‘বিসিএস ক্যাডার’ পরিচয়ে ৬০ বিয়ে, মাস্টার্সের ছাত্রীর কাছে ধরা!


Published: 2019-11-04 20:30:31 BdST, Updated: 2019-12-14 19:15:17 BdST

জামালপুর লাইভঃ আবু বক্কর কোনদিন সরকারি চাকরি করেননি। তবুও তিনি নানা বাহানায় এপর্যন্ত ৬০টি বিয়ে করেছেন। এরজন্য কখনও প্রেমের ফাঁদ আবার কখনও পরিবারের সদস্যদের পটিয়ে তরুণীদের বিয়ে করেছেন তিনি।

নিজের পরিচয় গোপন করে কখনও বিসিএস ক্যাডার, কখনও সরকারি কর্মকর্তা, কখনও ব্যবসায়ী, কখনও ওষুধ কোম্পানিতে চাকরির কথা বলে বিয়ের ফাঁদ পেতেছেন তিনি। তার ওই বিয়ের তালিকায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও রয়েছে।

অবশেষে ৬০তম বিয়ে করতে গিয়ে মাস্টার্সের ছাত্রীর হাতে ধরা খেয়েছেন তিনি। নেত্রকোনার ওই সাহসী ছাত্রীর কারণে বিয়ের নামে প্রতারণার বিষয়টিও ফাঁস হয়েছে। ওই প্রতারকের বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুরে।

জানা যায়, ইসলামপুর উপজেলার সভারচর গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে আবু বক্কর দীর্ঘ দিন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতারণার মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের মিশন শুরু করেন। বিয়ের পরই পাল্টে যায় তার চেহারা।

যৌতুকের নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে পালিয়ে যায় আবু বক্কর নামে ওই প্রতারক। পরে অন্য এলাকায় গিয়ে আবারও প্রতারণরা ফাঁদ পাতেন তিনি। এভাবে একে একে ৬০ টি বিয়ে করেছেন তিনি।

অবশেষে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় মাস্টার্সের এক ছাত্রীকে বিয়ে করে ধরা খেয়েছেন ওই প্রতারক আবু বক্কর। চাকরি নিয়ে সন্দেহ হলে ওই ছাত্রী তার স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। রোববার রাতে পূর্বধলা থানা পুলিশ ইসলামপুর থানা পুলিশের সহায়তায় ওই প্রতারককে আটক করে। পরে পুলিশের কাছে ৬০টি বিয়ের তথ্য প্রকাশ করেন ওই প্রতারক।

পূর্বধলা থানায় ওই ছাত্রীর মামলা সূত্রে জানা গেছে, আবু বক্কর ওরফে চিটার বক্কর ওই ছাত্রীর এক আত্মীয় সাথে এলাকায় যাতায়াত করতো। সে ইনসেপ্টা ফার্সাসিষ্ট জেলা এরিয়া ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত এবং সে অবিবাহিত।

ওই পরিচয় দিয়ে গত আগষ্ট মাসে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করে তার বাড়িতে বসবাস করতে শুরু করে। এ সময় রোজী পরিবারের কাছে বক্কর যৌতুকের ২লাখ টাকা দাবী করেন।

এতে রোজীর পরিবার যৌতুকের টাকা না দিলে প্রতারক বক্কর কৌশলে শ্যালককে ঔষধ কোম্পানীর চাকরি দেওয়ার কথা বলে শশুরের কাছ থেকে নগদ ৮০হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। পরে স্ত্রী রোজীর পরিবার খোজ খবর নিয়ে জানতে পারেন প্রতারক আবুবক্কর ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে বিয়ের নামে প্রতারণা করেছে। পরে স্ত্রী রোজী বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যপারে প্রতারক আবু বক্কর জানায় তার বয়স ৪৫ বৎসর। এ পর্যন্ত সে ৬০টি বিয়ে করলেও তিনি ৭ সন্তানের জনক। শুধু টাকার লোভে তিনি বিয়ে করেছে। টাকা পেলেই স্ত্রীকে ফেলে অন্য স্থানে বসবাস শুরু করতেন।

তিনি আরো জানান বিভিন্ন নাম ঠিকানা ব্যবহার করে বিয়ে করলেও সে নিজ উপজেলা ইসলামপুরের ঠিকানা কখনই ব্যবহার করতেন না। বর্তমানে নিজ বাড়ীতে প্রথম স্ত্রী সাজেদা বেগম সহ দুই স্ত্রীর সাত সন্তান রয়েছে।

ঢাকা, ০৪ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।