বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়ায় চ্যাম্পিয়ন যবিপ্রবি


Published: 2019-04-30 16:51:47 BdST, Updated: 2019-07-21 09:23:15 BdST

যবিপ্রবি লইভঃ বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ ৬৩ পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)।

গত ২৭ এপ্রিল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো: আনোয়ার হোসেনসহ কৃতি খেলোয়াড়দের হাতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি তুলে দেন। এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা, খেলোয়াড়দের ফুলেল শুভেচ্ছা, মিষ্টিমুখসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশীপ’। এতে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৬৫টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত বৃহৎ পরিসরের এই ক্রীড়া আয়োজনে সর্বোচ্চ পয়েন্ট নিয়ে দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয় হয় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সব ইভেন্ট মিলিয়ে পুরুষ বিভাগে প্রতিযোগিতার সেরা অ্যাথলেট হন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উজ্জ্বল চন্দ্র সূত্রধর।

আনন্দ শোভাযাত্রা পূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করে যবিপ্রবির ভিসি প্রফেসর ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, তোমরা সকলে মিলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা এবং খেলার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করেছে।

বিজয় ছিনিয়ে এনে সমস্ত বাংলাদেশকে অবাক করে দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন আমি তোমাকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছি, তুমি সেখানে যাবে। আমি তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম, আমি আপনার সম্মান রেখে আসবো। গত ২৭ এপ্রিল চ্যাম্পিয়ন ট্রফি গ্রহণের সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললাম, আজকে আপনার সম্মানের প্রথম অর্ঘ্য দিলাম।

সামনে আরও দেব বলে তাঁকে ওয়াদা দিয়েছি। যবিপ্রবি ভিসি আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে আয়োজিত চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ছিনিয়ে আনতে আজ থেকেই সকল খেলার প্রস্তুতি শুরুর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী বছর খেলাধুলা খাতে বাজেট দ্বিগুন করে দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে প্রফেসর ড. মো: আনোয়ার হোসেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, অপশক্তির হাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাও। আমি তোমাদের সবকিছুর ব্যবস্থা করে দেবো। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবার কাছে আমার যাওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু অপশক্তিদের থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে না বাঁচানো গেলে, বিশ্ববিদ্যালয় মুখ থুবড়ে পড়বে।

যখন আমরা সকলে একটু আগাবো অমনি অপশক্তির দল থাবা দিয়ে আবার পিছিয়ে দেবে। এ জায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রক্ষা করতে হবে। এখানে ছেলেরা পড়বে, খেলবে, গান গাইবে, কবিতা আবৃত্তি করবে, হুইহুল্লোড় করে বিশ্ববিদ্যালয়কে মাতিয়ে রাখবে। আমি সাহসী সন্তানের পিতা হতে চাই। কোনো ভীতু কাপুরুষের পিতা হতে চাই না।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো: আব্দুল মজিদ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো: আনিছুর রহমান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো: ইকবাল কবীর জাহিদ, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো: জাফিরুল ইসলাম, শরীর চর্চা শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ড. মো: নাসিম রেজা, যবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো: আহসান হাবীব, কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে এম আরিফুজ্জামান সোহাগ প্রমুখ।

পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে অদম্য একাত্তর-লাইব্রেরি ভবনের সামনে দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বাদ্যযন্ত্রের সাথে নেচে গেয়ে জয়োল্লাস করে শিক্ষার্থীরা।

পরে বঙ্গবন্ধু একাডেমিক ভবনের সামনে মাননীয় উপাচার্য সবাইকে মিষ্টিমুখ করান। এর আগে যবিপ্রবির ভিসি, শিক্ষক সমিতি, কর্মচারী সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কৃতি খেলোয়াড়দের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।


ঢাকা, ২৯ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।