আ,সালামের স্মরণসভায় সাহসী সাংবাদিকতার তাগিদ


Published: 2020-02-23 03:33:02 BdST, Updated: 2020-04-04 04:25:37 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ এদেশে সাহসী সাংবাদিকের অভাব। কেউ সাহস নিয়ে কিছু বলতে ও লিখতে পারে না। বক্তারা এই সাহসি সাংবাদিক তৈরীর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে সাহসী সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করলে তা হবে সাংবাদিক আবদুস সালামের স্মৃতির প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা।

কিংবদন্তিতুল্য সাংবাদিক আবদুস সালাম ব্যক্তিগত লাভ লোকসানের পরোয়া না করে যেভাবে সত্য লিখেছেন জীবনভর, বর্তমান প্রজন্মের সাংবাদিকরা তা অনুসরণ করলে ধুঁকতে থাকা গণমাধ্যমের সুদিন ফিরবে।

আবদুস সালামের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেছেন বক্তারা। ‘সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদ’ আয়োজিত এ স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

স্মরণসভার বক্তারা

 

সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
স্মরণসভার বক্তৃতাদের কথা উঠে আসে আবদুস সালামের কর্মময় জীবন। ১৯৫০ সাল থেকে প্রায় দুই যুগ অবজারভারের সম্পাদক ছিলেন আবদুস সালাম। ছিলেন প্রেস ইন্সটিউটের প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক।

সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য স্বাধীনতা পদক পাওয়া আবদুস সালাম সম্পাদকীয় লিখে শাসকের রোষানলে পরে কয়েক দফা জেল খেটেছেন পাকিস্তান শাসনামলে। স্বাধীনতার পরও কারাবরণ করেছেন। ষাটের দশকে তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, জুহুর হোসেন চৌধুরী ও আবদুস সালামকে সাংবাদিকতার ত্রিরত্ন বলা হতো।

তাদের ক্ষুরধার লেখনী স্বৈরাচার আউয়ুব খানের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। আবদুস সালাম ছিলেন নিখিল পাকিস্তান সম্পাদক পরিষদের সভাপতি। ১৯৫৪ সালে যুক্তফদ্ধন্টের মনোনয়নে ফেনী থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

স্মরণসভায় বক্তৃতা করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের অনারারি অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান, ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশন সম্পাদক এ এম মোফাজ্জল, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ ও কামাল উদ্দিন সবুজ, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি।

এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, আবদুস সালামের মেয়ে ও স্মৃতি সংসদের সভাপতি রেহানা সালাম, নর্দান ইউনিভারসিটির সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল করিম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শফিকুল বাহার, ফেনী সাংবাদিক ফোরাম-ঢাকা’র সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ উল্লাহ ভুইয়া।

স্মরণসভা পরিচালনা করেন স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক লোটন একরাম।
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, ১৯৫২ সালে একটি সম্পাদকীয় লেখায় অবজারভার বন্ধ করে দেওয়া হয়। আবদুস সালামকে কারাগারে নেওয়া হয়অ কিন্তু তিনি তাতে এতটুকু বিচলিত ছিলেন না। ষাটের দশকে ফের কারাগারে যান আউয়ুবের সমালোচনা করে সম্পাদকীয় লিখে।

কিন্তু দুঃখের বিষয় স্বাধীন দেশেও সম্পাদকীয় লিখে জেলে যেতে হয়েছে আবদুস সালামকে, যা আমাদের ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়।
প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্র তখনই প্রাতিষ্ঠানিক হৃপ পাবে যখন মত প্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা থাকবে। আবদুস সালাম সাহসী সাংবাদিকতার পথিকৃত, বর্তমান প্রজন্ম তাকে কতটা ধারন করতে পেরেছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আবদুস সালাম শুধু সাংবাদিক নন, সাংবাদিকতার শিক্ষক ছিলেন। বর্তমান প্রজন্মের সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে ভুলে গেছে। সাংবাদিক পরিচয়ের আগে দলীয় কর্মী হয়ে গেছে। কালোকে সাদা আর সাদাকে কালো বলছে দলীয় আনুগত্যের কারণে।
ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে যে সাংবাদিকতা আবদুস সালাম করে গেছেন, তা শিক্ষনীয় হয়ে আছে।

শওকত মাহমুদ বলেছেন, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে মানিক মিয়া, জুহুর হোসেন ও আবদুস সালামের সাহসী লেখনী স্বাধীনতার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করে, স্বাধীনতা তরান্বিত করে।
কামালউদ্দিন সবুজ বলেন, সাংবাদিকতায় যে করপোরেট সংস্কৃতি প্রবেশ করেছে তা সত্যনিষ্ট সাংবাদিকতার পথে বাধা।

আবদুস সালামকে সাংবাদিকতার শিক্ষক আখ্যা দেন মু¯øাফিজ শফি। সাহসী সাংবাদিকতার অন্যতম এ পথিকৃত বিস্মৃতির আড়ালে চলে যাওয়ায় বর্তমানে যারা সম্পাদনায় যুক্ত তাদেরও দায় রয়েছে বলে মনে করেন সমকালের ভারপ্রাপ্টø সম্পাদক। তিনি বলেছেন, প্রতি বছর জন্ম মৃত্যুবার্ষিকীতে আবদুস সালামকে নিয়ে কথা বলে লাভ নেই, তার জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার বিকাশে আবদুস সালামকে স্মরণ করা উচিত বলে মনে করেন ফরিদা ইয়াসমিন। রেহানা সালাম বলেন, সাংবাদিকরাই তার বাবার আদর্শিক সন্তান। পরিবারের নয়, তাদেররই উচিত আবদুস সালামের শিক্ষা ও আদর্শকে জাগুরুক রাখা।
এম আবদুল্লাহ বলেছেন, আজ যা গণমাধ্যমের যে দৈন্যদশা আবদুস সালামের মতো একজন সম্পাদক থাকলে তা দেখতে হতো না।

ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।