" আমাদের গায়ে রাজনৈতিক কালার লাগানোর চেষ্টা করেছে ডিবি”


Published: 2018-04-16 17:11:08 BdST, Updated: 2018-07-17 11:44:21 BdST

ঢাবি লাইভ: ডিবি পুলিশ চোখ বেঁধে আমাদের উঠিয়ে নিয়ে যায়। আমাদেরকে আমাদের সঙ্গে তেমন ভাল ব্যবহার করেনি। ইনিয়ে বিনিয়ে আমাদেরকে রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা করেছে। আমাদের কাছথেকে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে প্রমাণের চেষ্ঠাও সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেছেন উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া কোটা সংস্কারের আন্দোলনের ওই তিন নেতা। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা হলেন, নূরুল হক, রাশেদ খান ও ফারুক হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন করতে গিয়ে আহতদের দেখতে তাঁরা তিনজন রিকশায় করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন।

দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে যাওয়া মাত্র সাদা পোশাকের ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য অস্ত্র দেখিয়ে তাঁদের তিনজনকে মাইক্রোবাসে ওঠায়। এরপর একজনের চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে।

বক্তব্য রাখছেন কোটা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ

 

এ অবস্থায় ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাঁদের বলেন, তাঁদের কাছ থেকে কিছু তথ্য নেবেন এবং ভিডিও দেখাবেন। এরপর তাঁদের গুলিস্তানে নিয়ে যান। সেখানে ডিবি পুলিশের সদস্যরা কয়েকটি গামছা কেনেন। এরপর গামছা দিয়ে তাঁদের বাকি দুজনের চোখ-মুখ বেঁধে ফেলেন। রমনায় ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে তাঁদের চোখ-মুখ খোলা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁদের ছেড়ে দেয় ডিবি পুলিশ। এরপর তাঁরা ক্যাম্পাসে চলে আসেন।

আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘ডিবি পুলিশের সদস্যরা আমাদের গাড়িতে ওঠানোর সময় আরো বলেন, আমাদের ওপর নাকি বিপক্ষ গ্রুপ হামলা চালাবে। এ জন্য আমাদের নিরাপত্তার জন্য ধরে নিয়ে যাচ্ছেন।’

রাশেদ খান অভিযোগ করেন, তাঁর গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ পৌরসভায়। সোমবার সকালে ঝিনাইদহ থানার পুলিশ তাঁদের বাড়ি থেকে দুপুরে তাঁর বাবা নবাই বিশ্বাসকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের গালিগালাজ করা হয়েছে। তাঁর বাবা ও তিনি জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তবু পুলিশ জোর করে তাঁদের পরিবারকে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে যুক্ত করার প্রমাণ করতে চাইছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল বের করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। তাঁরা কোনো কর্মসূচির ঘোষণা দেননি।

ঢাবিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের বিক্ষোভ

 

এদিকে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি এমদাদুল হক ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, নবাই বিশ্বাসের ছেলে রাশেদ খান ও পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়স্বজনদের সম্পর্কে তথ্য জানতে সোমবার সকালে পুলিশ তাদের বাড়িতে যায়। এরপর বিকেল পৌনে ৩টায় নবাই বিশ্বাসকে ফোন করে থানায় ডেকে আনা হয়। কিছুক্ষণ কথা বলার পর স্থানীয় কাউন্সিলর বশির আহমেদের জিম্মায় বিকেল সাড়ে ৩টায় নবাই বিশ্বাসকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, হয়রানিও করা হয়নি।

জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে নবাই বিশ্বাস ও তাঁর ছেলে রাশেদ খানের কোনো সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে ওসি বলেন, এ ব্যাপারে পরে জানাবেন।

 

ঢাকা, ১৬ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।