জাককানইবি'তে শিক্ষার্থীদের সেবার নামে বাণিজ্য!


Published: 2019-11-15 18:10:36 BdST, Updated: 2019-12-14 16:22:22 BdST

জাককানইবি লাইভঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা গাফিলতির অভিযোগে শিহাব নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু অভিযোগের পর এইবার অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেয়ার বিনিময়ে বিপুল অংকের টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অসুস্থ সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সেবার জন্য একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। সেই একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়েই চলছে রমরমা অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্য !

জানা যায়, গত ১৫ই অক্টোবর মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ সেশনের স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের ছাত্রী নাজমুন নাহার তুলি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মেডিকেল সেন্টার 'ব্যাথার দানে' নিয়ে যাওয়া হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা গেলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার বিভাগের একজন শিক্ষকের সুপারিশে অ্যাম্বুলেন্সেই তাকে তার গ্রামের বাড়ি গৌরীপুরে পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অ্যাম্বুলেন্স চার্জ হিসেবে তার ৩৩০০ টাকা বিল আসে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করলে জরিমানার বিধান আছে বলে জানানো হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাজমুন নাহার তুলি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে চার্জ যদি এইভাবে বিশাল অংকের ধরা হয় তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে চাইবে না। তিনি আরো বলেন, আগামী ৩ দিনের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করতে না পারলে জরিমানার ব্যবস্থাও আছে বলে তাকে জানানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থনীতি বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স সেবার দিয়ে অতিরিক্ত চার্জ ধরা একপ্রকার হয়রানি। হঠাৎ রাতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে নিয়ে নিয়ে গেলে যাতায়াত বাবদ ২৪০০ টাকা চার্জ ধরা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক শিক্ষার্থী জানান, ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম ব্যাচ এর শিক্ষার্থী শিহাব শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে ময়মনসিংহ সিবিএমসি হাসপাতালে মারা যায়। শিহাবের অবস্থার অবনতি হলে শিহাবের বন্ধুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সের অনুমতি চাইলে যথাসময়ে অ্যাম্বুলেন্স তারা পায়নি। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স। অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

অ্যাম্বুলেন্সের চার্জের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, কিছুদিন মেডিকেল সেন্টারের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণ করা হতো। পরবর্তীতে নানা সমস্যার জন্য অ্যাম্বুলেন্স কে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে দেয়া হয়।

অতিরিক্ত চার্জ এর বিষয়ে তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স এর অপব্যবহার রুখতে নীতিমালার আলোকে চার্জ ধরা হয়। এত পরিমাণ চার্জ আসার প্রসঙ্গে পরিবহন প্রশাসক ড.মুহাম্মদ ইমদাদুর রাশেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স যে নীতিমালার আলোকে পরিচালিত হয়, সেই নীতিমালা অনুসারেই বিল এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড.এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ শুনে তিনি বিস্মিত হয়ে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য যা কিছু দরকার তা করা হবে। প্রয়োজনে নীতিমালা সংশোধন করা হবে।

উলে­খ্য যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবার বিনিময়ে কোনো ধরনের চার্জ নেয়া হয় না।

ঢাকা, ১৫ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।