ইবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ: সাধারণ সম্পাদক আটক


Published: 2020-01-21 22:41:01 BdST, Updated: 2020-04-05 06:35:13 BdST

ইবি লাইভঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দলীয় বিদ্রোহী কর্মীদের হামলায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ ২০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩০মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় একাধিক ককটেল বিষ্ফোরন হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন। এর আগেও সাধারণ সম্পাদক ক্যাম্পাসে আসলে চার বার ধাওয়া দিয়ে বের করে দেয় কর্মীরা। ঘটনার প্রতিবাদে এবং রাকিবকে গ্রেফতারের দাবিতে দুপুর দেড়টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী কর্মীরা। বিকেলে কুষ্টিয়া শহর থেকে সাধারণ সম্পাদক রাকিবকে আটক করে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, কর্মীদের দ্বারা অবাঞ্ছিত ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ এবং সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব ক্যাম্পাসে প্রবেশের খবরে মঙ্গলবকার সকাল থেকে উত্তপ্ত ছিলো ক্যাম্পাস। সকাল ১১ টায় ছাত্রলীগ কর্মী অনিক, বিপুল, সোহাগ, আদিত, আবির, ইমনের নেতৃত্বে দলীয় টেন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি প্রধান ফটকে গিয়ে সভাপতি সম্পাদক গ্রুপের তিনজন কর্মীকে মারধর করে।

এর পর থেকে বিভিন্ন গ্রুপে মহড়া দিতে দেখা যায়। পরে বেলা দেড় টার দিকে সভাপতি-সম্পাদকের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন কর্মী এবং স্থানীয় বাহিরাগত ২ জন চরমপন্থী ক্যাডার নিয়ে থানা গেট থেকে মিছিল দিয়ে প্রধান ফটকে আসে। এসময় বিদ্রোহী কর্মীরা দলীয় টেন্ট থেকে মিছিল নিয়ে প্রধান ফটকে যায়। পরে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় উভয় গ্রপের হাতে বাঁশ, লাঠি-সোটা এবং রড ছিলো বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষের সময় তিনটি ককটেল বিষ্ফোরন করেছে কর্মীরা। এতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ প্রায় ২০ জন কর্মী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুইজনকে কুষ্টিয়া মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং রাকিবকে গ্রেফতারের দাবিতে দুপুর দেড়টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে ইবি ছাত্রলীগ কর্মীরা। বেলা আড়াইটায় মহাসড়ক অবোরধ তুলে নিলেও ক্যাম্পাসের ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখে তারা। এতে ক্যাম্পাসের দুইটার শিফটের গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে।

এদিকে বহিরাগত নিয়ে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত করায় তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী পক্ষের কর্মী হানিফ হুসাইন (আইন) বাদি হয়ে সাধারণ সম্পাদক রাকিবকে এক নম্বর এবং সভাপতি পলাশকে দুই নম্বর আসামী করে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

ইবি ছাত্রলগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচী ঘোষণার জন্য ক্যাম্পাসে যাই। কিন্তু ক্যাম্পাসে পৌছানোর আগেই আমাদের কর্মীদের উপর হামলা করা হয়। প্রতিবাদে মিছিল বের করলে আমার উপরও হামলা করা হয়। সাধারণ সম্পাদকও গুরুতর আহত হয়েছে।’

দ্বায়িত্বরত প্রক্টর ড. আনিছুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রলীগের এমন সংর্ষের গোয়েন্দা তথ্য ছিলো। সকাল থেকেই পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। র‌্যাবও টহল দেয়। বর্তমানে ক্যাম্পাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গির আরিপ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে আমরা সার্বক্ষণিক সময় মাঠে ছিলাম। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ‘প্রফেসর ড. শেলিনা নাসরিনকে আহবায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কেন, কি জন্য, কিভাবে ঘটনা ঘটলো তার তদন্তপূর্বক আগামী সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই পলাশ-রাকিবে সভাপতি সম্পাদক করে ইবি ছাত্রলীগের কমিটি দেয় কেন্দ্র্র। এক মাস পরেই ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে নেতা হয়ে আসার অডিও ফাঁস হলে এই কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে কর্মীরা। এরপর একাধিকবার ক্যাম্পাসে ঢুকলেও ধাওয়া খেয়ে ক্যাম্পাস ছাড়ে রাকিব।

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।