''দেশকে বাঁচাতে হলে, সুন্দরবন বাঁচাতে হবে''


Published: 2020-02-14 20:29:24 BdST, Updated: 2020-04-02 04:49:04 BdST

ঢাবি লাইভঃ সুন্দরবন আমাদের মায়ের মত,সুন্দরবন না বাঁচলে আমরা বাঁচবো না, আমাদের দেশ বাঁচবে না। সুন্দরবন একটি বিশ্ব ঐতিহ্য, গাছ লাগিয়ে সুন্দরবন তৈরী করা যায় না, এটি বাংলাদেশকেই টিকিয়ে রাখতে হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে সুন্দরবনকে বাঁচানোর দাবিতে এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, গ্রীন ভয়েস এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আলমগীর কবিরসহ অনান্য নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধনে শরীফ জামিল বলেন, ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের কারণে সুন্দরবনের লবনাক্ততা দ্বিগুণে ছড়িয়েছে । যা জীব বৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। আমরা যদি এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ না করি তাহলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে।

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন রক্ষার্থে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), গ্রীন ভয়েস এবং সুন্দরবন রক্ষা কমিটি। মানববন্ধন তারা সুন্দরবন রক্ষার্থে নয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

তাদের দাবিগুলো হলো:
১। উজানের বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে সফল আলােচনার মাধ্যমে সুন্দরবনের জন্য মিঠা পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
২।রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মান কাজ বাতিল করতে হবে।
৩।সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী বা অভ্যন্তরের নির্মাণাধীন ও পরিকল্পিত সরকারী-বেসরকারী সব প্রকল্প ও স্থাপনা নির্মান অবিলম্বে বন্ধ , বাতিল ও অপসারণ করতে হবে।
৪।বনের পাশ ঘেষে বরাদ্দকৃত সকল শিল্প ও আবাসন প্লট বাতিল করতে হবে।
৫।অপরিকল্পিতভাবে গাছকাটা, পশু-পাখী হত্যা ও মাছ ধরা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বনের গাছে অগ্নি সংযােগ এবং বিষ প্রয়ােগে জলজ প্রাণী ও মাছ হত্যা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
৬। সুন্দরবনের মধ্যকার নৌ-চলাচল হ্রাস, নৌ চলাচল হ্রাস, নৌ-দূর্ঘটনা প্রশমন, নদীর তলায় ডুবে থাকা নৌ-যান অপসারণ করতে হবে।
৭। সুন্দরবনে পর্যটক সংখ্যা সীমিত করতে হবে, জলাধার দূষণ ও চিংড়ি চাষ বন্ধ করতে হবে, ও সকল পোল্ডার অপসারণ করতে হবে।
৮। সুন্দরবন-নির্ভর দরিদ্র ও ভাসমান জনগােষ্ঠীর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিক শিক্ষা ও প্রয়ােজনীয় ভিন্ন প্রকৃতির জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে।
৯। বন বিভাগের জনবল বদ্ধি ও তাদের কাজের পরিধি, একাগ্রতা, সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

তারা বলেন, অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে ১৯৯২ সনে সুন্দরবন জাতিসংঘের 'রামসার সাইট'ও ১৯৯৭ সানে ইউনেস্কো মনোনিত অন্যতম 'বিশ্ব ঐতিহ্য' মর্যাদা লাভ করেছে। কিন্তু পরিবেশ বিধ্বংসী সিদ্ধান্তের কারনে আমরা তা হারানোর দারপ্রান্তে পৌচ্ছেছি।

গ্রীন ভয়েসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান বলেন, সুন্দরবন আমাদের মায়ের মত। মা যেমন আমাদের আগলে রাখে তেমনি সুন্দরবন আমাদের মায়ের মত আগলে রাখে। তিনি সরকারকে লোকদেখানো উন্নয়ন বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়নের দিকে নজর দিতে আহবান জানান।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুুমন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আজকে ভালোবাসা দিবস, বসন্ত উৎসব, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিবস হলো সুন্দরবন দিবস। সুন্দরবন কোন গাছ লাগিয়ে বন নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক বন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমদাদুল আজাদ ক্যাম্পাসলাইভ বলেন, আমরা এমন দেশে বাস করি যেদেশে তান্ত্রিক উপায়ে কোন কিছু আদায় করা যায় না। সরকার একের পর এক পরিবেশ বিধ্বংসী সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছে। তারা আজ সুন্দরবনকে ধ্বংসের দারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। আমাদের আজ সুন্দরবন নিয়েও কথা বলতে হচ্ছে।

ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।