ঢাবি'তে ভর্তির সুযোগ পেয়েও অর্থ অভাবে অনিশ্চয়তা...


Published: 2018-01-05 15:26:02 BdST, Updated: 2018-12-10 02:30:32 BdST


লাইভ প্রতিবেদক: দরিদ্র ঘরের সন্তান কামরুজ্জামান কাজি। প্রচন্ড রকমের অধ্যবসায় আর মেধার বিনিময়ে ভর্তি যোদ্ধে উত্তীর্ণ হলেও অর্থ অভাবই এখন বাঁধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আকাশছোঁয়া স্বপ্ন না থাকলেও বাবা, মা'র দ:খ কষ্টের সহায়ক হওয়াই তার লক্ষ। কিন্তু সবকিছুর মূলেই অর্থ প্রয়োজন। উচ্চ শিক্ষায় নিজেকে শিক্ষিত করতে কামরুজ্জামান কাজির একান্ত ইচ্ছে।

পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ। কিন্তু টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছেন না তিনি। তিনি এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিল্পকলার ইতিহাস বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ‘চ’ ইউনিটে তাঁর মেধাক্রম ছিল ১৬৪। সেখানে ভর্তি হতে ১৪ হাজার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু টাকা না থাকায় কামরুজ্জামান ভর্তি হওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ৭ জানুয়ারি ভর্তির শেষ তারিখ।

তাঁর কাঠমিস্ত্রি বাবা যা আয় করেন, তা দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। এ রকম সীমাহীন অভাবের মধ্য থেকেও পড়ালেখায় চমক দেখিয়েছেন। এই অদম্য মেধাবীর সুপ্ত প্রতিভাবান কামরুজ্জামান কাজি অসহায়ের মতো আজ শুধু ভাবছে কি করবে সে। তাঁর বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাসাইপাড়া এলাকায়। বাবার নাম রফিকুল ইসলাম।

কামরুজ্জামানের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা শহরের কাসাইপাড়া এলাকায় কামরুজ্জামানদের বাড়ি। সেখানে ছয় শতাংশ জমিতে একটি ছোট টিনের ঘরে মা-বাবা ও দুই ভাইয়ের সঙ্গে থাকেন তিনি। ২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পান। তিনি আহম্মদ নগর উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

অভাবের কারণে এসএসসি পর্যন্তই তাঁর পড়ালেখা থেমে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য শেরপুরের বাসিন্দা শাহিন মিয়ার সহায়তায় ময়মনসিংহ অ্যাডভান্স রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৫৮ পেয়েছেন।

মা কাজল রেখা বলেন, ‘আমরা তো গরিব মানুষ। একজনের রোজগারে পাঁচজনের সংসার চলে। কোনো রহম খাইয়া, না খাইয়া দিন চলে। কিন্তু এত অভাবে ছেলেডা ধৈর্য হারায় না। মানুষের সহযোগিতায় ছেলেডা লেখাপড়া কইরা এই পর্যন্ত আইছে।’

বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সারা দিন কাঠমিস্ত্রির কাম কইরা ৩০০ টেহা পাই। এই দিয়া কোনো রহম দিন চলে। কিন্তু পোলাডার লেহাপড়ার বিরাট ইচ্ছা। এইচএসসিতে শাহিন ভাইয়ের সহযোগিতায় ময়মনসিংহে বিনা খরচে লেহাপড়ার ব্যবস্থা অইছিল। অহন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ অইছে। অহন কেমনে ভর্তি করমু, কিছু ভাইবা পাইতাছি না।’

কামরুজ্জামান বলেন, ‘বাবার কাজে সুযোগ পেলেই সহযোগিতা করি। আমার স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার। সেই সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আমি লেখাপড়া করে সরকারি কর্মকর্তা হতে চাই।’

আহম্মদনগর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গরিব হলেও ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলে সে লেখাপড়ায় ভালো করবে।’

 

 

ঢাকা, ৫ জানুয়ারী (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।