বয়ফ্রেন্ডসহ পার্কে আটক, অপমানে প্রাণ দিল ছাত্রী!


Published: 2019-06-30 11:43:54 BdST, Updated: 2019-12-10 16:51:07 BdST

ময়মনসিংহ লাইভ : পার্কে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ডেটিংয়ে গিয়ে ধরা খেয়েছে এক ছাত্রী। এসময় তাকে চরমভাবে অপমান করা হয়। বয়ফ্রেন্ড হিন্দু হওয়ায় ওই মুসলিম ছাত্রীকে অনেক কটূ কথা শুনতে হয়। লজ্জা আর অপমানে ওই ছাত্রী জীবনটাই দিয়ে দিয়েছে। আত্মাহত্যার ভয়ংকর পথ বেছে নিয়েছে ৯ম শ্রেণির ওই ছাত্রী নূপুর আক্তার। আত্মাহত্যার প্ররোচনা ও যৌন হয়রানির দায়ে বয়ফ্রেন্ড প্রসেঞ্জিত সরকারের বিরুদ্ধে শুক্রবার গৌরীপুর থানায় মামলা হয়েছে।

জানা যায়, মাওহা ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা মিজাজ খান টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে নবম শ্রেণির ছাত্রী নূপুর আক্তার ও দশম শ্রেণির ছাত্র প্রসেনজিত একসাথে পড়ার সুবাদে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত মঙ্গলবার (২৫জুন) প্রেমের সর্ম্পক ধরেই নূপুর আক্তার ও প্রসেনজিত সরকার কেন্দুয়া উপজেলার নিঝুম পার্কে বেড়াতে যায়। সেখানে বখাটেদের হাতে আটক হয় প্রেমিক যুগল। নূপুর আক্তার মাওহা ইউনিয়নের বিষমপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়া কন্যা আর প্রসেনজিত। খবর পয়ে প্রসেনজিতের স্বজনরা ওই বখাটেদের নিকট থেকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এ নিয়ে গ্রামে সালিশ বসে। সালিশে নূপুর বিয়ের দাবি জানালে ভিন্ন ধর্মের কথা বলে আপত্তি তুলে প্রসেনজিতের পরিবার। হিন্দু ছেলের সঙ্গে প্রেম; অত:পর আটকের ঘটনায় লোকমুখে নানা অপবাদের কথাই শোনতে হয় নূপুরকে।

নূপুরের মা আছমা আক্তার জানান, বুধবার ভোরে মাওহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খসরুজ্জামান বাবুল, বাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কদ্দুছ মৌলভীর ছেলে আবুল বাদশা, বিষমপুর গ্রামের আলী হোসেনসহ ৩/৪জন আমার মেয়েকে জোরপুর্বক বাড়িতে রেখে যায়। ওইদিন সন্ধ্যায় নিজ বসতঘরেই আত্মহত্যা করে নূপুর।

এদিকে নূপুরের বাবা বাচ্চু মিয়া জানান, প্রসেনজিত আমার মেয়েকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে নিঝুম পার্কে নিয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা চালায়। পরে সেখানে বখাটের দ্বারা নাজেহাল ও গ্রামে সালিশ বসানো ও অপবাদের কারণেই মেয়ে আত্মহত্যা পথ বেছে নয়। যারা আমার মেয়েকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে আমি তাদের বিচার চাই।

ছবি : বয়ফ্রেন্ড প্রসেনজিত

এ বিষয়ে খসরুজ্জামান বাবুল বলেন, সালিশে আমার সামনে কেউ কোন অপবাদ দেয়নি। প্রসেনজিত ও নূপুর বিয়েতে রাজি ছিল। সে জন্যই আমি নূপুরকে তার পিত্রালয়ে পৌছে দেই। আমি সত্য ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।

নিঝুম পার্কের ব্যবস্থাপক আহসান ইসলাম রিপন বলেন, ওইদিন সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা পার্কের পাশ থেকে নূপুর ও প্রসেনজিতকে আটক করে। আমার সাথে কথা হলে ছেলে- মেয়ে দুজন জানায় তারা বিয়ে করতে চায়। বিষয়টি আমি দুই পরিবারকে জানালে, ছেলের পক্ষের আল মামুন ও শাহজাহান নামে দুই লোক রাতে তাদের এখান থেকে নিয়ে যায়। পরে শোনেছি নূপুর আত্মহত্যা করেছে।

গৌরীপুর থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, নূপুরকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে প্রসেনজিতকে আসামি করে মামলা হয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

ঢাকা, ৩০ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।