মেধাবী ছাত্র আয়াতকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন!


Published: 2018-12-04 14:50:02 BdST, Updated: 2018-12-13 06:41:49 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: এ্যাপ্লাস্টিক এ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার মেধাবী ছাত্র পিতৃহীন (এতিম) ইখতিয়ার হোসেন আয়াতকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। হাতিয়ার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশা ও সংগঠনের দানের টাকায় আয়াতকে সম্প্রতি ভারতের ভেলোর সিএমসি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

আয়াতকে সুস্থ করার জন্য প্রয়োজন ২০ লক্ষ টাকা। আয়াতকে বাঁচাতে আপনিও এগিয়ে আসুন। আমরা সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসি (এবং যদি সৃষ্টিকর্তা সহায় হোন) তাহলে এই মেধাবী ছাত্রকে অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারি।

আমাদের চোখের সামনে একটি ফুটফুটে গোলাপের জীবন প্রদীপ এভাবে নিভে যেতে দিতে পারি না! আয়াতের পরিচয়: ইখতিয়ার হোসেন আয়াত (বয়স: ১৯), পিতা: মৃত শফিকুল মাওলা, গ্রাম: জোড়খালী, ইউনিয়ন: বুড়িরচর, উপজেলা: হাতিয়া, জেলা: নোয়াখালী।

ঢাকার সামছুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৬ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৫.০০ এবং ঢাকা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ বছর (২০১৮) এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৯২ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

খুব ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে আত্মীয় স্বজনের সহায়তা এবং বড় ভাইয়ের টিউশনি করা টাকায় লেখাপড়া করেছে আয়াত। কৃতিত্বের সাথে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু জীবনের যে ধাপে এসে আজন্ম
লালিত স্বপ্নগুলোকে সত্যি করার কথা ঠিক সে ধাপেই এসে ভাগ্যের নিদারুণ নিষ্ঠুরতার শিকার হয় স্বপ্নবাজ, ছটফটে ও মেধাবী আয়াত!

এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে তার শরীরে জন্ডিস ধরা পড়ে। কিছুদিনের মধ্যে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে তার জন্ডিসের চিকিৎসা শুরু হলেও দীর্ঘ ৩ মাস পরেও কোন উন্নতি লাভ করেনি। বরং দিনদিন
অবনতি হতে থাকে এবং শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায় আয়াত। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের গ্যাস্ট্রোলজি বিভাগে ভর্তি করানো হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিভিন্ন মেডিকেল টেস্টের মাধ্যমে ডাক্তাররা ভাইরাস ধরতে না পারায় ভারত থেকে কিছু টেস্ট করে আনান যাতে আয়াতের শরীরে দূরারোগ্য ‘এ্যাপ্লাস্টিক এ্যানিমিয়া’ ধরা পড়ে। (রোগের
নাম না জানায় আমরা আগে এটাকে বোনমেরুর রোগ বলেছি। মূলত এ রোগের চিকিৎসা হলো বোনমেরু ট্রান্সপ্লান্ট করা)।

এ্যাপ্লাস্টিক এ্যানিমিয়ার ফলে আয়াতের শরীরের রক্ত উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এটা থ্যালাসেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সারের সমগোত্রীয় দূরারোগ্য ব্যাধি। এ্যাপ্লাস্টিক এ্যানিমিয়া ধরা পড়ার পর যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে আয়াতের স্বজন ও শুভাকাংখীদের মাথার উপরে।

স্বপ্নের পৃথিবীটা নিমিষেই নিকষ কালো আঁধারে ঢেকে যায়। আয়াতের বড় ভাইয়ের ছোট্ট একটি চাকরির টাকায় পরিবারটি যখন একটু গুছিয়ে উঠছিল ঠিক তখনই এই দু:সংবাদ তাদেরকে যেন একেবারেই সাগরে ভাসিয়ে
দিল!

এ্যাপ্লাস্টিক এ্যানিময়ার জন্য মোটামুটি ভাল চিকিৎসা হলো বোনমেরু ট্রান্সপ্লান্ট। যেটা বাংলাদেশে এখনো চালু হয় নি। ভারতে বোনমেরু ট্রান্সপ্লান্ট করার সর্বনিম্ন খরচ ১০-১২ লক্ষ টাকা। তবে হাসপাতালবেদে এ খরচ ২০-২২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

কিন্তু পিতৃহীন আয়াতের পরিবার এত টাকা কোথায় পাবে? তাই প্রথমদিকে ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তারদের কিছুটা আশ্বস্তির প্রতি ভরসা রেখে তাদের অধীনে ‘ওরাল চিকিৎসা’ চলতে থাকে এবং আয়াতের শরীরে নিয়মিত রক্ত সরবরাহ অব্যাহত থাকে। কিন্তু ওরাল চিকিৎসা চলার পর থেকে আয়াতের অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে।

এমতাবস্থায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ পরামর্শ দেন যতদ্রুত সম্ভব আয়াতকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আয়াতকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধীনে আয়াতের জন্য প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা করে খরচ হচ্ছিল।

কিন্তু তাতে আয়াতের কোন উন্নতিতো হয়নি; বরং অবনতি হতে থাকে। তাই আয়াতের পরিবার ও ঢাকাস্থ হাতিয়ার ছাত্র-ছাত্রীদের সংগঠন হাতিয়া ছাত্র ফোরাম ঢাকা মানুষের ভালবাসার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও মহান আল্লাহর উপর ভরসা রেখে আয়াতকে ভারতের ভেলোর সিএমসি হাসপাতালে নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

গত ২৫ নভেম্বর আয়াতকে ভারতের সিএমসি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে গত ২৭ নভেম্বর সিএমসি হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. বিজু জর্জের অধীনে চিকিৎসাধীন আছেন আয়াত। বিজু জর্জ প্রদত্ত সকল টেস্টগুলো করানো হয় ২৮ নভেম্বর।

যার রিপোর্ট ৪ঠা ডিসেম্বর দেয়ার কথা। রিপোর্টের উপর আয়াতের পরবর্তী শারীরিক অবস্থা বুঝা যাবে। আয়াতের জন্য কী ধরণের চিকিৎসা প্রয়োজন হবে তা জানা যাবে। ইতিমধ্যে ডাক্তার আয়াতের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য তিনটি চিকিৎসার কথা বলেছেন।

বোনমেরু ট্রান্সপ্লান্ট ছাড়া বাকী ২টি চিকিৎসা কিছুটা সহজলভ্য আছে। কিন্তু যদি বোনমেরু ট্রান্সপ্লান্ট করতে হয় সেটা পুরোপুরি অসম্ভব হয়ে যাবে আয়াতের পরিবার ও সংশ্লিশষ্টদের জন্য, যদি না দেশের বিত্তবান মানুষগণ সাহায্যের হাত বাড়ান।

ভারতের ভেলোর সিএমসি হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায় ‘এ্যাপ্লাস্টিক এ্যানিমিয়া’র জন্য বোনমেরু ট্রান্সপ্লান্ট করতে গেলে কমপক্ষে ২০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন।

আর অন্য যে দুটি চিকিৎসা আছে তা ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে সম্ভব হবে। আয়াতের আত্মীয় স্বজন, হাতিয়ার বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রেণী-পেশার মানুষের সহযোগিতায় যে টাকা সংগ্রহ হয়েছে তার প্রায় সবটাই বাংলাদেশে চলা আয়াতের চিকিৎসার পেছনে খরচ হয়ে গেছে। সামান্য কিছু টাকা ছিল যেগুলো দিয়ে আয়াতকে ভারতে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ভারতে যাওয়া, ডাক্তার দেখানো, বিভিন্ন প্রকার টেস্ট করাসহ থাকা-খাওয়া বাবদ প্রায় সবটাকাই শেষ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় যদি বোনমেরু ট্রান্সপ্লান্ট করতে হয় তাহলে ২০ লক্ষ টাকা কোথায় পাবে আয়াতের পরিবার?

নোয়াখালী জেলাসহ দেশের প্রিয় দানশীল-বিত্তশালী-দরদী ভাই ও বোনেরা, ইতিমধ্যে আপনাদের অনেকে আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আয়াতের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আমরা আপনাদের নিকট উদাত্ত আহবান জানাই আসুন আরেকবার আয়াতের পাশে দাঁড়াই! আসুন নিজেরা সাধ্যমত আয়াতের জন্য সাহায্য করি।

পাশাপাশি আমাদের পরিচিত দানশীল বিত্তবানদেরকে আয়াতের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের হাত বাঁড়িয়ে দেয়ার আহবান জানাই। এবং যত বেশী সম্ভব অনলাইনে- অফলাইনে এই নিউজটি কপি, শেয়ার ও প্রচার করি।

আয়াতের বিষয়ে যোগাযোগ ও আয়াতের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:
মো: তাফসীর হোসেন (আয়াতের বড় ভাই)।
যোগাযোগ: ০১৭৭৯-৫৬৯১৭৭, ০১৯৫০-৭১৯৯৫০, ০১৯২০-৪০০৯৮১।
বিকাশ পার্সোনাল: ০১৯৫০-৭১৯৯৫০, ০১৭৭৫-৮৪৯৬২৮।
রকেট পার্সোনাল: ০১৭৯১-৯১৫৬৮০৯।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড হিসাব নং- ২৫৯৫১ (যাত্রাবাড়ী শাখা)।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড অনলাইন হিসাব নং- ২০৫০২০৪০২০২৫৯৫১১৬ (১৭ ডিজিট)।

আসুন সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসি: প্লিজ, দয়া করে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসি। আমার একটু লেখনি, একটু এগিয়ে আসা, একটু কথা বলা, একটু পাশে দাঁড়ানো আয়াতকে নতুন জীবন দিতে পারে!

পাশাপাশি আমার দান, ছোট্ট একটু সদিচ্ছা, গুরুত্ব দেওয়া, সামান্য কষ্ট অনুকরুণীয় হয়ে থাকবে আরো অনেকের জন্য! আজ আমরা অন্যের বিপদে এগিয়ে আসলে আরেকদিন আমাদের বিপদেও অন্যরা এগিয়ে
আসবে।

প্রার্থনা: সর্বোপরি মহান আল্লাহ আয়াতকে সুস্থ করে দিন, আয়াতের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সুব্যাবস্থা করে দিন এবং আমাদের সকলকে সকল প্রকার বিপদ-আপদ-মুসিবত থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

 


ঢাকা, ০৪ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।