নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ


Published: 2020-01-04 19:40:51 BdST, Updated: 2020-08-11 04:25:50 BdST

জাককানইবি লাইভ: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একই পদে চাকরি প্রার্থী ২ প্রভাবশালী হওয়ায় বিপাকে ভিসি প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান। তাই ওই পদের নিয়োগ স্থগিত রেখেই অন্য পদের নিয়োগ পরীক্ষা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমন অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনসহ ভিসির বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, গত বছর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ২০ পদের বিপরীতে ৩৫ জন নিয়োগ দেয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৭ মাস পর লিখিত পরীক্ষা নেয়ার তারিখ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২৭ ডিসেম্বর লিখিত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে চিঠি প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেখানে স্থগিত থাকে সেকশন অফিসার পদে দুইজনকে নিয়োগ দেয়ার কথা। কিন্তু এই পদে আবেদনকারীদের মধ্যে প্রভাবশালী কয়েকজন রয়েছে। যাদের মধ্যে সাবেক ছাত্র নেতা থেকে শুরু করে শিক্ষক নেতা ও রাজনৈতিক নেতার প্রার্থীও রয়েছে।

গত ৩১ডিসেম্বর দুপুরে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যেই মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য বুধবার (১ জানুয়ারি) আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এছাড়াও আরও অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া পদগুলোর মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ), সহকারী প্রকৌশলী (ইন্সট্রুমেন্ট) এবং অডিটর পদে প্রত্যাশিত প্রার্থী উপস্থিত না থাকায় এই পদগুলোতে অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীদের অনুত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক এবং কর্মকর্তা জানান, এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া সব থেকে বিতর্কিত। একটি সিংগেল নিয়োগও স্বচ্ছ হয়নি।

এ বিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ফলাফল প্রকাশে একটু ভুল হয়েছে তাই সংশোধন করা হয়েছে। ভুল হলে প্রশাসন যে কোনো মুহূর্তে সংশোধন করতে পারে। আর আমরা সেটিই করেছি।’

এবিষয়ে শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, রোল ৫০ধারী আমার কোনো ভাই নয়। আমি মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে থাকবো না। রোল ৫০ধারী শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম মৌখিক পরীক্ষার দিন সকালে মোবাইল ফোনে বলেন, ১ জানুয়ারি পরীক্ষা সম্পর্কে জানেনই না। শিক্ষক সোহেল রানা তার পরিচিত নন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা বলেন, এবারের নিয়োগ এককেন্দ্রিক নিয়োগ হয়েছে। উপাচার্য স্যার তো সকল জায়গায় বলেন কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতে পারবে না। তার এই নিয়োগ পরীক্ষা ছিল কেবল লোক দেখানো। আগে থেকেই যাদের নেয়া হবে তা নির্ধারিত ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও এক শিক্ষক বলেন, ‘এখনো সিন্ডিকেট হয়নি আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি রোলসহ বলে দেবো ২০ পদে কারা বসছে। কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।’

নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, প্রশাসন এর সকল সিদ্ধান্ত উপাচার্য স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী হচ্ছে। যারা লিখিত পরীক্ষায় চান্স পেয়েছে বেশির ভাগই ময়মনসিংহ অঞ্চলের আর তা ছাড়া আগে থেকেই ফোনে জানানো হয়েছে তাদের। যা হচ্ছে নিয়মের মধ্য দিয়েই হচ্ছে।

ঢাকা, ০৪ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।