”একুশ আমাদের অহংকার, জাতীয় জাগরণ”


Published: 2018-02-21 20:34:08 BdST, Updated: 2018-09-22 23:35:52 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: তা‘মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল বিশিষ্ট গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. মুফতী আবু ইউসুফ খান বলেছেন, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পরই বাংলা ও বাঙালির প্রতি যে অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করেছিল তৎকালীন শাসক গোষ্ঠীি, ভাষা আন্দোলন ছিল তারই একটি প্রবল প্রতিবাদ।

মাতৃভাষার চেতনা থেকে উৎসারিত সে আন্দোলন ক্রমে ক্রমে ধাবিত হয়েছিল স্বাধিকার তথা স্বাধীনতার আন্দোলনে। অবশেষে বাঙালি সফল হয়েছে। স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য ছিনিয়ে এনেছে। তাই একুশে ফেব্রুয়ারির যে চেতনা আমাদের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে প্রেরণা যুগিয়েছে, সেই দিনটিকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বুকে ধারণ করতে হবে।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আত্মনিবেদনের এই দিনটি আমাদের প্রেরণা হয়ে থাকবে। তা‘মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা, ঢাকা কর্তৃক মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দু'আ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাদরাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. মুফতী আবু ইউসূফ খানের সভাপতিত্ত্বে এবং সাংস্কৃতিক কমিটির আহবায়ক মুফতী মাওলানা মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মুহাদ্দীস মাওঃ আব্দুল গাফফার , মুফাসসির মাও: জাকির হোসাইন শেখ, শিক্ষক প্রতিনিধি ইংরেজী বিভাগের সিনিয়র লেকচারার আব্দুস সামাদ, ছাত্র প্রতিনিধি মেসবাহ প্রমুখ ।

মুফতী আবু ইউসুফ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরে তার বক্তব্যে বলেন, ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল প্রিন্সিপাল আবুল কাসেমের নেতৃত্বাধীন তমুদ্দন মজলিশের মাধ্যমে। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহসহ এদেশের ইসলামপন্থীরাই মহান ভাষা আন্দোলনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বর্তমান প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস ও ভাষা সৈনিকদের সম্পর্কে জানতে হবে এবং একুশের চেতনা লালন করে সমাজ রাষ্ট্র ও পৃথিবীতে নেতৃত্ব দিতে হবে। বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল সর্বস্তরে মাতৃভাষার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু সেই বিষয়টি এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

আইন-আদালতে, প্রশাসনে চলছে ইংরেজি ভাষা।আমরা প্রথমে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করব। তারপর প্রয়োজনীয় বিদেশী ভাষার চর্চা করব। কিন্তু এখন বাংলাকে জলাঞ্জলি দিয়ে ভাষা আগ্রাসনের দরজা অনেকেই খুলে দিচ্ছি।মাতৃভাষা ছাড়া জ্ঞানচর্চা পূর্ণাঙ্গতা পায় না। তাই মাতৃভাষার চর্চা ও বিকাশের ক্ষেত্রে আমাদের আরো আন্তরিক হতে হবে।

ভাষা শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনা করে মুফতী আবু ইউসুফ খান দুয়া পরিচালনা করেন।কর্মসূচী হিসেবে দিনের প্রথম প্রহরে অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা উত্তোলণ করা হয় এবং শিশু কিশোরদের মাঝে চিত্রাঙ্কন সুন্দর হস্তলিখন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদেরকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সকল শিক্ষক -শিক্ষার্থী এবং অভিাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


২১ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।