প্রিন্সিপালের যৌন হয়রানি নিয়ে চিঠিতে যা লিখেছেন সেই ছাত্রী!


Published: 2019-04-10 11:35:32 BdST, Updated: 2019-07-18 17:58:15 BdST

ফেনী লাইভ : সোনাগাজীর সেই ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল সিরাজ উদদৌলার হাতে যৌন হয়রানির ঘটনা নিয়ে তাকে পরীক্ষা হলেই আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা। এদিকে প্রিন্সিপালের যৌন হয়রানির পর সহপাঠি বান্ধবীদের উদ্দেশ্যে চিঠি লিখেছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। মঙ্গলবার ওই ছাত্রীর বাড়ি থেকে সেই চিঠি উদ্ধার করেছে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ। চিঠিতে দিন-তারিখ লেখা না থাকলেও বিষয়বস্তু বিবেচনায় এটি কয়েকদিন আগের লেখা বলে মনে করছে তদন্তকারি সূত্র।

ওই সূত্র জানায়, তার পড়ার টেবিলে খাতায় দুই পাতার ওই চিঠিতে তামান্না ও সাথী নামের দুই বান্ধবীকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে। চলুন দেখে নেই কী লেখা আছে সেই চিঠিতে?

চিঠিটিতে রাফি উল্লেখ করেছে, ‘তামান্না, সাথী। তোরা আমার বোনের মতো এবং বোনই। ওই দিন তামান্না আমায় বলেছিল, আমি নাকি নাটক করছি। তোর সামনেই বললো। আরো কি কি বললো, আর তুই নাকি নিশাতকে বলেছিস আমরা খারাপ মেয়ে। বোন প্রেম করলে কি সে খারাপ? তোরা সিরাজ উদ দৌলা সম্পর্কে সব জানার পরও কীভাবে তার মুক্তি চাইছিস।

তোরা জানিস না, ওইদিন রুমে কি হইছে? উনি আমার কোন জাগায় হাত দিয়েছে এবং আরো কোন জায়গায় হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে, উনি আমায় বলেছে- নুসরাত ডং করিসনা। তুই প্রেম করিসনা। ছেলেদের সাথে প্রেম করতে ভালো লাগে। ওরা তোরে কি দিতে পারবে? আমি তোকে পরীক্ষার সময় প্রশ্ন দেবো। আমি শুধু আমার শরীর দিতাম ওরে। বোন এই জবাবে উত্তর দিলাম। আমি একটা ছেলে না হাজারটা ছেলে...। আমি লড়বো শেষ নি:শ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্মহত্যা করতে গিয়ে। সেই ভুলটা দ্বিতীয়বার করবো না। মরে যাওয়া মানে তো হেরে যাওয়া। আমি মরবো না, আমি বাঁচবো। আমি তাকে শাস্তি দেবো। যে আমায় কষ্ট দিয়েছে। আমি তাকে এমন শাস্তি দেবো যে তাকে দেখে অন্যরা শিক্ষা নিবে। আমি তাকে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেবো। ইনশাআল্লাহ।’

এদিকে গত ৬ এপ্রিল নুসরাত জাহান রাফিকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার পর থেকে কেউ কেউ ঘটনাটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলেও ধারণা করেছেন। তবে উদ্ধার হওয়া চিঠিটির মাধ্যমে বোঝা যায় ঘটনা ভিন্ন।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন চিঠিটি উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চিঠিটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। চিঠিতে যাদের নাম আছে, প্রয়োজনে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার আলিম পরীক্ষায় অংশ নিতে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গেলে দুর্বৃত্তরা ওই ছাত্রীকে ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তার দেওয়া শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে নিতে বলে। সে রাজি না হলে দুর্বৃত্তরা তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বর্তমানে নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এঘটনার পর থেকে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে সেই লম্পট প্রিন্সিপালকেও।

ঢাকা, ১০ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।