সিলেট থেকে ৩৮১টি খালি আসন নিয়ে ট্রেন ছাড়লো


Published: 2020-05-31 14:04:40 BdST, Updated: 2020-07-08 10:42:40 BdST

সিলেট লাইভ: আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রেল স্টেশন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর ফের চালু হলো ট্রেন যোগাযোগ। করোনা পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুরক্ষায় গত ২৪ মার্চ সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল।

জানাগেছে রোববার (৩১ মে) সকাল সোয়া ৬টার দিকে ১৪টি কোচ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হয় ট্রেনটি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেকের কম যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ছেড়ে যায় কালনী এক্সপ্রেস। এসময় যাত্রীদের মাঝে শঙ্কা আর আতঙ্ক দেখা গেছে।

অর্ধেকের কম যাত্রী হলেও আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনটি যথাসময়ে গন্তব্যস্থল ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার খলিলুর রহমান।
তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথম টানা ৬৬ দিন বন্ধের পর ট্রেনে ৫২৪টি আসন সংখ্যা থাকলেও মাত্র ১৪৩ জন যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি সিলেট ছাড়ে।

ট্রেনে যাত্রী ওঠানোর আগে কঠোর স্বাস্থবিধি অনুসরণ করা হয়েছে। প্রত্যেক যাত্রীকে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে দেহের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়। তবে কারো শরীরে তাপমাত্রা বেশি পাওয়া যায়নি। তিনি আরো বলেন, রেলওয়ের চালক থেকে শুরু করে কর্মকর্তা ও নিরপত্তাকর্মীদের গ্লাভস ও মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তাছাড়া কোনো যাত্রীকেই হাতে গ্লাভস ও মুখে মাস্ক ছাড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে বা ট্রেনে উঠতে দেওয়া হয়নি। সিলেট-ঢাকা রুটে মাত্র ৫টি স্টেশনে ট্রেনটি যাত্রা বিরতি দেবে। ট্রেনে কোনো যাত্রী খাবার পাবেন না।

এক কোচ থেকে অন্য কোচে বিচরণ করতে পারবেন না। দেখা যায়, ঘড়ি ধরে ঠিক ৬টা ১৫মিনিটের সিলেট-ঢাকা রুটে কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন চলা শুরু করে। এদিন যাত্রীদেরও রীতিমত তৈরি হয়ে আসতে দেখা যায়।

করোনা থেকে নিজেদের সুরক্ষায় যাত্রীরা হাতে গ্লাভস ও মুখে মাস্ক লাগানো ছিল।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার খলিলুর রহমান আরো বলেন, সোমবার থেকে আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন ১৬টি কোচ নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে সিলেট ছেড়ে যাবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে একই নিয়ম পালন করা হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা চট্রগ্রাম রুটে সিলেট থেকে আন্তঃনগর ৬টি ট্রেন চলাচলে করে। ট্রেনগুলো হলো আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, পাহাড়িকা এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উদয়ন এক্সপ্রেস ও উপবন এক্সপ্রেস। এরমধ্যে পাহাড়িকা ও উদয়ন চট্রগ্রাম রুটে এবং অন্যগুলো ঢাকা রুটে চলাচল করে। এসব ট্রেনের মধ্যে শুধু কালনী এক্সপ্রেস ১৪টি কোচ এবং অন্যগুলো ১৬টি কোচ নিয়ে চলাচল করে।

২০১৪ সালে সিলেট-ঢাকা রুটে ১৪টি কোচ নিয়ে যাত্রা শুরু করে কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন। এরপর কোচ কমিয়ে আনা হয় ৪টিতে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৪টি কোচ নিয়ে যাত্রী পরিবহন করে প্রয়াত সুরঞ্জিতের রেখে যাওয়া কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনটি। এরপর ২০১৮ সালের শুরুর দিক থেকে ৮টি কোচ নিয়ে চলাচল করে। পরে আরো একটি কোচ কমিয়ে আনা হয়। ফের ১৪ কোচ নিয়ে চলাচলে পূর্ণতা পায় কালনী।

এছাড়া ঢাকা রুটে চলাচল করা জয়ন্তিকা ও চট্টগ্রাম রুটে উদয়ন এক্সপ্রেস মধ্যখানে কমে ১২টি কোচ নিয়ে চলাচল করে। পরে অবশ্য আরো চারটি কোচ যুক্ত করা হয়। পারাবত এক্সপ্রেসে ১৫টি থেকে ৩টি কমিয়ে ১২টি করা হলেও এখন ১৬টি কোচ নিয়ে চলছে। এখন কেবলই অপেক্ষার পালা কি ঘটতে যাচ্ছে সামনের দিনে।

ঢাকা, ৩১ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।