পুলিশের মারধরের শিকার আবরারের ভাইয়ের আক্ষেপ ফেইসবুকে!


Published: 2019-10-09 22:02:53 BdST, Updated: 2019-11-13 12:42:28 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফায়াজকে পিটিয়েছে পুলিশ। ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে বুয়েট ভিসি সাইফুল ইসলাম ফাহাদের বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে বাঁধা দেন গ্রামবাসী।

এ সময় গ্রামবাসীর বিক্ষোভের মুখে ভিসি ফাহাদের বাড়ি যেতে পারেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এগিয়ে আসে। এতে গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় আবরারের ছোট ভাই ফায়াজ ছাড়াও তার ফুপাতো ভাইয়ের স্ত্রী ও আরও একজন নারী আহত হন।

বুধবার বিকালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় রায়ডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এর পর রাতে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অ্যাডিশনাল এসপিকে নিয়ে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি লেখেন,

Caption

 

''আজকে Additional SP (উনি বলেন উনার নাম মোস্তাফিজুর রহমান) কোথা থেকে সাহস পায় আমার গায়ে হাত দেয়ার?

আমার ভাবি কে মারছে? নারীদের গায়ে নিষ্ঠুরভাবে হাত দেয়? এই চাটুকারদের কি বিচার হবে না? তিনি কালকে ২ মিনিটে জানাজা শেষ করতে বলেন কিভাবে? যেই ছাত্রলীগ মারল তারা কেন সর্বত্র?

আমার বাবাকে হুমকি দেয়া হয়েছে আপনার আর এক ছেলে ঢাকা থাকে আপনি কি চান তার ক্ষতি হোক..... গ্রাম-এ বলা হয়েছে কেউ কিছু করলে ১ সপ্তাহ পর গ্রামের সব পুরুষ জেলে থাকবে।

বিচার চাই...আমি বিচার চাই..... নয়তো আমাকে মেরে ফেলুন বাবা-মা কষ্ট একবারে পাবে।''

এদিকে ফায়াজ জানান, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান তার হাতের কনুই দিয়ে আমার বুকে আঘাত করেন এবং যেদিন আমার ভাইয়ের জানাজা হয় সেদিন জানাজার নামাজ দুই মিনিটের মধ্যে শেষ করতে বলেন।

এডিশনাল এসপি মোস্তাফিজুর রহমান এছাড়া সেখানে জানাযার নামাজের সময় আমার ভাবি সেখানে উপস্থিত ছিল তিনি আমার ভাবিকে পুলিশ দিয়ে মারছেন। পুলিশ আমার ভাবির শ্লীলতাহানি করেছে। এটা বাংলাদেশের কোন ধরনের পুলিশ।

আবরার ফায়াজ

 

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জেরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়।

এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা। তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন। এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

যার মধ্যে ১০জনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এদিকে আবরার খুনের পর তার লাশ দেখতে যাননি বুয়েট ভিসি। এনিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আবরার হত্যার বিচারের পাশাপাশি এবার তারা বুয়েটের ভিসিরও পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে রয়েছেন।

ঢাকা, ০৯ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।