37052

নর্দার্ন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীরা প্রতারণা ও ভোগান্তির শিকার

নর্দার্ন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীরা প্রতারণা ও ভোগান্তির শিকার

2020-10-06 14:07:12

মৃদুল ব্যানার্জি: নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। বাহারী বিজ্ঞাপন আর বাহ্যিক চাকচিক্যের যেন অন্ত নেই। আগে ছিল এক ঘরানার। পরে রঙ বদলিয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক পক্ষ এখন পরো আওয়ামী রঙে নিজেদের রাঙিয়েছেন। জাহির করছেন সেই ঘরানার খানদান হিসেবে। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিস্টরা সবাই জানেন তিনি কোন ঘরানার মানুষ। এখন কি তার উদ্দেশ্য। বলছি সেই বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়েই। রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে ব্যবসা প্রশাসন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, আইন, ফার্মেসি, ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা প্রদান করা হয়। সংশ্লিস্টরা জানান, করোনারকালীন সময়ে প্রায় ২০০০ হাজার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ল্যাপটপের জন্যে টাকা নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু করোনার মহাদুর্যোগ চলে যাচ্ছে কিন্তু তারা এখনও ল্যাপটপ পায়নি বলে হাজারো অভিযোগ এখন ক্যাম্পাসলাইভ অনলাইনের টেবিলে। শিক্ষার্থীরা ফোন করলে আর বেশী কিছু জানতে চাইলে ফোন ব্লক করে দেয়া হয়। ভর্তি বাতিলের হুমকি তো মামুলি ব্যাপার।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে পারছেন না। যদি কেউ মুখ খুলে তবে তাকে ভর্তি বাতিলের হুমকিও দেয়া হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা জানিয়েছেন, সাইন্স ফ্যাকিাল্টির ডিন ও প্রো-ভিসি প্রফেসর ইঞ্জিনিয়ায় হুমায়ুন কবির এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় পদত্যাগ করেছেন। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার পরেও ৪/৫ মাস যাবত ঘুরানোর প্রতিবাদ করেছেন একাধিক বার। অবশেষে পদ ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের বলে গেছেন আমি ওদের সাথে পারছি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কম্পিউটার সাইন্সের ৪র্থ সেমিস্টারের একজন ছাত্র জানান, আমাদের সাথে ওরা প্রতারণা করেছে। সাতক্ষিরার একটি বিশেষ দলের ডোনার জাব্বার সাহেবের মেয়ের জামাই প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যারের ইউনিভার্সিটি শুনে বাবা আমাকে এখানে ভর্তি করান। কিন্তু ভর্তির পর থেকেই ভিন্ন কিছু দেখছি। ওরা কোন কথা রাখে না। করোনার মহামারিতে আমাদের অভিবাবকরা ল্যাপটপের জন্যে টাকা দিয়েছেন। অনলাইনে ক্লাস নিতে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। সেই অনুযায়ী তাদের কথা মতো টাকা দিয়েছি। ৪/৫ মাস আগে। কিন্তু ৭/৮ দফা সময় দিয়েও আজও তারা ল্যাপটপ দিতে পারেনি। কেবল তালবাহানা চলছে। অনলাইন ক্লাস চলছে কিন্তু শিক্ষার্থীরা এখন টাকা দিয়ে এখন অসহায়।

আইন বিভাগের অপর একজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ৪/৫ মাস আগে আমি ল্যাপটপের জন্য টাকা দিয়েছি। টাকা দেওয়ার ১০ দিন পর আমাকে ই-মেইলে কনফার্ম করলো যে তারা টাকা পেয়েছেন এবং বললো যে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আমার হাতে ল্যাপটপ পৌছাবেন। যখন ১ মাস পার হয়ে যায় তাদের থেকে কোনো রিপোর্ট আমি না পাইনি। তখন আমি কল করি নিচের দেওয়া একটি নাম্বারে। তখন বললেন ল্যাপটপ এখনো এসে পৌছায় নাই, খুব শিঘ্রই আসবে এবং আমাদের জানানো হবে।

তারপর দেখলাম একটা পোস্ট দিলো নর্দানের মেইন পেজে। আবারো কল দিলাম, এরপর জানালো সেপ্টেম্বরের ১-৩ তারিখের মধ্যে দিয়ে দিবে। এরপর আমার নাম্বার ব্লক করে দেয়। ৮ তারিখ পার হয়ে গেলে আমি আবার ফোন দেই কিন্তু আমার নাম্বার ব্লক। বাবা কল দিলেন ধরেন না। আরেক নাম্বারে (01755514650) কল দিলেন বাবা এরপর তারা জানালেন "১২ তারিখ থেকে দেওয়া শুরু হবে"।

আজকে সকালে আমি (01755514650) নাম্বারে কল দিলাম, ল্যাপটপ নাম মুখে আনতেই হ্যালো হ্যালো বলে ফোন কেটে দিলেন। আরো ২ বার ট্রাই করলাম ধরেন না তিনি। এরপর আজকে সকালে (01755514651) তে কল দিলাম তিনি বললেন ১২ তারিখ দিবে এমন কিছুই জানেন না তিনি। ম্যানেজমেন্ট কিছুই জানায় নাই তাদের।
তারাও নাকি জানে না ল্যাপটপ কবে দিবে।

ওই ছাত্র আরো বলেন, ল্যাপটপ বুকিং দিয়েছিলাম অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষা, এসাইনমেন্ট ঠিকমত করার জন্য। এখন তো দেখি তারা প্রতারণা শুরু করছে। নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বাস করেই বাবা মা টাকা দিয়েছেন এই পেন্ডেমিক সিচুয়েশনেও। এভাবে প্রতারনা শুরু করছে কেন? আর ২/১ মাস পর ভার্সিটি খুলে গেলে এই ল্যাপটপ দিয়ে করবো কি আমরা? ''কোনো সিনিয়র ভাইয়া কি সহায়তা করতে পারেন এ বিষয়ে?'' এটা ছিল ওই ছাত্রের এফবি স্ট্যাটাস।

আরেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, আমরা এখন রীতিমত প্রতারণার শিকার। তিনি জানান, ডিজিটাল কন্যা জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা হাজার হাজার শিক্ষার্থী এর প্রতিকার চাই। এই যন্ত্রনা থেকে বাঁচতে চাই। কোন বিচার দরকার নেই। তিনি বলেন এতো শিক্ষার্থীদের টাকা নিয়ে ব্যাংকে রেখে কেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তামাশা করছে এর প্রতিকার হওয়া দরকার। আমাদের অন্তত ৬/৭ দফায় তারিখ দিয়েছে। এ ব্যাপারে কোন কথা বলা যায় না। কোন ফোন করলে বা বেশী কিছু জানতে চাইলে সেই মোবাইল ফোন ব্লক কের দেয়া হয়। কেউ কোন সুস্পস্ট কথা বলে না।

যা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন:

ওই শিক্ষার্থীরা আরো জানান, আমাদেরকে কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়েছে ১০ অক্টোবরের মধ্যে সেমিষ্টার ফি দিতে হবে। না হলে কি হয় তা আমরা জানি না। এছাড়া যে সকল শিক্ষার্থীদের ওয়েবার বা বৃত্তি দেয়া হতো তা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া সেমিস্টার ফি দেরীতে দিলে জরিমানাও করছে ১ হাজার টাকা করে। অথচ সরকার বেতনের ব্যাপারে কোন শিক্ষার্দের চাপ না দিতে। কিন্তু কিভাবে তারা জরিমানা করেছে তা কারো জানা নেই। গত সেমিস্টারের ১৫% ওয়েবার তুলে নেয়া হয়েছে। (সামার- এপ্রিল-জুলাই) টিউশন ফিতে জরিমানা শুরু করেছে। ছাত্র-ছাত্রীরা আরো জানান, জুলাই মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ল্যাপটপের জন্যে টাকা দেয়ার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী টাকাও পরিশোধ করে দিয়েছেন তারা। কিন্তু এখনও দিচ্ছে না ল্যাপটপ।

এ ব্যাপারে ভিসি আনোয়ারুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এটা রেজিস্টার সাহেব দেখছেন। আপনি তার সাথে কথা বলেন। পরে এ ব্যাপারে রেজিস্টার প্রফেসর কাজী শাহাদাত কবির ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত ল্যাপটপ দিতে। ৪/৫ মাস সময় ধরে টাকা নিয়ে আপনারা ঘুরাচ্ছেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন এটা ঠিক হয়নি। তবে চেষ্ঠা চলছে।

প্রো-ভিসি হুমায়ুন কবির ল্যাপটপ দেয়ার বিষয়ে মতানৈক্য হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন তিনি তো প্রোভিসির চার্জে ছিলেন। তবে কেন পদত্যাগ করেছেন এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে কত হাজার শিক্ষার্থী আছে জানাতে চাইলে বলেন ৭ হাজার। কতজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তো আইটি বিভাগ জানে। আমি জানি না। এক পর্যায়ে তিনি ফোনটি কেটে দেন।

ল্যাপটপের বিষয়ে জনসংযোগসহ কম্পিউটার ও আইটি বিভাগে কথা বললে সবাইর বক্তব্য একটাই আমরা কিছু জানি না। এটা চেয়ারম্যান সাহেব জানেন। এর বাইরে কোন বক্তব্য দিতে কেউ রাজি নন। কে চেয়ারম্যান জানতে চাইলে সকলেই জানান, উনি খুলনার নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির ভিসি ঢাকার নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ। তিনিই মালিক। তিনিই সব কিছু জানেন।

ঢাকা, ০৬ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

 

 

প্রধান সম্পাদক: আজহার মাহমুদ
যোগাযোগ: হাসেম ম্যানসন, লেভেল-১; ৪৮, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, তেজগাঁ, ঢাকা-১২১৫
মোবাইল: ০১৬৮২-৫৬১০২৮; ০১৬১১-০২৯৯৩৩
ইমেইল:[email protected]