ইবিতে ঘুম থেকে তুলে সাংস্কৃতিক কর্মীকে পেটাল ছাত্রলীগ!


Published: 2017-10-28 01:50:49 BdST, Updated: 2017-11-24 06:13:21 BdST

ইবি লাইভ : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক সাংস্কৃতিক কর্মীকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলাকারীরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিমের অনুসারীরা। আহত ওই সাংস্কৃতি কর্মীর নাম শামীম পলাশ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের সদস্য।

জানা গেছে, বুধবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ৪১৬ নং কক্ষে ওই সাংস্কৃতিক কর্মীকে মারধর করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে ওই কর্মী সাংবাদিকদের কাছে মারধরের বিষয়টি জানান। শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা হয়।

শামীম পলাশ জনান, এলাকা চলমান রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে বুধবার রাত ৮ টা ১১ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। ওই রাতেই হঠাৎ করে রাত ১১ টার দিকে ছাত্রলীগের ৭-৮ কর্মী আমার কক্ষে আসে। আমি তখন ঘুমিয়ে ছিলাম। পরে ছাত্রলীগ কর্মীরা আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে। ঘুম থেকে উঠতেই তারা আমাকে একের পর এক বিভিন্ন (অবান্তর) প্রশ্ন করতে থাকে। তারা বলে আমার ফেসবুক স্ট্যাটাস তাদের (জিয়াউর রহমান হল) হলে ফাও খাওয়া নিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কথা বলেই কিছু বুঝে বলার আগেই তারা আমাকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মারতে থাকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুকে) দেয়া তার স্টাটাসটি পাঠকদের উদ্দেশ্যে হুবহু তুলে ধরা হলো, “এই যে ফাও খাওয়া কিম্বা লাঠিশ্রয়ী শ্রেণী গড়ে উঠছে এলাকায় তার জীবিকা কোথায়? লাঠির মাথায়? না আপনার গোলায়! এ প্রশ্ন থেকেই যায়! ইতিহাস ঘুরেঘুরে আসে বারবার। কখনো সে রাবনের কখনো রামের! সিংহাসন ঐ এককটাই! দু'বছর আগে যে স্কুল কেন্দ্রীক নির্বাচনে গ্রামের একপক্ষ এলাকা ছাড়া হয়েছিল, আজ সেই নির্বাচন কেন্দ্রীক অন্য দল এলাকা ছাড়া। গ্রামে দেখেছি অধীকাংশই বিভীষণ! ইতিহাস যে আবার ঘুরবেনা, এমন বলি কি করে?”

জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শামীম পলাশের দেয়া স্টাটাসের জের ধরেই ওই রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিমের অনুসারী শহীদ জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগ কর্মী হামিদুর রহমান হামিদের (পরিসংখ্যান চতুর্থ বর্ষ) নেতৃত্বে নিজাম (লোকপ্রশাসন ১১-১২), মোর্শারফ (১৪-১৫), সাগর (ইতিহাস ১৬-১৭)সহ ৭-৮ জন ৪১৬ নং কক্ষে যায়। এক পর্যায়ে তারা শামিমকে এলোপাতাড়ি চড় থাপ্পর, কিল ঘুষি মেরে চলে যায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম বলেন, আমি ঘটনটি শুনেছি। বিষয়টি মিমাংশা হয়ে গেছে।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি গৌতম কুমার শুভ বলেন, সংস্কৃতি চর্চা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনের প্রাণ। এভাবে যদি সাংস্কৃতিক কর্মীকে লাঞ্ছিত করা হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চা অবশ্যই বহ্যত হবে এবং শিক্ষার্থীরা সাংস্কিৃতি চর্চা থেকে দূরে সরে যাবে।


ঢাকা, ২৮ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।