ডেটিংয়ের ছবি ‘ভাইরাল’ : ‘আমার মৃত্যুর জন্য আশিক দায়ি’


Published: 2018-07-17 22:41:59 BdST, Updated: 2018-12-19 20:37:57 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : ভালোবেসে বয়ফ্রেন্ডকে সবকিছু সপে দিয়েছিলেন মেডিকেল ইনস্টিটিউটের ছাত্রী আশরাফি জামান মিম। তার জানা ছিল না বয়ফ্রেন্ড আশিকুজ্জামানের মনে অন্য কিছু খেলা করছে। ভালোবাসা নয় প্রতারণাই যার স্বভাব সেই ছেলেটি তার চরিত্র প্রকাশ করেছে যখন মিম তার সম্ভ্রমটুকুও বিলিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের প্রলোভনে আত্মীয়ের বাসায় গভীরভাবে অন্তরঙ্গ হয়েছিলেন তারা। মেডিকেল ইনস্টিটিউটের ছাত্রী মিম তার সম্ভ্রম সপে দিয়েছেন বয়ফ্রেন্ডকে। প্রতারককে উজাড় করে দেয়া ভালোবাসাই কাল হলো তার জীবনে। শেষতক জীবনটাও দিতে হয়েছে তাকে। বয়ফ্রেন্ডের প্রতারণার শিকার হয়ে এখন তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

ডেটিংয়ের আন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ভাইরাল করে দেয়ার হুমকির মুখে ছিলেন মিম। কয়েকটি ছবি ফেইসবুকে প্রকাশ করে নমুনাও দেখিয়েছিলেন আশিক। টাকার বিনিময়ে গভীরভাবে অন্তরঙ্গ হওয়া সেই ছবিগুলো কিনে নিতে চেয়েছিলেন মিম। বয়ফ্রেন্ডের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে বেশ কিছু টাকাও খুঁইয়েছেন তিনি। শেষ রক্ষা হলো না তার। বয়ফ্রেন্ডের লোভ-লালসা আর অব্যাহত হুমকির জীবনের মায়া ত্যাগ করেছেন মিম। বেছে নিয়েছেন আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর পথ। চলে যাওয়ার আগে চিরকুটে লিখে গেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য আশিক দায়ি।’

এটি কোন গল্প বা সিনেমার কাহিনী নয়। রাজধানীর ট্রমা মেডিকেল ইনস্টিটিউটের ছাত্রী আশরাফি জামান মিমের জীবনের ঘটনা এটি। বয়ফ্রেন্ডের প্রতারণার শিকার হয়ে সহপাঠী ও স্বজনদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি।

জানা গেছে, বয়ফ্রেন্ডের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সম্ভ্রম হারিয়ে অনেকটা দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলেন মিম। অন্তরঙ্গ ছবি দেখিয়ে তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বেশ কিছু টাকা। তবুও মুক্তি মেলেনি তার। আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে বয়ফ্রেন্ড তাকে প্রায়ই ডেটিংয়ে যেতে বাধ্য করতো। তাই বাধ্য হয়েই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

এদিকে সেই প্রতারক বয়ফ্রেন্ডের ছড়িয়ে দেয়া বেশ কয়েকটি রোমান্টিক ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এঘটনায় প্রতারক বয়ফ্রেন্ডের নামে আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা করেছেন ওই ছাত্রীর বাবা।

জানা যায়, পাবনার ফরিদপুর উপজেলার মৃধাপাড়া গ্রামের মো. জুলফিকার জামানের মেয়ে মেধাবী ছাত্রী আশরাফি জামান মিমকে একই উপজেলার সাভার গ্রামের মাসুদুজ্জামানের ছেলে আশিকুজ্জামান প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। প্রেমের অভিনয় করে আশিক ওই ছাত্রীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময় টাকা আদায় করে আসছিলেন।

মিম ঢাকায় ট্রমা মেডিকেল ইনস্টিটিউটে পড়ার সময় আশিক তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। চলতি বছরের ১৪ মার্চ তার এক আত্মীয়র বাসায় নিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন আশিক। পরে দুজনের অন্তরঙ্গ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন আশিক। এতে মিম মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। বিষয়টি জানার পর মিমের বাবা ঢাকা থেকে মেয়েকে বাড়ি নিয়ে আসেন।

মেয়ের বাবা এসব ঘটনা ছেলের মা-বাবাকে জানায়। এক পর্যায়ে ছেলে ও ছেলের পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলে তারা তা অস্বীকার করেন। এদিকে আশিক ঢাকায় মিমের অনুপস্থিতিতে মেসে রাখা স্বর্ণের গহনাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে যান।

এদিকে মিম লোক লজ্জার ভয়ে নিজ ঘরে ফ্যানের সাথে রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। এসময় তিনি বয়ফ্রেন্ড আশিককে দায়ি করে একটি চিরকুট লিখে যান। মিমের বাবা বাদী হয়ে রোববার (১৫ জুলাই) আশিককে প্রধান আসামী করে ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। কিন্তু পুলিশ রহস্যজনক কারণে প্রতারক আশিককে গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ মিমেম বাবার।

ঢাকা, ১৮ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।