মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে শামীম-খালেদমন্ত্রী-এমপি, নেতাসহ অনেকেই জুয়ার সেলামি পেতেন!


Published: 2019-09-29 19:47:38 BdST, Updated: 2019-10-21 16:37:14 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ সবাই পেতেন জুয়ার টাকা। ওই সেলামি যেত মন্ত্রীর, এমপির বা নেতার কাছের মানুষের মাধ্যমে। তবে কার কাছে কত টাকা যেত সেকথাটি স্পস্ট করে বলেনি খালেদ ও শামীম। এ ক্ষেত্রে পুলিশ ও অন্যান্য আইন রক্ষাকারীবাহিনীর বিষয়টিও রাখা হয়েছে আড়ালে। রাজধানীর টেন্ডারবাজি ও ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের তিন মূর্তিমান আতঙ্ক জি কে শামীম, খালেদ ও কালা ফিরোজকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‌্যাব।

অনেক নতুন তথ্য মিলেছে। ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাজি করে তারা কত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন- সে বিষয়ে একটা তালিকা করা হচ্ছে। টেন্ডারবাজি ও ক্যাসিনোর টাকার কমিশন কারা পেতেন- সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনেকের নাম বলেছেন। কমিশন নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বেশকিছু সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী-এমপির নাম রয়েছে। এরা সমাজের খুবই প্রভাবশালী। এরা দেশ পরিচালনার সঙ্গে জড়িত।

তাদের তালিকায় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতাদের নামও রয়েছে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এই মামলাগুলো পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নেই। তাই মাঝে মধ্যেই বিএনপির এসব নেতা জি কে শামীম ও ল্যাংড়া খালেদের কাছ থেকে টাকা নিতেন। দুবাইয়ে আত্মগোপন করা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে খালেদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকার তথ্যও মিলেছে। তার সঙ্জিগে নিয়মিত যোগাযোগ করে অনেক যুবককে ভাগিয়েছেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন ‘ আমরা তাদেরকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। অনেক বিষয় নিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে। তিনি বলেন এরা পেশাদার টেন্ডারবাজ। সমাজের উচুঁ শ্রেণীর সঙ্গে ওদের রয়েছে শখ্যতা।

মোস্ট ওয়ানটেড ক্রিমিনিাল জিসানের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল খালেদের। তিনি প্রায় প্রতিদিনই তার সঙ্গে কথা বলতেন। নিতেন বিভিন্ন পরামর্শ । সূত্র জানায়, উত্তরা র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে যুবলীগের নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া ওরফে খালেদ, জি কে বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী জি কে শামীম এবং কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ওরফে ফিরোজ আলমকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছেন। তাদের তথ্য শুনে চমকে যাচ্ছেন কর্মকর্তারা। খালেদ তার অস্ত্র ভান্ডারের ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে। তবে তার কাছে একে-২২ রাইফেল থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে উদ্ধার হওয়া দুইটি একে-২২ রাইফেল তার নয় বলে জানিয়েছেন। বলেছেন

জানা গেছে, বছরখানেক আগে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট খালেদকে দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করেন। এর জের ধরে তাদের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়। সম্রাটের সন্দেহ ছিল, সিঙ্গাপুরের ম্যারিনা বে স্যান্ডস হোটেলে খালেদ ও জিসানের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। জিসান ঢাকার ক্যাসিনোর চাঁদাবাজির কমিশন হিসাবে সম্রাটের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। এর জের ধরে সম্রাট খালেদকে বহিষ্কার করে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ এসব তথ্য জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

খোঁজ নেই সম্রাটের:
যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে গত দুই দিন ধরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানা গেছে। দলীয় শীর্ষ নেতাদের ধারণা সম্রাট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরবন্দিতে আছেন অথবা আত্মগোপন করেছেন। সম্রাট এখন দল থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন।

তার সঙ্গে দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীরই যোগাযোগ নেই। সম্রাটের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোই এখন ভালো বলতে পারবে। তবে সম্রাট কোথায় আছেন- সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সংস্থাই এখনো পর্যন্ত খোলাসা করে কিছু বলছেন না।

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভুঁইয়াকে তেজগাঁও থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলায় ২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এ ব্যাপারে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, তেজগাঁও থানা হেফাজতে রেখে লোকমান ভুঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকেও মিলেছে অনেক তথ্য। ওই তথ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।