যবিপ্রবিতে র‌্যাগিংয়ের নামে বিকৃত যৌনাচার, ৯ ছাত্র বহিষ্কার!


Published: 2019-03-12 17:58:32 BdST, Updated: 2019-05-23 13:44:29 BdST

যশোর লাইভ : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি ও বিকৃত যৌনাচারের বাধ্য করায় ৯ ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। র‌্যাগিংয়ে প্রথম বর্ষের ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের কেউ কেউ মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন কয়েকজন।

জানা গেছে, র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে দুইজনকে আজীবন, একজনকে দুই বছর এবং অপর ছয়জনকে এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের অপরাধের বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীবের সই করা এক অফিসে আদেশে তাদের বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এর আগে র‌্যাগিং, যৌন নিপীড়ন এবং বিকৃত যৌনাচারে বাধ্যকরণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি ভুক্তভোগী ১২ জনসহ মোট ৪০ জন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পায়। একই সঙ্গে যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের সঙ্গেও তদন্ত কমিটি কথা বলে। এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীরা তদন্ত কমিটির সঙ্গে অসংলগ্ন, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। একই সঙ্গে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করায় র‌্যাগিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করানো হয়। এ সংক্রান্ত ফোনকলের রেকর্ডও তদন্ত কমিটির হাতে রয়েছে। এছাড়া র‌্যাগিংয়ের শিকার এক শিক্ষার্থী ঘটনার পর থেকে চিকিৎসাধীন। ভুক্তভোগী অন্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং স্বাভাবিক হতে পারছেন না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে র‌্যাগিং রোধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে। এরই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আচরণবিধি অনুযায়ী তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আজীবন বহিষ্কৃতরা হলেন- দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. অলি উল্লাহ ও মাহমুদুল হাসান, দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রজিবুল হক রজব, এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আবদুল কাদের, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল মুজাহিদ আফ্রিদি, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. রোকনুজ্জামান রোকন, অনুপ মালাকার এবং মো. শামীম বিশ্বাস।

এছাড়া ওই ঘটনায় পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকী, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শতদল পাল ও ইমরান হোসেনকে চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালীন র‌্যাগিংসহ শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে না মর্মে সাতদিনের মধ্যে তাদের অভিভাবকসহ ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদেরকেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

ঢাকা, ১২ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।