যে কারণে ৮০০ হাঁস কিনে দেবে ছাত্রলীগ


Published: 2019-06-11 17:30:15 BdST, Updated: 2019-08-18 23:59:47 BdST

নেত্রকোনা লাইভঃ সেই প্রতিবন্ধীকে ৮০০ হাঁস কিনে দেবে ছাত্রলীগ। এমনটি বলেছেন নেতারা। তারা বলছেন প্রতিবন্ধির দিকে লক্ষ্য রেখেই কেন্দ্রীয় সংগঠন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এলাকায় শ্রুতি আছে এই হাস হাঁস বিষ দিয়ে মারার পেছনে ছাত্রলীগের কয়েকজন জড়িত রয়েছে। এখনও পুলিশ এ ব্যাপারে নিশ্চিত ভবে কিছু বলছে না।

প্রসঙ্গত নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার শারীরিক প্রতিবন্ধী আবুল কাশেমের ৪১৩টি হাঁস বিষ দিয়ে মেরে ফেলে দুর্বৃত্তরা। রোববার বিকেলে উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের ছবিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এনিয়ে এলাকায় বিভিন্ন গুজব রয়েছে।

জানা গেছে এসব হাঁসের দেয়া ডিমের উপার্জনে শারীরিক প্রতিবন্ধী আবুল কাশেম সংসার চালাতেন। মরে যাওয়া হাঁসের বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা ছিল। কিন্ত এখন তার মাথায় হাত। হাঁসের খামারের মালিক আবুল কাশেম বলেন, রোববার সকালে প্রতিদিনের মতো আমার ১৭০০ হাঁসকে হাওরের পরিত্যক্ত খাবার খেতে ছাড়া হয়েছিল।

তখন বাড়ির খামার থেকে বেরিয়ে পাশেই অন্যের একটি পরিত্যক্ত ধানক্ষেতে কিছুক্ষণ খাবার খায় অধিকাংশ হাঁস। খাবার খাওয়ার কয়েক মিনিট পরই হাঁসগুলো মারা যেতে শুরু করে। আমার ধারণা ওই ধানক্ষেতে কেউ শত্রুতা করে বিষ দিয়ে রেখেছিল।

এজন্য হাঁসগুলো এক এক করে মারা যায়। এ ঘটনার পর বিষয়টি তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানান আবুল কাশেম। ওই সংবাদ নজরে আসে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের। এ অবস্থায় খামারি আবুল কাশেমের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খামারি আবুল কাশেমকে ৮০০ হাঁস কেনে দেয়ার কথা জানানো হয়। খামারি আবুল কাশেমকে ৮০০ হাঁস কেনে দেয়ার কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের ছবিলা গ্রামের হতদরিদ্র আবুল কাশেম।

শারীরিক প্রতিবন্ধী কাশেম ভাই কায়িক শ্রমের কাজ করতে পারেন না বলেই মোটা সুদে ঋণ নিয়ে হাঁসের খামার করেছিলেন ভাগ্য ফেরানোর আশায়। বিধি বাম। দুর্বৃত্তদের প্রয়োগ করা বিষে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তার বেঁচে থাকার অবলম্বন প্রায় ৮০০ হাঁস।

আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পরিবার অসহায় আবুল কাশেম ভাইয়ের পাশে দাঁড়াব। সারা দেশের লাখো লাখো ছাত্রলীগ কর্মীর মাঝে আমরা ৮০০ কর্মী যদি একটি করে হাঁসের দায়িত্ব নিই, কাশেম ভাইয়ের পরিবার আবার বাঁচার অবলম্বন পাবে।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি আজ কথা বলেছি তার সঙ্গে।

আমরা সবাই মিলে কাশেম ভাইয়ের পাশে থাকব। দ্রুত ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাকে ৮০০ হাঁস কেনে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।’ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এই আশ্বাস দেন।

তার কাছ থেকে হাঁস কেনে দেয়ার আশ্বাস পেয়েছেন জানিয়ে খামারি আবুল কাশেম। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ নেতা রাব্বানী আমাকে ফোন দিয়েছেন। তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে হাঁস কেনে দেবেন বলেছেন।

নেত্রকোনা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়জুর মুর্শেদ খান অমি বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ফেসবুকে বিষয়টি আমি দেখেছি। এমন একটি কাজ করতে পারলে খুব ভালো লাগবে আমাদের।

ছাত্রলীগ ইতোপূর্বে এমন ধরনের কাজ করেছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আমরা আবুল কাশেমকে হাঁস কেনে দেয়ার ব্যবস্থা করব। তার পাশে আছি। আর ওই ন্যাক্কার জনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর প্রভাব পড়েছে।

ঢাকা, ১১ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।