চৌমুহনীতে হাসপাতাল ছাড়াই মেডিকেল কলেজ


Published: 2018-07-20 18:07:43 BdST, Updated: 2018-08-19 23:55:41 BdST

নোয়াখালী লাইভ: এবার চৌমহনীর একটি মেডিকেল কলেজ নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠেছে। তারা হাসপাতাল ভবন না তুলেই মেডিকেল খুলেছেন। এ নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। চৌমুহনীতে অবস্থিত নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন থাকার কথা।

একাডেমিক ভবন নির্মানের পর ২০১৩ সন থেকে চৌমুহনী ক্যাম্পাসে পাঠদান চললেও হাতে কলমে শিক্ষার জন্য ১২ কিলোমিটার দূরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ছাত্র ছাত্রীদের আসা যাওয়া করতে হয়।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে ছাত্রছাত্রী ভর্তি আরম্ভ হওয়ার সময় চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকলেও বর্তমানে চট্রগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ন্যাস্ত। কলেজের শুরুতে অস্থায়ীভাবে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে কলেজের কর্যক্রম শুরু হয়।

চৌমুহনী শহরের চৌরাস্তার উত্তরে ২৬ একর ভূমির ওপর ১০ তলার ভিত্তিতে ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মান হলে ২০১৩ সন থেকে চৌমুহনী ক্যাম্পাসে মেডিকেল কলেজের পাঠদান আরম্ভ হয়। কিন্তু ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন নির্মান হয়নি।

সংশ্লিস্টরা ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য দুইটি হোষ্টেল নির্মান হওয়ায় আবাসনের সমস্যা কিছুটা লাঘব হয়েছে। অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরা হাতে কলমে শিক্ষা গ্রহনের জন্য ১২ কিলোমিটার দূরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়মিত আসা যাওয়া করছেন।

কলেজের নিজস্ব কোনো বাস না থাকায় ভাড়া করা বাসে চলতে হয়। ডাক্তার ও স্টাফদের জন্য কোনো কোয়ার্টার নির্মান না হওয়ায় তাদের আবাসন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এতে অনেকে তদবির করে ঢাকা বা অন্য কোনো স্থানে বদলি হয়ে যান।

২৬ একর এলাকারয় সীমানা দেওয়াল নির্মান হলেও দেওয়ালের অভ্যন্তরে অনেক জবরদখলকারী রয়েছে। ফলে কলেজের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে ৮৩ জন শিক্ষক থাকলেও এনাটমি, ফার্মেসী ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ খোলা হয়নি।

জানাগেছ ২০১৭ সনের ৭ই ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোঃ নাসিম মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন নির্মানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ ব্যাপারে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিলেও এ পর্যন্ত ভবন নির্মানের কোন লক্ষন নেই।

এসব নানা বিষয়ে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মীর হামিদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, যতদুর জানা যায়, কক্সবাজার, পাবনা, যশোর, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের উন্নয়নের প্রক্রিয়া একই ফাইলে চলছে।

তাই হাসপাতাল ভবন নির্মানে দেরি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন না থাকায় ছাত্র ছাত্রীদের আনা নেওয়ার জন্য যে দুইটি বাস ভাড়া করা হয়েছে তার পেছনে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়। যে দুইটি দোতলা হোস্টেল নির্মান করা হয়েছে, তাতে ৮০ জন করে ১৬০ জনের আবাসন সমস্যা মিটলেও বর্তমানে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা রয়েছে ২৫০ জন। শিক্ষক ও ষ্টাফদের কোন আবাসন ব্যবন্থা নেই।

 

ঢাকা, ২০ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।