কোয়ারেন্টাইনে আছেন নারায়ণগঞ্জের ডিসি ও সিভিল সার্জন


Published: 2020-04-09 08:17:07 BdST, Updated: 2020-05-28 23:34:44 BdST

নারায়ণগঞ্জ লাইভ: লকডাউনের মাঝেও করোনার থাবা। যারা রাত দিন এলাকায় দাবড়ে বেড়াতেন তারাই এখন কোয়ারেন্টাইনে। খোদ জেলা প্রশাসক ও জেলার সিভিল সার্জন কোয়ারেন্টাইনে বন্দি হয়েছেন। জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক ও কমিটির সদস্য সচিব জেলা সিভিল সার্জন হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন। একইসঙ্গে করোনার ফোকাল পারসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। ৮ এপ্রিল সকাল থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তারা। আতঙ্ক এখন নারায়নগঞ্জের জনপদে।

জানা গেছে করোনা প্রতিরোধের জেলা কমিটির তিন শীর্ষ কর্মকর্তা কোয়ারেন্টাইনে চলে যাওয়ার সংবাদে এলাকার সরকারী কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনগনের মাঝে করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে সাহসির সংখ্যাও কম নয়। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।

ওই সূত্রটি জানান, নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, জেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন। তিনি জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি। মঙ্গলবার রাত থেকে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে বুধবার নিজ বাংলোয় রেস্টে ছিলেন তিনি। বাংলো থেকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন দুপুরে তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠিয়েছে।

অন্যদিকে ওই জেলার করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বুধবার রাত থেকে কোয়ারেন্টাইনে আছেন। একইসঙ্গে জেলা করোনার ফোকাল পারসন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম করোনা সন্দেহে বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন বলে সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন। এ বিষয়টি নিয়ে গোটা জেলায় নানান আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। কেউ কেউ এ বিষয়টিকে সহজে মেনে নিতে পারছেন না।

জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন এবং জেলা করোনার ফোকাল পারসন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বুধবার অফিস করেননি। তবে তাদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে সাড়া পাওয়া গেলেও জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের মোবাইল রিসিভ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজা।

তাছাড়া জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমও বুধবার অফিসে আসেননি। তিনি কোয়ারেন্টাইনে থাকার বিষয়টি পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। তবে কোয়ারেন্টাইনে থাকার বিষয় জানতে চাইলে এসপি জায়েদুল আলম বলেন, আমি সুস্থ আছি। তবে আমি এখন কোয়ারেন্টাইনে নেই।

ডিসি ও সিভিল সার্জন একটু অসুস্থ। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের করোনা সন্দেহ হওয়ায় যেহেতু তার সংস্পর্শে ছিলাম আমরা, তাই বাড়িতে অফিস করছি।এই মুহূর্তে আমাদের সবার সামাজিক দূরত্ব মেনে পরিস্থিতি মোকাবিলা প্রয়োজন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজা বলেন, জেলা প্রশাসক বাড়িতে আছেন। জনসমাগম যাতে কম হয় এ কারণে অফিসে কম সময় দিচ্ছেন তিনি। তবে আমাদের সব কাজ চলছে। করোনার নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তিনি (ডিসি) কাশিসহ অসুস্থ অনুভব করেছিলেন। এ কারণে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে তিনি এখন সুস্থ আছেন।

জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, আমি হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। বাসায় বসে অফিস করছি। টেলিফোনে নির্দেশ দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত ভালো আছি। জেলা করোনার ফোকাল পারসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি আইসোলেশনে আছি। শরীর ভালো না, অসুস্থ। মুঠোফোনে যতটুকু পারছি কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

ঢাকা, ০৯ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।