বাকৃবিতে ইলিশের জীবনরহস্য ঘোষণা


Published: 2018-09-10 18:32:17 BdST, Updated: 2018-11-16 11:50:07 BdST

বাকৃবি লাইভ: প্রথমবারের মতো ইলিশের জীবন রহস্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভিসি প্রফেসর ড. মো. আলী আকবর। ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকেয়েন্সিং এবং ডি নোভো এসেম্বলী সম্পন্ন শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন ভবনে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রফেসর ড. মুহা: গোলাম কাদের খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. আলী আকবর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো. জসিমউদ্দিন খান, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদসহ ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচনকারী গবেষকবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও বৈজ্ঞানিকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মো. সামসুল আলম ও সহযোগী গবেষক প্রফেসর ড. মো: বজলুর রহমান মোল্যা। এসময় গবেষকরা বলেন, আমরা ১০ সেপ্টেম্বর আবিষ্কারটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষনা করার জন্য অনেকদিন যাবত কাজ করছি। আমাদের গবেষণাটি অনেক আগে সম্পন্ন করেছি এবং বিভিন্ন স্থানে তার প্রমান রয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গ্রান্ড কমিশনের একটা সুপার কম্পিউটার আছে যা অনেকেরই অজানা যেটা আমাদের গবেষণায় ব্যাপক সহায়তা করেছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আবিষ্কারের এটা মাত্র সূচনা ঘটেছে। আবিষ্কারটি বুঝতে ও সফলতা পেতে আমাদের আরো সময় লাগবে। আমাদের এর সুফল পেতে আরো ধারাবাহিক গবেষনা করা প্রয়োজন। ইলিশ রক্ষায় অনেক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে যেমন অভাশ্রয়ম প্রতিষ্ঠা, নির্দিষ্ট সময়ে ইলিশ আহরন নিষিদ্ধ ঘোষনা ইত্যাদি এটা সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে হচ্ছে কিনা এমন অনেক বির্তক রয়েছে, ইলিশ নদীতে কেন আসে আবার প্রজননের পর আদৌ সাগরে ফিরে যায় কিনা এমন অনেক তথ্যই এখন আমরা জানতে পারবো এই আবিষ্কারের তথ্যকে কাজে লাগিয়ে। এই আবিষ্কারের ফলে দেশের সুনাম আর্ন্তজাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের প্রফেসর ড. মো: সামছুল আলমের নেতৃত্বে গবেষকদলের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ হচ্ছে পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মো: বজলুর রহমান মোল্যা, বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো: শহিদুল ইসলাম ও ফিশারিজ বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের প্রফেসর ড. মুহা: গোলাম কাদের খান। গবেষণা কাজটি গবেষকবৃন্দের নিজস্ব উদ্দ্যোগ, স্বেচ্ছাশ্রম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পারষ্পারিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হয়েছে।

এ গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলদেশের মৎস্য সেক্টর পূর্ণাঙ্গ জিনোম গবেষণার যুগে প্রবেশ করলো এবং আমাদের সক্ষমতা আছে তা প্রমান করলো বলে জানিয়েছেন প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মো: সামছুল আলম।

এরপূর্বে দেশী ও বিদেশী গবেষকদের সমন্বয়ে পাট ও মহিষের জীবন রহস্য উন্মোচন হয়েছে। ইলিশের ক্ষেত্রেই দেশীয় বিশেষজ্ঞরা এমন সাফল্য অর্জন করলো। যা মৎস্য সেক্টরে যুগান্তকারী যুগের সৃষ্টি করবে বলে গবেষকদের দাবি। গবেষকরা জীবন রহস্য উন্মোচন করতে মেঘনা ও বঙ্গোপসাগর থেকে জীবন্ত পূর্ণবয়স্ক ইলিশ সংগ্রহ করে।

পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাররেটরীতে উচ্চ গুনগত মানের জিনোমিক ডিএনএ প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট থেকে জিনোম সিকোয়েন্সিং সেন্টারে সংগৃহিত ইলিশের পৃথকভাবে প্রাথমিক ডেটা সংগ্রহ করে। এরপর বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সার্ভার কম্পিউটারে বিভিন্ন বায়োইনফরম্যাটিক্স প্রোগ্রাম ব্যবহার করে সংগৃহীত প্রাথমিক ডেটা থেকে ইলিশের পূর্ণাঙ্গ নতুন জিনোম বিশ্লেষণ সম্পন্ন করে।

 

 

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।