ইবিতে হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা: ‘হঠাৎ এসে থাকবো কোথায়?’


Published: 2021-01-13 18:47:09 BdST, Updated: 2021-01-25 00:24:10 BdST

ইবি লাইভঃ করোনাা কারণে গত মার্চ থেকে বন্ধ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। সেশনজট মোকাবেলায় মে মাস থেকে শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাস। ভার্চুয়াল পাঠদান চললেও বিভাগগুলোর পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে গত ২২ ডিসেম্বর একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আবাসিক হল বন্ধ রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতোকোত্তর শ্রেণির চ‚ড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার আশার বাণী শিক্ষার্থীকের পুলকিত করলেও বিপাকে পড়েছে আবাসিক হল বন্ধ থাকায়। কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

এদিকে গত ৯ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতোকোত্তর শ্রেণির পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কিছু বিভাগ পরীক্ষার সময়সূচিও ঘোষণা করেছে। এতে হল বন্ধ থাকায় আবাসিক সংকটে পড়ছে শিক্ষার্থীর। শিক্ষার্থীরা জানায়, পরীক্ষা দিতে এসে প্রধান সমস্যা আবাসন সংকট। আবাসন সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই স্বাস্থঝুঁকি নিয়ে মেসে গাদাগাদি করে অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর চেয়ে সংক্রমণ বৃদ্ধির শঙ্কা বাড়ছে। মস মালিকরাও বাড়িয়ে দিয়েছে ভাড়া। ফলে বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ অর্থ গুনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা জানায়, দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা সম্মুখীন হচ্ছে নানা জটিলতার। হঠাৎ করেই আবাসন নিশ্চিত করতে বেগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। এছাড়া হল বন্ধ থাকায় কুষ্টিয়া কিংবা ঝিনাইদহের বিভিন্ন বাসা, মেসে অবস্থান করছে তারা। ফলে পরীক্ষা শুরু হলে দীর্ঘপথ পারি দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায়। শিক্ষার্থীদের দাবি, আবাসিক হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে আবাসিক হলসমূহ খুলে দেওয়া হোক।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া মিতু বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসের আশেপাশে মেস খালি না পেয়ে কুষ্টিয়া শহরে গিয়ে থাকছি। পরীক্ষা শুরু হলে দীর্ঘপথ জার্নি করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কষ্টকর। তাই আমার দাবি হলো দ্রæত হল খুলে দেওয়া হোক।’

এদিকে আজ বুধবার সকাল ১০ টায় খুলে পরীক্ষা গ্রহণসহ ৩ দফা দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন সংসদ। তাদের অন্য দুই দাবি, হল ফি, পরিবহন ফি ও অন্যান্য ফি মওকুফ এবং নম্বরপত্র, সার্টিফিকেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উত্তোলনে প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন। আগামী শনিবার পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম চলবে। পরে একইদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালামের কাছে দাবি সম্বলিত স্বাক্ষরলিপি জমা দেবে বলে জানা গেছে।

গণস্বাক্ষর

 

স্বাক্ষর করতে আসা আইন বিভাগের স্নাতোকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী আবুজার গিফারী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘যাদের বাড়ি দূর-দূরান্তে তারা হঠাৎ এসে থাকবে কোথায়? মেসে সিট খোঁজা নিয়েও বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। মেয়েরা বেশি বিড়ম্বনায় পড়ছে। দীর্ঘ ১০ মাস হলে থাকিনি, বাসে চড়িনি। ফি দেব কেন? যারা টিউশনি করাই। বাড়িতে থাকা অবস্থায় টিউশনিও বন্ধ ছিল। করোনার কারণে বাড়িতেও অনেকের আর্থিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এমন সময় বড় অংকের একটা টাকা ঘাড়ে চেপে বসছে।’

এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক জিকে সাদিক ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘তিন দফা দাবিতে আমরা সমাবেশ করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোন ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে তারা সাড়াও দেয়নি। পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চালাচ্ছি।’

এর আগে একই দাবিতে গত ৯ জানুয়ারি ছাত্র সমাবেশ করেছে ইবি ছাত্র ইউনিয়ন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে সংসদের নেতারা। দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয় তারা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘হল খোলার ব্যাপারে তাদের দাবি যৌক্তিক। তবে ইউজিসি কিংবা শিক্ষামন্ত্রনালয় থেকে কোন অনুমুতি না আসায় আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা।’

ফি মওকুফের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘একবছর ক্যাম্পাসে না থেকে তারা হল ও পরবিহন ফি কেন দিবে? এ ব্যাপারে আমিও একমত। তবে আমরা শিক্ষার্থীদের থেকে যে টাকা নেই তা বাজেটে রিফ্লেকটিভ হয়। তখন আয় রেখে বাকি টাকা সরকার দেয়। এটি আমাদের একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।’

ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআই//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।