গাইবান্ধায় অভাবে সন্তান বিক্রি করছেন মা-বাবারা!


Published: 2019-06-06 15:37:58 BdST, Updated: 2019-06-18 05:32:01 BdST

গাইবান্ধা লাইভ: হায়রে অভাব। হায়রে মা। হায়রে বাবা। এতই সমস্যা। অবশেষে মাত্র ৫০ হাজার তাদের সন্তান বিক্রি করে দেন। এনিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আলোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই ওই বাবা- মাকে দেখতে তাদের বাড়িতে আসছেন। বলছেন কেমন পাষান ওই মা-বাবা।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দা ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। রাজবাড়ি গ্রামের হাবিল মিয়া অভাবের তাড়নায় মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে নিজের সন্তানকে তুলে দেন এক বিত্তবান পরিবারের হাতে। পরে সন্তান বিক্রির টাকা দিয়ে কেনেন বসতভিটা। এনিয়ে তাদের স্বজনদের সঙ্গে চলছে দ্বন্দ।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, একই উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের উত্তর ধর্মপুর গ্রামের ভূমিহীন আশরাফুল ইসলাম অভাবের কারণে তিন বছর ও দু’বছর আগে দুই মেয়েকে সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেন। সামাজিক গণমাধ্যমেও এনিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

হাবিল মিয়া কান্নাভেজা কণ্ঠে ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ‘আমি চলতে পারি না, গরিব মানুষ। জায়গা জমি নাই। মানুষের জায়গায় থাকি, সেখানে থাকতেও দেয় না। বাচ্চাটাকে বিক্রি সেই টাকা দিয়েই ভাতিজার কাছ থেকে বসতভিটার জায়গাটা কিনেছি।’

আমি এলাকার নেতাদের কাছে বার বার গেছি। অনুরোধ করেছি। বলেছি আমি অসহায়। কিছুই করতে পারছি না। আমাকে সাহায্য করেন। কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এদিকে সন্তান বিক্রেতা আশরাফুল বলেন, আমার দু’বার করে যমজ সন্তান হয়েছে। তাদের আমি পালতে পারিনি। অভাবের কারণে দুটো বাচ্চা বিক্রি করে দিয়েছি। একটাকে বিক্রি করে পেয়েছি ৫ হাজার টাকা, অন্যটির বেলায় পেয়েছি ১৫ হাজার টাকা। এই টাকায় সংসারে অনেক উপকার হয়েছে।

উত্তর ধর্মপুর গ্রামবাসীর অভিযোগ, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দুর্গম এলাকায় অভাবের সাগরে হাবুডুবু খাওয়া অনেক মানুষের পাশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বা সরকারি কেউ দাঁড়ায় না। স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানরা টাকা ছাড়া কারো উপকার করেন না। মানুষ খুবই বিপদ গ্রস্ত।

রাজবাড়ি গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, ভোটের সময় চেয়ারম্যান, মেম্বার, এমপিরা আসেন ভোট চাওয়ার জন্য। কিন্তু ভোট শেষে কেউ আর খোঁজ নেন না। তাদের কাছে টাকাই বড় যোগ্যতা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধর্মপুর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের আসনের এমপি শামীম হায়দার পাটোয়ারী বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতে দেশের উন্নয়ন নিয়ে বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু এই সব মানুষের কাছে কখনও আসেন না ভালো মন্দের খোঁজ নিতে।’ কোন খবর নেই। কেবল কথার ফুলঝুড়ি।

তবে বিষয়টি জানার পর গাইবান্ধ-৫ সুন্দরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, পরিবার দুটিকে সার্বিক সহযোগিতা করব। তাদের অর্থনৈতিক সকল সহযোগিতা করা হবে। আমরা কাউকে এই পথে উদ্বুদ্ধ করতে পারি না। শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র জাগো নিউজ

ঢাকা, ৬ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।