প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তি হওয়া ইবি ছাত্রলীগ নেতার ছাত্রত্ব বাতিল


Published: 2020-01-15 17:32:51 BdST, Updated: 2020-09-23 02:01:03 BdST

ইবি লাইভঃ প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তি এবং কোর্স পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগের সেই ছাত্রলীগ নেতার ছাত্রত্ব বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তৌকির মাহফুজ মাসুদ ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষবর্ষের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) এ কে আজাদ লাভলু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে ইংরেজি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. সালমা সুলতানা জানান, অকৃতকার্য হওয়ায় অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এখন আর নেই। প্রথমে ভুলক্রমে ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়া সত্ত্বেও কৃতকার্য দেখানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিভাগ তা সংশোধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে প্রেরণ করা হয়।

জানা যায়, ইংরেজি বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের (রোল-১০১০১০৯ রেজিস্ট্রেশন নং-৮৮৯) ছাত্র তৌকির মাহফুজ ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এ বাদেও তিনি ছাত্রলীগের বিদ্রোহী ও পদবঞ্চিত গ্রুপের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত।

তিনি ২০১০ সালে যশোর বোর্ডের অধীনে শিশুকুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৩.৪০ জিপিএ (রোল-৬৪০৫৩৭) পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তি হয়ে তিনি স্নাতক ৪র্থ বর্ষে চূড়ান্ত পরীক্ষা ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দিয়েছেন।

বিভাগীয় এক সূত্রে জানা গেছে, ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হলেও মাসুদ স্নাতক ১ম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়েছেন ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সাথে। এরপর ২০১৭ সলে ওই শিক্ষাবর্ষের (২০১১-১২) চতুর্থ বর্ষের স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষা-২০১৫ অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষার পর ফলাফলে দেখা গেছে, তিনি ৩য় বর্ষে একটি কোর্সে কৃতকার্য হতে ব্যর্থ হয়েছেন। পরবর্তীতে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ৪র্থ বর্ষ মানউন্নয়ন (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষা ২০১৮ সলে অনুষ্ঠিত হয়। তবে তিনি ওই মান উন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি এবং ফলাফল পত্রেও তার নাম খুজে পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যদি কোন শিক্ষার্থী মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেন, তাহলে তাকে আর ২য় বার মান উন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করা হয় না। সে হিসেবে পরে মাসুদ বিশেষ মান উন্নয়নের জন্য আবেদন করলেও একাডেমিক কাউন্সিল তা গৃহীত করেনি।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাইদুজ্জামান জানান, ফলাফলের এ ত্রুটিটি বিভাগীয় পরীক্ষা কমিটি এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের কারো চোখেই ধরা দেয়নি। ভুলক্রমে তার ৩য় বষের্র ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়া সত্ত্বেও কৃতকার্য দেখানো হয়েছে। পরে তা সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে।

সেই সাথে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সূত্রে মাসুদের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১ম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় তার সিজিপিএ ২.২৯। ওই বর্ষে সে ১০৬ নম্বর কোর্সে অকৃতকার্য হন। এরপর ২য় ও ৩য় বর্ষে সিজিপিএ পান যথাক্রমে ২.৫৩ ও ২.২৮। যা তিনবর্ষ মিলিয়ে ২.৩৭ হয়।

৩য় বর্ষে উত্তীর্ণ হতে গেলে একজন শিক্ষার্থীর সিজিপিএ ২.৫০ প্রয়োজন। এর থেকে কম পেলে তাকে অকৃতকার্য বলে বিবেচিত করা হয়। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ৩য় বর্ষেই তার ছাত্রত্ব বাতিল বলে গণ্য হবে। সে হিসেবে মাসুদের ছাত্রত্ব বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় সভাপতি।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. হারুন উর রশিদ আসকারী জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম কখনোই মেনে নেওয়া হবেনা। যখনই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে তখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।