ইবি: আটটি দেশের অংশগ্রহণে শুরু হলো এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সম্মেলন


Published: 2019-09-14 20:01:54 BdST, Updated: 2019-10-14 07:31:16 BdST

ইবি লাইভ: দেশে প্রথমবারের মতো সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় আন্তর্জাতিক জোট (আইসিএসডিএপি) এর সপ্তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি)। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ও আইসিএসডি, অস্ট্রেলিয়া’র যৌথ আয়োজনে শনিবার ও রবিবার দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলন ইবির কয়েকটি ভেন্যুতে একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এশিয়া, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের মোট ৮ দেশের প্রায় অর্ধশত বিদেশী সামাজিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞসহ মোট ২৬৭ জন সম্মেলনে অংশগ্রহন করে।

ইবির ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশীদ আসকারী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, রয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার উপ-উপাচার্য অধ্যাপক প্রফুল্ল সি সরকার, ইবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা, আইসিএসডি’র সভাপতি ও অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টুয়ার্ট ইউনিভার্সিটির সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক মনোহর পাওয়ার।

সম্মেলনের সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন আইসিএসডিএপি’র সভাপতি অধ্যাপক ড. অশোক কুমার সরকার এবং ইবির অধ্যাপক ড.মামুনুর রহমান।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান সামাজিক অসন্তোষের কারণে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি শ্লথ হবার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ও শান্তির পথ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক দেশেই জাতিগত নিধন এবং গণহত্যার শিকার হয়ে শান্তি ও নিরাপত্তার খোঁজে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূণ্য মানুষ প্রতিবেশী ভিন্ন দেশে আশ্রয় নিচ্ছে। আবার উন্নয়নশীল দেশের মানুষ উন্নত দেশে প্রবেশ করছে। ঐচ্ছিক ও বলপ্রয়োগের এমন অভিবাসন প্রক্রিয়া বিশ্বের জাতীয়তাবাদমুখী রাজনৈতিক দল ও সরকারসহ সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আদর্শ ও মূল্যবোধগত প্রশ্ন এবং উত্তপ্ত বিতর্কের চ্যলেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে। আবার নিজ দেশের ভেতরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন, সহিংসতার মাধ্যমে শ্রেণি, লিঙ্গ, অঞ্চল এবং ধর্মের মধ্যে সামাজিক অস্থিরতার বীজ রোপিত হচ্ছে।

একই সময়ে দ্বন্দ্ব নিরসন করে শান্তি আনয়নের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চলমান। বিশ্বায়নের যুগে শান্তির পথ হিসেবে দ্বন্দ্ব নিরসনের চেষ্টাকেই গুরুত্বের সাথে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। কেননা এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সামাজিক স্থিতিশীলতা অর্জন করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। সামাজিক অস্থিরতার মাধ্যমে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলা করে শান্তির পথনির্দেশ করা এবং শান্তি ও উন্নয়নের জন্য ভবিষ্যত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করাই আন্তজাতিক এই সম্মেলনের লক্ষ্য।

সম্মেলনের সহযোগী আয়োজক হিসেবে আছে সিঙ্গাপুর ইউনিভার্সিটি অব সোস্যাল সায়েন্স এবং থাইল্যান্ডের থাম্মাসাট বিশ্ববিদ্যালয়। ২ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভেন্যুতে মোট ৬৫ টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন দেশী-বিদেশী স্কলাররা। এর আগে আন্তর্জাতিক এই জোটের ষষ্ঠ দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় সিঙ্গাপুরে।

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।