এক নিভৃতচারী, প্রচারবিমুখী ভিসি


Published: 2016-10-20 08:57:54 BdST, Updated: 2018-12-11 20:04:19 BdST

যবিপ্রবি লাইভ: এই শীতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আটটি শীত পার করবেন যবিপ্রবি ভিসি প্রফেসর ডঃ আব্দুস সাত্তার। যেখানে বর্তমানে দেশের বেশীরভাগ ভিসিই প্রথম মেয়াদ শেষকরতে হিমশীম খেয়ে যান সেখানে ব্যাতিক্রম হয়ে উদাহরন হতে যাচ্ছেন যবিপ্রবির স্বপ্নদ্রষ্টা ও রুপকার নীর্ভিক এই শিক্ষাবিদ।

যশোরের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আব্দুল খালেক বলেন,” আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন বুকে নিয়ে আন্দোলন করেছি তখন যশোরের কৃতীসন্তান বর্তমান ভিসিও আমাদের স্বপ্নসারথি ছিলেন”।

যশোরসহ সারা বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্নদেখা এই শিক্ষাগুরু এক বর্নাঢ্য জীবনের অধিকারি। ছাত্রাবস্থায় প্রগতীশীল রাজনীতির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে সফল গবেষকের পাশাপাশি অলঙ্কৃত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব প্রশাসনিক পদ এবং সুনামের সাথে শেষ করেছেন সবগুলি দায়িক্তের মেয়াদ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমে এই ভিসিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার নিযুক্ত করার ২৭ দিনের মাথায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিযুক্ত করেন।

এছাড়াও তিনি পূর্বজীবনে হাউজ টিউটর, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রক্টর, বিভাগীয় প্রধান, হল প্রভোস্ট, হেড অব ফেকাল্টি, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, সিন্ডিকেট সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন পদ সফলতার সাথে অলঙ্কৃত করেন।

এই নীর্ভিক অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানুরাগী বিভিন্ন সময় পেয়েছেন জীবনের হুমকি কিন্তু তবুও টলেননি। জোটসরকারের সময় শেখ হাসিনার নির্দেশে ওই অঞ্চলের সংখ্যালঘুদের খোজ নিতে ঘুরে বেরিয়েছেন নিভৃত গ্রামে। ওয়ান-ইলেভেনে গনতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনে এই অঞ্চল থেকে বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে থেকে শেখ হাসিনার মুক্তি চেয়ে প্রথম স্বাক্ষর করেন এই ভিসি।

যবিপ্রবিও গড়ে তুলেছেন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতিবিম্ব রূপে। বাংলাদেশের ইতিহাসে যবিপ্রবি অনন্য অনেক কারনে এটিই একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যার প্রধান ফটকে বঙ্গবন্ধুসহ রয়েছে সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতি। যবিপ্রবিই প্রথম ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার শেখ হাসিনার নামে হল করেছে। এছাড়াও এখানে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর নামে একাডেমিক ভবন,শেখ রাসেল জিমনেশিয়াম (নির্মিতব্য), স্বাধীনতার ভাস্কর্য ছাড়াও স্বাধীনতার স্বরনে বেশকিছু স্থাপত্য।

এই ভিসির কল্ল্যানেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার আট বছরের মধ্যেই দুটি সমাবর্তনের সফল আয়োজন সম্ভব হয়েছে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। যবিপ্রবিই দেশের প্রথম মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং এবং শারীরিক শিক্ষা বিভাগ খুলেছে। একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ছাড়াও অনেক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে এই বিদ্যাপীঠে।

আন্ত-বিশ্ববিদ্যালয় গেমসে সর্বোচ্চ সোনাজয়ের রেকর্ডও এখন যবিপ্রবির। আট বছরের ব্যাবধানে ফাকামাঠ থেকে বিস্তৃত এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিনত হওয়া এই বিদ্যাপীঠ প্রসঙ্গে স্থানীয় সমাজকর্মী লোকমান হোসেন বলেন,”যারা আটবছর আগে দেখেনি তারা এখন বিশ্ববিদ্যালয় দেখে বুঝতেও পারবে না আট বছর আগে এটিযে সবুজ মাঠ ছিলো।প্রধানমন্ত্রিকে ধন্যবাদ যে এরকম জ্ঞ্যানী, তড়িৎকর্মা, দক্ষ লোককে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়ায়”।

যশোরের আই.টি পার্কের প্রস্তাবকও এই স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। প্রধানমন্ত্রী যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম উদ্ভোধনের জন্য যবিপ্রবি যান তখন যশোরের জন্য আই.টি পার্কের দাবী তোলেন যশোরের এই কৃতীসন্তান। তার প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে যশোরবাসীকে আই.টি পার্ক উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমিতির সাধারন সম্পাদক ও যশোরের সাবেক ছাত্রনেতা প্রকৌশলী হেলালুল ইসলাম বলেন,” আমরা যখন ভিসিদের অবক্ষয়ের কথা শুনি তখন ভাবি বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর তৎকালীন ঢাবি ভিসি আবু সায়িদ চৌধুরীরা কি হারিয়ে গেছেন তখন শেখ হাসিনার আমলের আব্দুস সাত্তারই উদাহরন হতে পারেন যে তারা এখনো হারাননি।“

ব্যাক্তিজীবনে সফল গবেষক এই বিজ্ঞানির প্রায় ৮০টির মত বিজ্ঞান প্রবন্ধ জাতীয়-আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

ঢাকা, ২০ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// আইএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।