নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করলেন ইবির প্রধান প্রকৌশলী


Published: 2020-03-18 21:15:11 BdST, Updated: 2020-04-06 01:30:34 BdST

ইবি লাইভঃ জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানায় জিডি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে তিনি এ ডায়েরী করেন বলে জানা গেছে। তার জিডি নাম্বার ৬৫৭। বুধবার ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আরিপ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ‘রেজিস্ট্রারের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান প্রকৌশলীর আবেদনের বিবরণ থানায় সাধারণ ডায়েরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিন ধরে বিভিন্ন সময় তাকে বিভিন্ন অজানা নাম্বার থেকে মেগা প্রকল্পের কাজ পাইয়ে না দিলে সন্তানের ক্ষতি হয়ে যাবে বলে হুমকি দেয়া হয়। তিনি অপমানিত হবেন, তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিভিন্ন খারাপ কিছু লিখে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার কথাও বলে তারা। এছাড়া অতীতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেয়।

জিডিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন মেয়েদের নাম্বার দিয়ে তাকে ফোন করে এবং ফেইসবুক মেসেঞ্জারে বিভিন্ন টেক্সট দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে তিনি মানসিকভাবে খুবই ভীত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বর্তমানে ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প চলছে। ৩০ মার্চ ও ৬ এপ্রিল ৫৩ কোটি টাকা করে ১০৬ কোটি টাকার দুটি দরপত্র খোলা হবে। এই দরপত্রের মধ্যে একটি দরপত্র ঢাকার একটি সংগঠনকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করে আসছেন।

জিডি

 

এই প্রেক্ষিতে গত সোমবার রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে টুটুল একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ইবিতে আর চাকরি করা হলো না আমার। রিজাইন করব, ইনশা আল্লাহ।’

এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আলি মুজ্জামান টুটুল বলেন, ‘আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। নিরাপত্তার খাতিরে আমি প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে থানায় জিডি করেছি।’

এখনি চাকরি থেকে অব্যহতি নিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ক্যাম্পাসেই থেকে যেতে চাই।’

এদিকে ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের প্রফেসর ড. কাজী আখতার হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. হালিমা খাতুন ও আইকিউএসি'র পরিচালক প্রফেসর ড. কে এম আব্দুস সোবহান।

ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমাদানের পর তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

ঢাকা, ১৮ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআই//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।