কুমিল্লার নির্যাতনকারী এক চেয়ারম্যানের গল্প


Published: 2020-04-17 08:47:09 BdST, Updated: 2020-05-28 12:55:04 BdST

কুমিল্লা লাইভ: তিনি একজন চেয়ারম্যান। তাও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। কিন্তু দাপট রাখেন এমপির চাইতেও বেশী। এলাকায় তাকে বড় চেয়ারম্যান বলেই চেনে। চলেন শাহী-খান্দানী ভাব নিয়ে। দেখলে মনে হয় আকাশ থেকে সদ্য নাজিল হয়েছেন একজন ফেরেস্থা। যেমন পোষাক তেমন চেহারা। তার চাইতেও বেশী তার ক্ষমতা ও দাপট। সবাই তাকে সমীহ করে চলেন। দেখলে রাস্তা ছেড়ে অন্যরাস্তা দিয়ে চলেন। রাজনৈতিক প্রভাব আর অবৈধ টাকার মালিকও তিনি। টাকার গরম তো মামুলি ব্যাপার।

তিনি আর কেউ নন। তিনি হলেন আলোচিত-সমালোচিত কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম। উপজেলার এক মাদরাসা শিক্ষককে রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করার ঘটনার তার নাম প্রকাশ হয়ে গেছে। জখমের এক সপ্তাহ পর অবশেষে থানায় হত্যার চেষ্টা মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকারের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন আহত শিক্ষক মাওলানা আজিজুর রহমান। মিডিয়ার বদৌলতেই মামলাটি হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মামলা দায়ের করার পর পুলিশের টনক নড়ে। পুলিশের একাধিক টিম ওই চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করতে অভিযান শুরু করেছে। দেবিদ্বার থানা পুলিশের ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। কোন ছাড় দেয়া হবে না। তার বিরুদ্ধে এখন নানান অভিযোগ আসছে। আমরা সব কিছুই যাচাই বাচাই করছি।

অভিযোগ করা হয়, পারিবারিক কলহের কারণে ৪ সন্তানের জননী আমেনা আক্তার গত ৯ এপ্রিল সকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। পরে দুপুরের দিকে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ আবদুল মতিন ওই শিক্ষককে বাড়ি থেকে চেয়ারম্যানের বাড়িতে নিয়ে যান। তিনি চেয়ারম্যানের বাড়িতে যাওয়ার সময় তার মেয়ে দাখিল শ্রেণির ছাত্রী আরিফাতুন নুর এবং চাচাতো ভাই আবদুস ছামাদকে সঙ্গে নিয়ে যান।

চেয়ারম্যানের বাড়িতে যাওয়ার পর তার কোনো বক্তব্য না শুনেই চেয়ারম্যান রড দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি চেয়ারম্যানের পায়ে ধরে ক্ষমা চান। পরে সেখানে উপস্থিত তার মেয়ে চিৎকার করেও তাকে রক্ষা করতে পারেনি। এ সময় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য লোকজনও চেয়ারম্যানকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পর দিন আহত ওই শিক্ষককে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের দিকে আহত ওই শিক্ষক কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে চেয়ারম্যানের নির্যাতনের বর্ণনা দেন। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযোগের বিষয়টি তদারকি করতে থানায় আসেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরে এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করেন শিক্ষক মাওলানা আজিজুর রহমান।

মামলা তদন্ত করতে গিয়ে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলেও পুলিশ ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তবে কেউ প্রকাশ্যে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোন মন্তব্য করতে রাজি নন।

ঢাকা, ১৭ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।