উদীচীর ট্রাজেডি: ২২ বছর পরও বোমা হামলার বিচারের অপেক্ষায়


Published: 2021-03-07 10:46:31 BdST, Updated: 2021-04-12 03:26:18 BdST

ঢাবি লাইভ: ৬ই মার্চ। ১৯৯৯ সালের এই দিনে যশোরে উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে পুতে রাখা বোমা হামলা প্রাণ হারায় ১০ জন শিল্পী ও সাধারণ মানুষ। সেই ভয়াল হামলার ২২ বছর পরও এখনো বিচারের অপেক্ষা রয়েছে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। তবে দীর্ঘ ২২ বছরেও বিচার না হওয়ার কারণ হিসেবে সরকারের অবহেলাকেই দায়ী করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

শনিবার (৬ মার্চ) বিকাল চারটায় শাহবাগ জাতীয় জাদুুঘরের সামনে সেদিনের হামলার বিচার দাবিতে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। সভা পরচিালনা করনে প্রচার ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আরফি নূর।

সমাবেশের শুরুতে সেদিনের হামলায় নিহতদের প্রতি ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ,উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। সমাবেশের সঞ্চালনা করেন সৈয়েদা তানজিনা ইমাম ও সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি শিবানী ভট্টাচার্য। সমাবেশ শেষে সেদিনের নিহতদের শ্মরণে মোমবাতি প্রোজ্জ্বলন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন

 

সমাবেশে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন বলেন, 'ওই অন্ধাকারের শক্তি উদীচীকে টার্গেট করেছে। উদীচীর প্রতিটি কর্মী,প্রিতিটি শিল্পী হচ্ছে জনগণের বন্ধু,দেশের বন্ধু,বিশ্বমানবতার বন্ধু। তাদের টার্গেট করে ওই অন্ধাকারের শক্তি হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। শুধু যশোরেই নয়, সারা দেশে উদীচীর উপর হামলা হয়েছে। সরকার উদীচীর কখনো নিরাপত্তা দেয় না। স্বৈরাচারী এরশাদের সময় কবিতা লেখা হয়েছিল, 'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ।' সে এরশাদ ও ঐ কবিকে গ্রেফতার করার সাহস করে নাই। আজ কবিতা গান লেখার জন্যে ও লেখক শিল্পীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাই আমাদের দাবি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কার নয়,পরিপূর্ণ ভাবে বাতিল করতে হবে। এবং এ আইনে আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, 'যশোরে বোমা হামলার পুনঃতদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যদি তা অতি দ্রূত না করা হয়, তাহলে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী তার সাড়ে তিন শতাধিক শাখা সংগঠনের মাধ্যমে আন্দোলন ঘোষণা করবে। এবং সেই কর্মসূচি সচিবালয় ঘেরাও ও স্বারকলিপি দেয়া পর্যন্ত হবে। এবং এদেশ থেকে মৌলবাদ সমূলে উৎপাটকন করতে হবে। আওয়ামীলীগ যারা নিজেদের সংস্কৃতি বান্ধব বলে দাবি করে গত ১০বছরে নতুন কোনো মঞ্চ তৈরী করতে পারেনি। হাতির ঝিলে একটি তৈরী করেছে। আমরা সেখানে অনুমতি পাই না। বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত করে দেয়া হয়েছে আমরা তার প্রতি বাদ জানাই।'

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ

 

সভাপতির বক্তব্যে শিবানী ভট্টাচার্য বলেন, 'উদীচী এমনই একটি সংগঠন যা কাউকে ভয় পাই না। উদীচী তার পথে আছে,চলছে এবং আজীবন চলবে। আমরা প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন। তারা কি মনে করেছে উদীচীর উপর হামলা করলে তার সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে? কোনো দিন না। উদীচী সামাজিক পরিবর্তন আনতে সারা জীবন তার সাংস্কৃতিক আন্দোল বজায় রাখবে। কেন আমাদের উপর হামলা করা হলো? আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা, ন্যায্য কথা। এটাই কি আমাদের অপরাধ? নিশ্চয় না। তাহলে কেন আমাদের শিল্পীদের উপর হামলা করা হলো? এই সরকার নিজেকে প্রগতিশীল সরকার বলে থাকেন। তাহলে দীর্ঘ ২২বছর কেন আমরা বিচার পেলাম না? আমরা অনতিবিলম্বে এর বিচার চাই।'

আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখনে কন্দ্রেীয় সংসদের সহ সাধারণ সম্পাদক অমতি রঞ্জন দত্ত, সংঙ্গীতা ইমাম, ইকবালুল হক খান, কোষাধ্যক্ষ পারভজে মাহমুদ, সম্পাদক রহমান মুফজি, উদীচী যশোর জলো সংসদরে সদস্য একরামুল কবরি খান।

ঢাকা, ০৭ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএম//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।