সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ছাত্রলীগের খাবার ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ


Published: 2017-08-30 19:55:16 BdST, Updated: 2019-06-17 07:22:12 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: পড়ন্ত বিকেল, শহিদমিনারের পাদদেশে বই হাতে কঁচিকাঁচাদের আসর। কয়েকজন তরুণ এগিয়ে যেতেই, সব শিশুরা উঠে দাড়ালো-আসসালামু আলাইকুম স্যার। করো চুলে তেল নেই, কারো গায়ে ছেঁড়া কাপড়। তবে সবার মুখেই হাসি। এক তরুণ ঘোষনা দিল, তোমাদের মাঝে কে এক দুই তিন বলতে পারবে? “স্যার আমি পারুম।” “আমি পারুম না, বল, আমি পারবো। কি নাম তোমার?”- শুধরিয়ে দিয়ে নাম জিজ্ঞেস করে সে তরুণ। এক দুই তিন বলতে সাহায্য করে আরেক তরুণী।

বলছিলাম সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু উচ্ছল ও উদ্যোমী তরুণ-তরুণীর কথা। ক্যাম্পাসের পাশের বস্তির এবং হলের ডাইনিং বয়দের মাঝে শিক্ষার আলো বিতরণ করতে তারা একপ্রস্থ ছাদের নিচে খুলেছে স্কুল, নাম পাঠশালা একুশ। ১১জুন, ২০১২ থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদমিনারে। তারুণ্য, দেশপ্রেম আর সমাজের জন্য ভাল কিছু করার প্রয়াসে এ সংগঠনের নাম তাই-একুশ।

গত মঙ্গলবার সেবামূলক সংগঠন পাঠশালা একুশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে সিকৃবি ছাত্রলীগ শিক্ষা সামগ্রী ও খাবার বিতরন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম শাহি আলম, পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা) প্রফেসর ড. মোঃ মতিয়ার রহমান হাওলাদার, কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ এ.এফ.এম. সাইফুল ইসলাম, প্রক্টর প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস, হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী হলের প্রভোষ্ট ড. আব্দুল মালেক ও ডেপুটি রেজিস্টার এ.কে.এম. ফজলুর রহমান।

একুশের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন আরিফুল এহসান রৌদ্র। শুরুর দিকে আরো ছিলেন, অভিজিৎ পাল, মাসুদ পারভেজ চৌধুরী, সুনন্দা দত্ত, সুশান্ত দেবনাথ শুভ, ফাতেমা তুজ জোহরা দিয়া, শারমিন আক্তার মিতা, আশরাফী পাপড়ি প্রমুখ। তবে পাঁচবছর পর কলেবর আরো বেড়েছে। এসেছে নতুন নেতৃত্ব।

আরিফুল এহসান রৌদ্র বলেন, “ক্যাম্পাসে নতুন আসার পর দেখতাম কমবয়সী শিশুরা ডাইনিং ও ক্যাফেটেরিয়াতে কাজ করছে। দেখে মনে হল তাদের জন্য কিছু করা দরকার। পড়ালেখা শিখলে তারা হয়তো দেশকে ভাল কিছু দিতে পারবে। বন্ধুদের মনের কথাটা খুলে বললাম। সবাই বিনা বাক্যে কাজ শুরু করলাম। সেই থেকে একুশ। সবার মাঝে ভাল কিছু করার সদিচ্ছা ছিল, তাই আমরা শুরুটা করতে পেরেছি।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরেই প্রতি শুক্রবার বিকালে ক্লাস নেয়া হয়। আশেপাশের বস্তির গোটা পঞ্চাশেক শিশু যাদের ভিতর অক্ষর জ্ঞান নেই বা অর্জনের সুযোগ নেই তারাই এ পাঠশালার শিক্ষার্থী। একুশ পাঠশালার নিয়মিত ক্লাস নেন এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থীরা। এখানে শুধু মাত্র আক্ষরিক জ্ঞানই দেয়া হয় না, পাশাপাশি নৈতিক ও চারিত্রিক শিক্ষাও দেয়া হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য সচেতনতা, মাদকের ভয়াবহতা, ইভটিজিংসহ পরিবারের প্রতি, সমাজের প্রতি, দেশের প্রতি তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে দেয়া হয়। পাঠশালা একুশে আনন্দের সাথে পাঠদান করা হয়। পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে চলে নাচ, গান, আবৃত্তি।

সিকৃবি ছাত্রলীগের সভাপতি শামীম মোল্লা বলেন, “একুশ একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। একুশের শিশুদের প্রতিভা দেখে মাঝেমাঝে আমি আশ্চর্য্য হই। হয়তো এদের মাঝেই লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের প্রকৌশলী, কৃষিবিদ কিংবা চিকিৎসক। এমনটি হলে আমাদের আনন্দের সীমা থাকবেনা।” ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হৃত্বিক দেব বলেন, “সিকৃবি ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী সবসময় সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা মাথায় রেখে কাজ করে। গতবছর পনের আগষ্টে আমরা সমাজের পিছিয়ে পড়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মানুষের জন্য খাবার বিতরণ করেছিলো, এবার ছোট শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী ও খাবার বিতরন করেছে। বঙ্গবন্ধু সবসময় দেশের মানুষের প্রতি তীব্র আবেগ কাজ করতো উনার ভক্ত হিসেবে সারাজীবন যাতে লালন করতে পারি সেটার অভ্যাস তৈরি করার একটা ক্ষুদ্র প্রয়াস।”

 

ঢাকা, ৩০ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।