নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ কলেজ প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে


Published: 2020-07-20 23:00:06 BdST, Updated: 2020-09-24 00:43:00 BdST

শেরপুর লাইভ: শেরপুরে জমশেদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। প্রিন্সিপাল শহিদুল ইসলাম রেজার বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন মিনাল।

সোমবার শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে অপসারণসহ বিচার দাবি করেন মিনহাজ উদ্দিন মিনাল।

সংবাদ সম্মেলনে মিনাল বলেন, শেরপুর সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে ২০০১ সালে পিতার নামে ওই কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। তার অভিযোগ, সম্প্রতি কলেজের ডিগ্রি পর্যায়ের ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও নিয়ে প্রিন্সিপাল শহিদুল জাল-জালিয়াতি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ চরম অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন।

এসময় তিনি আরো বলেন, মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের লেকচারার মোহাম্মদ শহীদুল্যাহকে বাদ দিয়ে শেখ জামালকে এবং আজিবর রহমানকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে, নুরে আলমকে দর্শন বিভাগে ও বন্দনা চক্রবর্তীকে ইংরেজি বিভাগে লেকচারার হিসেবে এমপিও’র ব্যবস্থা করেছেন।

এসময় তিনি আরো জানান, নিয়মিত কর্মরত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোহাম্মদ মাসুদ আল হাসান ও খোকন মিয়া নামে আরও এক কর্মচারীকে বাদ দিয়ে আনোয়ার হোসেন নামে তার এক আত্মীয়সহ ২ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ ও এমপিওভূক্ত করেছেন।

এছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মো. শহিদুল ইসলাম নামে একজনকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে পদায়নের ব্যাবস্থা করেন। সমাজকল্যাণ বিভাগের লেকচারার মো. আসাদুজ্জামানকে অবৈধ ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভাইস-প্রিন্সিপাল নিয়োগ দেখানো হয়েছে। যা তার (সভাপতির) সময়কালে কোনভাবেই সম্পন্ন হয়নি। ওইসব নিয়োগের ক্ষেত্রে তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, কলেজের গভর্নিং বডি বিলুপ্ত করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পত্রে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিকে বাদ দিয়ে জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে ৫ সদস্যের একটি এডহক কমিটি করা হয়। সেই কমিটিতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা সদস্যকে রাখা হয়নি।

ওই বিষয়ে দাতা সদস্যের এক সিভিল রিভিশন মামলায় ৯ মার্চ উচ্চ আদালতের এক আদেশে এডহক কমিটি ও তার কার্যক্রমের উপর স্থিতাবস্থা আরোপ করে বিজ্ঞ আদালত। আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে ডিগ্রি পর্যায়ে যাচাই-বাছাই ব্যতীত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও তালিকা চূড়ান্তকরণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে ওইসব অভিযোগের কাগজপত্র উপস্থাপন করে ওই বিষয়ে দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অন্যায়ভাবে এমপিওবঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভূক্ত, অবৈধভাবে এমপিও হওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও বাতিলসাপেক্ষে অধ্যক্ষকে স্বীয় পদ থেকে অপসারণ এবং আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তাকে বিচারের মুখোমুখিকরণসহ কলেজের সার্বিক শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি জিএম আজফার বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আদিল মাহমুদ উজ্জলসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা, ২০ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।