আবারও ইবির শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্য, ১৮ লাখে চুক্তি


Published: 2019-06-28 16:12:51 BdST, Updated: 2019-08-22 22:26:30 BdST

ইবি লাইভ: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক ফাঁস হচ্ছে নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও ক্লিপ। পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে চলছে দেন দরবার। টাকার পরিমানও কম নয়!

প্রতি বছরেই বাড়ছে বাজার দর। আর ঘুরে ফিরে নিয়োগ বাণিজ্যে জড়াচ্ছেন সেই একই ব্যক্তিরা। নিয়োগ বাণিজ্যে যারা জড়িত রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে আগ থেকেই।

এর মধ্যে নিয়োগ বণিজ্যের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় কয়েকজনের শাস্তি চলমান রয়েছে। তবুও থেমে নেই একই ব্যাক্তিদের দৌড়াত্ম। যারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ‘এবার ১ লাখ টাকায় চুক্তি, অগ্রিম ১০’ শিরোনামে নিয়োগ বানিজ্যের অডিও ফাঁসের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটি নিয়ে ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ছে।

আগামীকাল শনিবার, ২৯ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বহুল আলোচিত ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নিয়োগ বোর্ড। আর এ নিয়োগ বোর্ডকে কেন্দ্র করেই দুই শিক্ষকের সাথে নিয়োগপ্রার্থীর অডিও কথোপকথন ফাঁস হওয়ায় আগামীকাল হতে যাওয়া নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সেই সাথে অভিযুক্ত ঐ দুই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় হতে সাময়িক বরখাস্থ করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া ঐ দুই শিক্ষক হলেন ফিন্যান্স বিভাগের অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর ড. রুহুল আমিন। এবং তার সহযোগী ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর এস এম আব্দুর রহিম। আগামীকাল শনিবার ২৪৫ তম সিন্ডিকেট সভায় অভিযোগটির উচ্চতর তদন্তকল্পে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানা গেছে।

অডিও ক্লিপ সূত্রে, এবার শিক্ষক বানাতে চুক্তি হয়েছে ১৮ লাখ টাকায়। এর মধ্যে নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে দিতে হবে অগ্রিম ১০ লাখ টাকা। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সভা সিন্ডিকেটে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পেলে বাকি আট লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

প্রার্থীর সঙ্গে কথোপকথনে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিয়োগ বাণিজ্যের তথ্যসহ বেশ কিছু অডিও ক্লিপ ক্যাম্পাস লাইভের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এবারও নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িয়েছেন ফিন্যান্স বিভাগের সেই অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর ড. রুহুল আমিন। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর এস এম আব্দুর রহিম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নিয়োগ বোর্ড নিয়ে আগেও বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও এই একই বোর্ড নিয়ে ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে ‘থ্রি ফার্স্ট ক্লাসে ১৫ ফোরে ১২ লাখ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন বিভাগের সভাপতি ছিলেন এই রুহুল আমিন।

বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই তার সঙ্গে নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে এশিয়ান ইউনিভার্সিটির এক বন্ধুর সঙ্গে কথোকথনের ১০ মিনিটের অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়। এর পর বোর্ড স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। সেই অভিযোগে সিন্ডিকেটে লঘুদন্ড দেয়া হয় রুহুল আমিনকে।

এরপর আবারও নতুন একটি পদ বৃদ্ধি করে নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞাপিত বিভাগে নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছিল আগামী শনিবার। বোর্ডের আগেই আরিফ হাসান নামে এক প্রার্থীর সঙ্গে দেনদরবার হয়েছে।

এ সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে। অডিওতে রুহুল আমিন ও আব্দুর রহিমের সঙ্গে আরিফ হাসানের নিয়োগ নিয়ে চুক্তি হয়। এতে কত টাকা দিতে হবে? কি ভাবে দিতে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তারা প্রার্থীর কাছ থেকে দ্রুত টাকা নেয়ার জন্য ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করতে শোনা গেছে। প্রার্থী টাকা জোগাড় করতে ব্যাংক লোন এবং জমি বিক্রির কথা বলেছে। তাদের মধ্যে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণ, বাংলালিংক, এবং রবি নম্বর থেকে কথা হয়েছে।

এর মধ্যে এসএম রহিমের গ্রামীণ ফোনের ০১৭১৫৫৪৪৫৫৫, বাংলালিংক ০১৯৬৬৭৬৪৯৯৫ ও রবি ০১৮৪৬৩৬১৩৭৫ এবং রুহুল আমিনের গ্রামীণফোনের ০১৭১২০৭৭০৪৭ নম্বর দিয়ে নিয়োগ প্রার্থী আরিফ হাসানের ০১৭১৭৫১৩২৪৫ নম্বরে কথা হয়েছে। যার রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।

নিয়োগ বাণিজ্যের অডিওর বিষয়ে ইইই বিভাগের আব্দুর রহিমের সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ নিয়ে ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, অডিও ক্লিপের কথোপকথনে আমার কোন দোষ কিংবা অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। প্রার্থীকে আমি বারবার বলেছি আমি নিয়োগ বোর্ডের কেউ না।

এ বিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ বলেন, ‘কোন কথা নেই, যারা জড়িত তাদের চাকরি থাকবে না। ডকুমেন্ট পেলে যেই জড়িত থাকনা কেন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

অডিও:

 

ঢাকা, ২৮ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।