তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনায় যা আছে (বিস্তারিত)


Published: 2018-12-04 01:45:58 BdST, Updated: 2018-12-13 06:08:54 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্মে গঠিত ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে সোমবার। একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে ওই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। ইশতেহারে যা রয়েছে :

বেকারত্ব নিরসনে কর্মসংস্থান

(ক) তরুণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন শেষে উপার্জনমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা। যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মের নিশ্চয়তা প্রদান করা এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অধিক হারে কর্মসংস্থান তৈরী ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

(খ) বেকার তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে সহজ শর্তে ন্যূনতম ৫ লাখ টাকার ঋণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রশাসনিক কাজের ভোগান্তি কমাতে “ঙহব উবংশ ঝবৎারপব”চালু করা।

(গ) অধিক সংখ্যক তরুণদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নতুন ও যুগোপযুগী নতুন পদ সৃষ্টির ব্যবস্থা করা।

(ঘ) ২০১৭ সালের যুবনীতি মাধ্যমে জানা যায়, যুব মন্ত্রণালয় সহ তরুণদের উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট ১৬টি মন্ত্রণালয় তরুণদের জন্য কাজ করে। সবগুলো মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যবস্থা করা।

(ঙ) প্রতি জেলা ও উপজেলায় তরুণদের কর্মমুখী করার লক্ষ্যে "কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র" স্থাপন করা।উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননাও স্বীকৃতি প্রদানের কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা। বেকার তরুণদের উদ্যোক্তা করার প্রয়াসে বেসরকারি ঋণ প্রদান করার ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করার উদ্যোগ গ্রহণ করা।

(চ) প্রশাসনের বর্তমান খালি পদগুলো দ্রæত সময়ের মধ্যে নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা।প্রশাসনিক জটিলতা, ঘুষ-দুর্নীতি ও রাজনৈতিক পোষকতামুক্ত বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।

চাকরির নিয়োগ ব্যবস্থা :

(ক) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে যৌক্তিকতার ভিত্তিতে প্রচলিত কোটা ব্যবস্থার সংস্কার করা।নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল লিখিত ও অলিখিত বৈষম্য দূর করা এবং সকলের জন্য অভিন্ন বয়সসীমা নির্ধারণ করা।

(গ) সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের চাকরির আবেদন ফি সম্পূর্ণ ফ্রি করে দেওয়া।

(ঘ) নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরসহ ফলাফল প্রকাশ করা। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ১০ দিন এবং লিখিত পরীক্ষার ৯০ দিনের মধ্যে ফলপ্রকাশের ব্যবস্থা করা। বিসিএস পরীক্ষার মৌখিক নম্বর কমিয়ে সর্বোচ্চ ৫০ নির্ধারণ করা।

(ঙ) বড় নিয়োগ পরীক্ষাগুলো বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের মত বিভাগীয় শহরগুলোতে নেওয়ার ব্যবস্থা করা। সরকারি কর্ম কমিশনের কর্ম ক্ষমতা বাড়াতে জনবল বৃদ্ধি করে সরকারি সকল চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আনা। প্রয়োজনে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে আলাদা বোর্ড গঠন করা।

(চ) নিয়োগের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাইয়ের নামে অযথা হয়রানি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।

(ছ) সরকারি চাকরি আইনের আলোকে “বেসরকারি চাকরি আইন” প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা।

(জ) নিয়োগ পরীক্ষার প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তন, পরিবর্ধন,উন্নয়ন বা নতুন পদ্ধতি প্রণয়নে আধুনিক বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা।

শিক্ষা ও গবেষণা :

(ক) প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে শিক্ষাকে আধুনিক, বাস্তব ও কর্মমুখী করার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও কারিগরী শিক্ষার প্রতি জোর দিয়ে অধিক সংখ্যক মানসম্মত, উন্নত, আধুনিক,বিজ্ঞান ও কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা।

(খ) কারিগরী, বাস্তবমুখী ও বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে দেশী–বিদেশী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রস্তুত করা।

(গ) শিক্ষা খাতে জিডিপি'র (এউচ) ৬ শতাংশ বা জাতীয় বার্ষিক বাজেটের ২০% বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং শিক্ষা, কৃষি, এবং বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি খাতের বার্ষিক বাজেটের মোট বরাদ্দের ১০% গবেষণা খাতে অবশ্যই রাখার ব্যবস্থা করা।

(ঘ) সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে সমৃদ্ধ, আধুনিক ও বিনোদনমুখী লাইব্রেরি স্থাপন করা। জেলা ও উপজেলায় লাইব্রেরি স্থাপন করা এবং ইতোপূর্বে স্থাপন করা লাইব্রেরি গুলোকে সমৃদ্ধ, উন্নত,মানসম্মত ও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর করে সামষ্টিক মানোন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা।

(ঙ) শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আলাদা আলাদা ভাবে না নিয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল, কৃষি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ করে এই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করা।

(চ) প্রকৃত দরিদ্র, অস্বচ্ছল, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সরকারিভাবে উপযুক্ত হারে বৃত্তির ব্যবস্থা করা এবং সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলকভাবে চালু করার ব্যবস্থা করা।

(ছ) শিক্ষার মানোন্নয়নের সাথে সাথে “প্রশ্নফাঁস বিরোধী সেল” গঠন এবং প্রশ্নফাঁস রোধে কার্যকর আইন প্রণয়ন করা। একই সাথে সর্বোচ্চ মহলে জবাবদিহিতা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করণের উদ্যোগ গ্রহণ করা।

(জ) শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা। সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ করা। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোকে ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভাগ করে সরকারিভাবে শিক্ষা ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা।

(ঝ) মেধাপাচার রোধে মেধাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, যথার্থ মূল্যায়ন ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। দক্ষ জনশক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বিদেশি পেশাজীবীদেরও আকর্ষণ করার চেষ্টা করা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক :

(ক) সকল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা এবং জাতীয় রাজনীতিতে যোগ্য ও আদর্শ নেতৃত্ব তৈরি করার লক্ষ্যে অবশ্যই প্রতিবছর "ছাত্র সংসদ নির্বাচন" আয়োজনের ব্যবস্থা করা।

(খ) বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসনের কৃত্রিম সংকট দূর করে আবাসন সমস্যার সমাধান করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলের সংখ্যা (বিশেষ করে মেয়েদের হল) বৃদ্ধি করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাবতীয় তথ্যাবলির ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা।

(গ) ছাত্ররাজনীতির নামে আবাসিক হলগুলোতে সিট বাণিজ্য, জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ও শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং আবাসিক হলের আসন বরাদ্দ রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করে হল প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।

(ঘ) বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের ১০% গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা। যার ৬% শিক্ষক ও ৪% ছাত্রদের জন্যে বরাদ্দ থাকবে এবং বাজেট ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশি মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ গবেষণার ব্যবস্থা করা।

(ঙ) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলার লক্ষ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানের সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগগ্রহণ করা।

(চ) শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে নতুন বেতন কাঠামোতৈরি করা।

(ছ) উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেমেধাবী ও যোগ্য শিক্ষক নির্বাচনে একাডেমিক ফলাফল, গবেষণা কর্ম বা পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়া নিয়োগ প্রদান না করা। শিক্ষকদের পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা নির্ধারণে গবেষণা কর্মের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানসহ শিক্ষকতায় সার্বিক দক্ষতাকে বিবেচনা করা।

(জ) দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর খাবারের মানোন্নয়ন বৃদ্ধি ও তার মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখাসহ পর্যাপ্ত ভর্তুকি দেওয়া।

(ঝ) বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসগুলোকেমাদক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস-দখলদারিত্বমুক্ত করে গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে শিক্ষাঙ্গনগুলোর নিরাপত্তার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সেল গঠন করা।

যুব অ্যাসেম্বলি : যুব সমাজকে গণতান্ত্রিক পরিবেশে উন্নত নাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠার সুযোগ করে দিতে এবং দেশ গঠনে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে উন্নত বিশ্বের ন্যায় প্রতি বছর"যুব অ্যাসেম্বলি" এর আয়োজন করা। যুব অ্যাসেম্বলিতে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত “ছাত্র সংসদ”এর প্রতিনিধিরা প্রতিনিধিত্ব করবে।

বিবিধ :

(ক) সভা-সমাবেশ, বাক-স্বাধীনতা ও সংগঠন করার সাংবিধানিক অধিকারে কোনরূপ হস্তক্ষেপ না করা।গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক আন্দোলন করলে হামলা ও মামলা করা থেকে রাষ্ট্রকে বিরত রাখা এবং যারা হামলা করবে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য যথোপযুক্ত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিচার বহির্ভূত হত্যাকাÐ বন্ধ করা এবং তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

(খ) গণমাধ্যমের কাজকে সংকুচিত করে এবং নাগরিকের বাকস্বাধীনতাকে হরণ করে এমন সব অগণতান্ত্রিক কালাকানুন অতিসত্ত¡র বাতিল করা।

(গ) দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘স্বাস্থ্য বীমা’নীতি গ্রহণ করা। নাগরিকের মানসম্পন্ন চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে উপজেলা ও জেলা হাসপাতালগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা।স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণের জন্য নাগরিকদের যেন শহরমুখী না হতে হয় তার জন্য জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোকে জেলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রূপান্তরিত করে দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা।

(ঘ) সুলভমূল্যে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা ও দ্রুত গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা শহরে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে দেওয়া। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা। স্বল্পমূল্যে সরকারিভাবে উন্নতমানের শিক্ষাবান্ধব প্রযুক্তি পণ্য সরবারহ করা।

(ঙ) কৃষি অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য অধিক সংখ্যক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া।কৃষিতে গবেষণা খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করে কৃষি উন্নয়নে ব্যাপকভাবে গবেষণা ও পরিকল্পনার উদ্যোগ গ্রহণ করা।

(চ)যেকোনো পরিবেশ বিধ্বংসী প্রকল্প অনুমোদন না দেয়া এবং পূর্বে অনুমোদন দেয়া প্রকল্পগুলোর অনুমোদন বাতিল করা। পরিবেশ নীতিমালা রক্ষা করে প্রতিবেশগত বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে শিল্পাঞ্চল গড়া তোলা।

(ছ) ফিটনেসবিহীন গাড়ী রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স বিহীন চালকদের গাড়ী চালানো বন্ধ করা।সকল গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক (হাফ ভাড়া) ভাড়া নিশ্চিত করা। সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা ও নৈরাজ্য বন্ধে সমন্বিত মালিকানার আওতায় গণপরিবহন ব্যবস্থা পুনর্গঠন করা।

(জ) তরুণ সমাজ যাতে মাদক, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও পর্ণগ্রাফিতে আসক্ত না হতে পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা। মাদক ও জঙ্গিবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর আইনের আওতায় আনা। মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা, আদানপ্রদান, পরিবহন ও সেবন বন্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কে আরও বেশি সক্রিয় ও শক্তিশালী করা। দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, ঋণখেলাপী এবং মাদক ব্যবসায়ীদের ছবি ও পরিচয় গণমাধ্যমে ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা।

(ঝ) নারীদের জন্য আলাদা গণপরিবহন বৃদ্ধি করা এবং গণপরিবহনে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।ধর্ষকদের বিচার "দ্রæত বিচার আইনে" ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তি করা।

(ঞ) তরুণ ও যুব সমাজের আবাসন সমস্যা সমাধানে নারী-পুরুষ আলাদা ভিত্তিতে প্রতিটি জেলায় যুব হোস্টেল নির্মাণ করা।

(ট) সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক নির্ধারণ করা। আদালতকে দলীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে রেখে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতেয দেওয়া।

(ঠ) রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে ঘুষ, দুর্নীতি, অনোপার্জিত আয়, ঋণখেলাপি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কালোটাকা ও পেশীশক্তি প্রতিরোধ ও নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সরকারি কর্মকাণ্ডের ব্যাপকভাবে কম্পিউটারায়ন করে দুর্নীতির পথ বন্ধ করা।

(ড) ধনী গরীবের বৈষম্য কমাতে প্রবৃদ্ধিমূলক অর্থনীতি থেকে কল্যাণমুখী অর্থনীতিকে অধিক জোর দেওয়া এবং শিল্পায়নের ক্ষেত্রে কর্মমুখী শিল্পায়নকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা।

দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হওয়ার ফলে যুবসমাজের প্রত্যেক সদস্যের দেশ ও জাতির প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য অপরিসীম। দেশ ও জাতির কল্যাণে অতীতের মত ভবিষ্যতেও কান্ডরির ভূমিকায় যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।যুবক ও তরুণদের মানসম্মতভাবে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে এবং যথাযথ ও উপযুক্ত অধিক সংখ্যক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। যুবক ও তরুণদের চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতিমালা তৈরির পাশাপাশি যথাযথ বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন করার ব্যবস্থাও করতে হবে।সহায়ক পরিবেশ ও সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যুবসমাজের সঠিক দক্ষতা বৃদ্ধি পেলে তারা সমাজ পরিবর্তনের দূত হিসেবে দেশ ও জাতি গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কার্যকরী, উন্নত, মানবিক ও সফল রাষ্ট্র বিনির্মাণে “তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা ২০১৮”-এর এই দাবীগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ঢাকা, ০৪ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।