কেবল পড়ালেখায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখায় আত্মতৃপ্তি নেই!


Published: 2019-02-24 11:30:36 BdST, Updated: 2019-05-22 05:23:38 BdST

জারিন তাসনিম হায়দার : কেবল পড়ালেখার ভেতরেই নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রাখার মাঝে আমি কখনো আত্মতৃপ্তি খুঁজে পাইনি। তাই সবসময়ই ভালো লাগে এমন কিছু না কিছু করতে কিংবা শিখতে চেয়েছি। ছোটবেলায় কখনো ছবি আঁকা শিখেছি, কখনো ভায়োলিন শিখেছি, কখনো ছবি তোলায় মনোযোগ দিয়েছি আবার কখনো অ্যাস্ট্রোনমি নিয়ে জানার আগ্রহে মেতে উঠেছি। মাঝেমধ্যে বই পড়তে পড়তে নিজেকে কোন উপন্যাসের চরিত্র হিসেবেও কল্পনা করেছি। রাস্তায় চুপচাপ বিকালে হেঁটে বেরিয়েছি, বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বেড়িয়েছি। আসলে দিনশেষে ভালোলাগার কাজগুলোই কিন্তু জীবনকে অর্থবহ করে তুলে।

যতদূর মনে পড়ে ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় থেকেই আমার ছবি তোলার প্রতি প্রবল আগ্রহ৷ বাবার সেসময় একটা এসএলআর ক্যামেরা ছিল। আমি বাবার সেই ক্যামেরা দিয়ে যখন যেখানে যা পারতাম, ছবি তুলতাম। ক্লাস সিক্স থেকে এইটের মাঝেই নিতান্ত আনাড়ি হাতে তোলা ছবি নিয়ে প্রায় তিন-চারটা বড় অ্যালবাম ভরে গিয়েছিল। সেই ছবি তোলার প্রতি প্রবল আগ্রহ আমার এখনো আছে আর থাকবে। আমার সবসময় মনে হয়েছে , আশেপাশের টুকরো টুকরো প্রতিটা ঘটনার মাঝে একটা করে গল্প লুকিয়ে থাকে। সেটা হয়তো রাস্তায় পড়ে থাকা একটা জীর্ণ ছোট পাতা হতে পারে অথবা হতে পারে সেটা দেয়ালে ছায়ার খেলা। হয়তো সবাই সেই গল্প অনুভব করতে পারে না। সেই মুহূর্তগুলোকেই আমি ক্যামেরাবন্দি করতে চাই আর সেটা করি মোবাইল ক্যামেরার মত এক অতি সামান্য ডিভাইজের মাধ্যমে। কাজগুলো যে কাউকে দেখানোর জন্য করি এমনটা নয়, নিতান্তই নিজের ভালোলাগা থেকে করা হয়। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের একটি এক্সিবিশনে প্রথমবার আমার মোবাইলে তোলা একটা ছবি প্রদর্শিত হয়েছিল, সে ভালোলাগার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতন না। এ পর্যন্ত তিনটি এক্সিবিশনে আমার ছবি প্রদর্শিত হয়েছে। এক্সিবিশন একধরনের প্রতিযোগিতা আর প্রতিযোগিতায় কখনোই আমি উৎসাহ অনুভব করি নি। তাই অংশগ্রহনও তেমন করা হয়নি।

আমার আরেক আগ্রহের বিষয় হল অ্যাস্ট্রনমি। স্কুলে থাকাকালীন মহাকাশ বার্তা নিয়মিত কিনতাম আর পড়তাম। সেসময় মণি ভৌমিকের এক বইয়ে যেদিন পড়ি যে আমাদের দেহে আছে তারার ধূলিকণা, সেই বাক্য যেন আমার চিন্তাজগতের মোড় পালটে দেয়। কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ার সময় ঢাকায় ইন্টার-কলেজ অ্যাস্ট্রো অলিম্পিয়াডে যখন ফার্স্ট হই, তখন আগ্রহটা আরো বেড়ে যায়। এই আগ্রহ থেকে মেডিকেলে আসার পরও Bangladesh Astronomical Association এ যোগদান করেছিলাম, পরে The Stargazers' Society of Bangladesh এর সাথে যুক্ত হয়েছিলাম। শুধু আকাশের তারাদের দিকে তাকিয়েই মিলিয়ন মিলিয়ন বছর পিছিয়ে যাওয়ার অনুভূতি কাকে না শিহরণ জাগায়!

আর গল্পের বই পড়া হলো আমার প্রায় নিত্যদিনের সঙ্গী। কল্পনার রাজ্যেই আমি সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা অনুভব করি। কারণ সেখানে আমাকে কোন কাজে বারণ করবার কেউ নেই, সেখানে কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ারও নেই মানা। রবীন্দ্রনাথ, বিভূতিভূষণের লেখায় যে মায়া লুকিয়ে আছে তা আমি অন্য কোথাও খুঁজে পাই না। মাঝেমাঝে একটু দুঃখ হয় এই ভেবে যে এতগুলো কাজের সাথে যুক্ত থাকলেও কোনটাই বেশিদূর পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি নি। সবই অপূর্ণ থেকে গেল। মানুষের জীবনটাই হয়তো এমন। এই অপূর্ণতা আছে বলেই হয়তো আমরা স্বপ্ন দেখি, চেষ্টা করি নতুন কিছু আঁকড়ে ধরে তাকে পরিপূর্ণ করার।

জারিন তাসনিম হায়দার
পড়াশোনা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ

ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।