দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের পাশের হার ৭১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।


Published: 2019-07-17 16:38:09 BdST, Updated: 2019-08-19 08:17:04 BdST

দিনাজপুর লাইভ: দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৯ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। গড় পাশের হার ৭১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এবারে পাশের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যা দু’টোই বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় বোর্ডের নিজস্ব মিলনায়তনে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তোফাজ্জুর রহমান সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ২০১৯ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৭৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ২৪ হাজার ৩১৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৯ হাজার ২৩৩জন।

অকৃকার্য হয়েছে ৩৫ হাজার ৮২ জন পরীক্ষার্থী। গড় পাশের হার ৭১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০৪৯ জন। ছাত্রদের পাশের হার ৬৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ ও ছাত্রীদের পাশের হার ৭৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অন্যান্য মত এবারের মত ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাশের হার বেশী। এবারে শতভাগ পাশ করেছে ২০টি কলেজ। যা গতবারে ছিল ১৪টি। তবে শূন্য ফলাফল অর্থাৎ একজনও পাশ করেনি এমন কলেজের সংখ্যা কমে হয়েছে ৭টি। যা গতবার ছিল ১২টি।

বিজ্ঞান বিভাগে অংশগ্রহণকারী ২৮ হাজার ২৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ন হয়েছে ২২ হাজার ৭৭৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৪৪০ জন। বিজ্ঞান বিভাগে গড় পাশের হার ৮০.৬১ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ৮০ হাজার ৪৩৫ জনের মধ্যে ৫৫ হাজার ৮২৫ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ন হয়েছে। মানবিক বিভাগে গড় পাশের হার ৬৯.৪০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭৫ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৫ হাজার ৬২৬ জনের মধ্যে উত্তীর্ন হয়েছে ১০ হাজার ৬৩৩ জন। গড় পাশের হার ৬৮.০৫ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১৩৪ জন।

বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে গড় পাশের হার ৭১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তিন বিভাগে ছাত্রদের গড় পাশের হার ৬৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ ও ছাত্রীদের পাশের হার ৭৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

ফলাফল প্রকাশ করে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান জানান, এবারে গতবারের তুলনায় ফলাফল ভাল হয়েছে। এবারে মোট অকৃতকার্য হয়েছে ৩৫ হাজার ৮২ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে শুধু ইংরেজিতেই অকৃতকার্য হয়েছে ২৯ হাজার ৩৮ জন পরীক্ষার্থী। আশা করি আগামীতে আরো ভাল ফলাফল উপহার দিতে পারবো। তিনি বলেন, এবারে ৭টি কলেজ থেকে কেউই পাশ করতে পারেনি। এসব কলেজের বেশীর ভাগই ননএমপিওভুক্ত। যেসব কলেজ থেকে কেউই পাশ করতে পারেনি, কোন কারণ দর্শানো ব্যতিরেকেই সেসব কলেজ বন্ধ করে দেয়ার কথা জানান তিনি।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান আরো জানান, দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৮টি জেলার ১৯৯টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬৫৩টি কলেজ এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে শূন্য থেকে ১০ভাগ পাশকৃত কলেজের সংখ্যা ৩টি, শতভাগ পাশকৃত কলেজের সংখ্যা ২০টি, ১০-৫০ ভাগ পাশকৃত কলেজের সংখ্যা ১৩৭টি ও ৫০-৯৯ ভাগ পাশকৃত কলেজের সংখ্যা ৪৯১টি।

বিগত ৬ বছরে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলঃ বিগত ৬ বছরে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল নিম্নরুপ-২০১৩ সালে ৮৮ হাজার ৪৪৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৬৩ হাজার ৬৭৯ জন। পাশের হার ছিল ৭১.৯৪ ভাগ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩৪৩৩ জন। ২০১৪ সালে ৯৭ হাজার ৩৩ পরীক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হয় ৭১ হাজার ৯৪০ জন ও গড় পাশের হার ছিল ৭৪.১৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৪৭৪ জন।

২০১৫ সালে ৮৮ হাজার ৯৮৮ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৬২ হাজার ৬৭১ জন পরীক্ষার্থী এবং পাশের হার ছিল ৭০.৪৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৩৯৫ জন। ২০১৬ সালে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৭২ হাজার ৮২৯ এবং পাশের ছিল ৭০.৬৪ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩৮৯৯ জন। ২০১৭ সালে ১ লাখ ৫ হাজার ৪শ’ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৬৮ হাজার ৯৭২ জন। গড় পাশের হার ছিল ৬৫.৪৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৯৮৭ জন ও ২০১৮ সালে ১ লাখ ১৯ হাজার ৫০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৭১ হাজার ৯৫১ জন। গড় পাশের হার ছিল ৬০.২১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২২৯৭ জন।

ফলাফল ঘোষনা করার সময় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আব্দুর রাজ্জাক, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. হারুনুর রশিদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আজিজুল হক শাহ, সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম রব্বানীসহ শিক্ষা বোর্ডের অন্যান্য কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরে শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠার পর এটি এ বোর্ডের অধীনে এগার বারের মত এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঢাকা, ১৭ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪কম)//আরএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।