‘হলের সিঁড়িতে দেখি ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরে আছে ছাত্রলীগ সভাপতি’


Published: 2019-10-22 12:12:50 BdST, Updated: 2019-11-13 07:39:19 BdST

মাগুরা লাইভ : রাতের বেলা খাওয়া শেষ করে অন্য মেয়েদের সঙ্গে রুমে ফেরার সময় দেখি, হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে ছাত্রলীগ নেতা রাব্বি এক ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে। তিনি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। পাশে পাহারায় রয়েছেন আরো ৪ সাঙ্গপাঙ্গ নেতাকর্মী। হলে সুন্দরীদের মধ্যে অন্যতম ওই ছাত্রী নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেও পারছে না। অগত্যা চোখের পানি ফেলছে। এঅবস্থায় আমরা কয়েকজন মেয়ে গিয়ে ওই ছাত্রীকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। এসময় ওই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলে পড়ে। এভাবেই মাগুরা সরকারি হোসেন সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্রী হলের চিত্র বর্ণনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। ওই হলের সুন্দরী মেয়েদের টার্গেট করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নাজেহাল করেন। দলবল নিয়ে হলে ঢুকে ছাত্রীদের খাবার রান্না করে দিতে বাধ্য করেন নেতাকর্মীরা। এযেন এক অরাজক পরিস্থিতি। কলেজ ও হল প্রশাসন বিষয়টি জেনেও নিরব থাকে।

এদিকে এসব ঘটনা এতদিন নীরবে সহ্য করলেও অবশেষে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন ছাত্রীরা। প্রথমে কলেজ অধ্যক্ষ ও পরে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তারা। এবার অবশ্য নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সর্বশেষ রোববার রাতে বিনা অনুমতিতে ছাত্রী হলে ঢুকে অশালীন আচরণ, ধাক্কাধাক্কি, রান্না করতে বাধ্য করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হলের দায়িত্বরত মেট্রনকে সাময়িক বহিষ্কারসহ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কলেজের আবাসিক ছাত্রীরা জানান, অনেকদিন ধরেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হলে ঢুকে তাদের নিপীড়ন করছে। কলেজ প্রশাসনকে একাধিকবার বিষয়টি জানালেও তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

কলেজের অধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষের কাছে সোমবার সকালে কয়েক ছাত্রী রোববারের ঘটনায় অভিযোগ জানান। ছাত্রীদের অভিযোগ, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফাহিম ফয়সাল রাব্বিসহ বেশ কয়েকজন দীর্ঘদিন নির্বিঘ্নে মেয়েদের হোস্টেলে যাতায়াত করছেন। তাদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন অনেক ছাত্রী।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে খাওয়া শেষ করে অন্য মেয়েদের সঙ্গে রুমে ফেরার সময় দেখি, হোস্টেলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে ছাত্রলীগ নেতা রাব্বি একটি মেয়েকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে। মেয়েটি নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে ও কাঁদছে। একটু দূরে তিন-চারজন ছেলে দাঁড়িয়ে। এ সময় আমরা মেয়েটিকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে ছেলেরা আমাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

সিঁড়ির রেলিংয়ে পড়ে এক মেয়ের হাত কেটে ও জামা ছিঁড়ে যায়। আহত ছাত্রী জানান, বিষয়টি হলের মেট্রন (তদারকির দায়িত্ব থাকা) নাসরিন আক্তারকে জানানো হলেও তিনি চুপ থাকার নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণ পর হলে পুলিশ এলেও নাসরিন ম্যাডামের ভয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

বিষয়টি নিয়ে হল মেট্রন নাসরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছনার বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, সেদিন কলেজ ছাত্রলীগের পরিচয়ে বেশ কয়েকজন পোলাওর চাল ও মুরগি নিয়ে হোস্টেলে আসে। তারা রাঁধুনি রাজিয়াকে ১৫ জনের খাবার রান্না করে দিতে বলে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ১০-১৫ জনসহ ছাত্রলীগ সভাপতি রাব্বি এসে খাবার নিয়ে চলে যায়।

কলেজের অধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ বলেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণে হলের মেট্রন নাসরিন আক্তার, নৈশপ্রহরী আবদুস সালাম ও রাঁধুনি রাজিয়াকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফাহিম ফয়সাল রাব্বির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আলি হোসেন মুক্তা বলেন, ছাত্রীদের এ অভিযোগ সত্য নয়। অন্যদিকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদি হাসান রুবেল।

ঢাকা, ২২ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।