পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে নতুন নীতিমালা: ভিসিদের বৈঠক


Published: 2018-09-12 14:05:02 BdST, Updated: 2018-09-20 15:33:41 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রায় দুই যুগ পর অভিন্ন পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। বুধবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বৈঠক করবেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান জানান, সর্বোচ্চ চেষ্টায় অভিন্ন নীতিমালাটি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। শিক্ষার মান বজায় রাখতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একই মানে উন্নীতকরণের চেষ্টায় আছি আমরা। এটা হলে চূড়ান্তভাবে শিক্ষার মান উন্নত হবে। শিক্ষকদের মধ্যে পদোন্নতি বৈষম্যও দূর হবে।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রফেসর পদে পদোন্নতি পেতে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে অপেক্ষা করতে হয় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ১১ বছরেই প্রফেসর হওয়ার সুযোগ থাকে। কোথাও লেকচারার পদে যোগ দিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে প্রথম শ্রেণি বাধ্যতামূলক। আবার কোথাও যেকোনো একটিতে প্রথম শ্রেণি থাকলেই হয়। অভিন্ন নীতিমালা হলে এমন সুযোগ বন্ধ হবে।

অভিন্ন এই নীতিমালার খসড়ায় থেকে জানা গেছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে থিসিসসহ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর থেকে প্রফেসর পদে পদোন্নতি পেতে ন্যূনতম ১০ বছরসহ মোট ২২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এমফিল প্রার্থীর ক্ষেত্রে সাত বছরসহ মোট ১৭ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় থাকতে হবে। পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্তদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাসহ ন্যূনতম ১২ বছর সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মঞ্জুরি কমিশন এ নীতিমালা চূড়ান্ত করতে বুধবার ইউজিসির অডিটোরিয়ামে একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করেছে। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ সংশ্লিষ্টরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এর উদ্বোধন করবেন।

শিক্ষক পদোন্নতির বিষয়ে জানা গেছে, অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পদে পদোন্নতিতে একজন শিক্ষককে কমপক্ষে সাত বছর ক্লাসরুম শিক্ষকতাসহ ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। থিসিসসহ এমফিল প্রার্থীর ক্ষেত্রে ন্যূনতম ছয় বছরসহ নয় বছর সক্রিয় শিক্ষকতায় থাকতে হবে। পিএইডি ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম চার বছরসহ মোট সাত বছর শিক্ষকতা করতে হবে।

অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে পদোন্নতি পেতে একজন শিক্ষককে ন্যূনতম তিন বছরের সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। থিসিসসহ এমফিল ডিগ্রিধারীদের জন্য দুই বছর এবং পিএইচডি ডিগ্রি থাকলে এক বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে স্বীকৃত কোনো জার্নালে অন্তত চারটি প্রকাশনা থাকতে হবে।

এছাড়া বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, কলা, মানবিক, বিজনেস স্টাডিজ, চারুকলা ও আইন অনুষদভুক্ত বিষয়গুলোর জন্য লেকচারার থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর থেকে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং অ্যাসোসিয়েট থেকে প্রফেসর পদে নিয়োগের জন্য একটি অভিন্ন শর্তাবলী যোগ করা হয়েছে নীতিমালায়। একইভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিষয়, মেডিসিন ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা আলাদা শর্ত যুক্ত হয়েছে।

গ্রেড-৩ থেকে গ্রেড-২-তে উন্নীত হতে হলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রফেসর পদে অন্তত চার বছর চাকরি এবং স্বীকৃত কোনো জার্নালে বিষয়ভিত্তিক দুটি নতুন আর্টিকেল প্রকাশের শর্ত দেয়া হয়েছে। একইভাবে দ্বিতীয় গ্রেডপ্রাপ্ত প্রফেসরদের মোট চাকরিকাল অন্তত ২০ বছর এবং দ্বিতীয় গ্রেডের সর্বশেষ সীমায় পৌঁছানোর দুই বছর পর জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রথম গ্রেড দেয়ার শর্ত দেয়া হয়েছে। তবে এ সংখ্যা মোট প্রফেসরের ১৫ শতাংশের বেশি হবে না।

 

 


ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।