ইংলিশ পড়তে যায়।

আগে তাকে দেখা যেত চায়ের দোকানে খেলা দেখতে। এখন আর চায়ের দোকানে তাকে দেখা যায় না। তামিম ইকবাল শতক হাঁকায় কিন্তু আলভির হাতের তালি এখন শোনা যায় না। পরীক্ষা শেষে আলভির রেজাল্ট দেখে সবাই হতবাক।

মাদরাসায় সেরা চার জনের মধ্যে ও একজন। ভর্তি হল চট্টগ্রাম কলেজে। তারপর আরও করুণ কাহিনী। কিছুদিন পর মাদরাসার এক বন্ধু তার বাসায় আসল। বাসায় এসে দেখে, আলভি টেনস পড়ছে, ওই বন্ধুটা ঠাট্টা করে বলছিল, চিটাগাং কলেজের ছাত্র টেনস পড়ছে।

সবাই যেমন প্রাইভেট পড়ে আলভিও পড়ে। ক্লাসে যেত না ইংলিশ স্যারে পড়া ধরার ভয়ে। স্যারের কাছে যখন যায় তখন সে ভাবে, কখন সে স্যারের মত করে অন্যজনকে পড়াবে। একসময় পরিশ্রম করে আলভি নিজের গল্পের প্লটটা ভিন্ন ভাবে নিয়ে যায়।

আলভি এখন ভার্সিটির ছাত্র। সে এখন ইংলিশ পড়ায়। ভার্সিটি প্রথম বর্ষে থাকতে সে চট্টগ্রাম, মহসিন কলেজের ছাত্রদের পড়াত। ক্লাসের লাস্ট সিটে বসে আসা ছেলেদের গল্পগুলো সব সময় অন্য রকম হয়।

মাদরাসায় একদিন কয়েকজন বড় ভাই আসেন। তারা ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছেন। সবাই তাদের উৎসুক দৃষ্টিতে দেখছে। উনাদের দেখার জন্য জড়ো হওয়া ছেলেগুলোর কয়েকজন এখন ভার্সিটির ছাত্র।

> যে কোনদিন ম্যাথ পড়ানোর ভয়ে টিউশন করায়নি, সে এখন সারাদিন ম্যাথ করে।
> ক্লাসের যেই ছেলে খাট খাট টি শার্ট পড়ার কারণে সবাই আনস্মার্ট বিশেষণে জর্জরিত করত, তাকে এখন চেনা যায় না।
> যেই ছেলে কোনদিন সাহিত্য পড়ার সাহস করেনি, সে এখন গল্পকার।
মানুষ বদলে যায়। বদলে যেতে বাধ্য।
মুনীর চৌধুরীর ভাষায়,
মানুষ মরে গেলে পঁচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, সকালে বিকালে বদলায়, কারণ অকারণে বদলায়, তাতে অবাক হওয়ার কি আছে?

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।