শিক্ষকদের কর্মসূচিতে বাধা, দুই নেতাকে আটকের অভিযোগ


Published: 2018-06-10 16:17:08 BdST, Updated: 2018-06-20 17:02:14 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চাইলে পুলিশের বাধার সম্মুখিন হন তারা। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালন করতে সকাল থেকে একে একে শিক্ষকরা জড়ো হতে থাকেন। পরে এই কর্মসূচিতে বাধার কাল হয়ে দাঁড়ায় পুলিশ প্রশাসন।

নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ও সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ রায়কে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। এ অবস্থায় তাঁরা এখন প্রেসক্লাবের রাস্তার উত্তর দিকে বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান নিয়েছেন।

সংগঠনটির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, সকাল নয়টার পর থেকে তাঁরা প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচির পালনের জন্য আসতে থাকেন। কিন্তু পুলিশ সেখানে তাঁদের বসতে বাধা দেয়। তাঁদের সরিয়ে দিতে জোড় প্রয়োগ করে। এর মধ্যেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ডাকে গত ২৬শে ডিসেম্বর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রথম অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কয়েক হাজার শিক্ষক-কর্মচারী।

৩১শে ডিসেম্বর থেকে তীব্র শীতের মধ্যে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচি পালনকালে গত ২ই জানুয়ারি হঠাৎ সেখানে গিয়ে হাজির হন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের পাশে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী বলেন, গত রাতে আমি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। অনেক চেষ্টার পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছ থেকে সম্মতি আদায় করতে পেরেছি।

তিনি সম্মতি দিয়েছেন, এমপিওভুক্ত যারা হননি তাদের এমপিও ব্যবস্থা করা হবে। এটা আমাদের বিজয়, প্রথম স্বীকৃতি। শিক্ষামন্ত্রী তখন আরও বলেছিলেন, আমি কথা দিচ্ছি এমপিওভুক্তির দাবি পূরণ করে দেব। টাকা, পয়সা, অর্থের ব্যাপার আছে। অর্থমন্ত্রী রাজি হয়েছেন, আমরা কাজ এগিয়ে রেখেছি। নীতিমালা করে দিয়ে বলেছি-এটা দিলাম, আপনারা দেখেন।

আপনারা (শিক্ষক) শিক্ষা পরিবারের সদস্য, আমি একজন কর্মী। আপনারা খুবই কষ্ট করছেন, দু:খিত। আপনারা কয়েক দিন ধরে এখানে আছেন। শিক্ষকরা আমাদের মাথার মনি, সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, নিয়ামক শক্তি। শিক্ষকদের প্রতি অবেহলা কেউ গ্রহণ করে না।

শিক্ষামন্ত্রীর ওপর আস্থা না রেখে শিক্ষকরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে ৫ই জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ সাজ্জাদুল হাসান ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। ওই দিনই শিক্ষকরা আন্দোলন স্থগিত করে বাড়ি ফিরে যান।

 

ঢাকা, ১০ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।